খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় নিজ ক্রয়কৃত জমির দখল নিতে গিয়ে এক চিকিৎসক-শিক্ষক দম্পতি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ইন্ধনের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ইতোমধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। পাশাপাশি থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন উপজেলার নলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা চিকিৎসক ডা. আখলাক হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দপুরের স্কুল শিক্ষক নিলুফা বেগম।
গত ৯ জুলাই থানায় দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বছর দশেক আগে ওই দম্পতির বাড়িসংলগ্ন জমিতে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আমিনুল ইসলাম অস্থায়ীভাবে টিনের চালা ঘর নির্মাণ করেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল অনেক আগেই। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বারবার বলা সত্ত্বেও ঘরটি সরানো হয়নি। এ অবস্থায় দম্পতি আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালতে অভিযুক্ত আমিনুল একটি মুচলেকা দেন যে, তিনি আর কোনো ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদর্শন করবেন না।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত ৮ জুলাই সকালে আমিনুল ইসলাম আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল রহমান, অভিযুক্ত আমিনুল হকসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীদের রান্নাঘরের বাইরে নির্মিত ইটের বাউন্ডারি ভেঙে দেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
স্কুলশিক্ষক নিলুফা বেগম বলেন, ‘জমিটি আমাদের বৈধভাবে ক্রয়কৃত। অথচ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দুলালের ইন্ধনে আমিনুল ঘরটি সরিয়ে নিচ্ছেন না। আমরা স্বামী-স্ত্রী পেশাগত কারণে এলাকায় নিয়মিত থাকতে পারি না। আর সেই সুযোগে আমাদের ওপর নানা হয়রানি চলছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল রহমান বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব।’
এবিষয়ে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নজমূল হক বলেন,
“ওই জমি সংক্রান্ত মামলা আদালতে চলমান থাকায় সে বিষয়ে পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে জমি ঘিরে কোনো হুমকি, ভাঙচুর বা অনধিকার প্রবেশের মতো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে, পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।”








