এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
উঁচুনিচু পাহাড়বেষ্টিত ড্রাগন বাগানের চারদিকে সবুজের সমারোহ। সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে হাজারো ড্রাগন ফল গাছ। গাছে সবুজ পাতার মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে গোলাপি, লাল আর সবুজ ড্রাগন। ড্রাগন মানেই ভিন্ন আমেজের রঙিন রসালো ফল। পরিপাটি এই বাগানটি গড়ে তুলেছেন তিন বন্ধু নজরুল ইসলাম নাসিদ, সৈয়দ আকরাম হোসেন মিশেল ও সাইদুল ইসলাম ইমন। চাকরির আশায় বসে না থেকে নিজেরাই গড়ে তুলেছেন আমিগো এগ্রো ফার্ম এন্ড নার্সারি। ২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে তারা মিরসরাই উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিন অলিনগর উত্তরপাড়ায় ১০ শতক জমিতে ১ হাজার ড্রাগন চাষ শুরু করেন। বর্তমানে বাগানে সারি সারি ড্রাগন গাছে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে ঝুলছে লাল রঙের ড্রাগন ফল। একাধিক শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন এই বাগানে। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় তারা বৃহত পরিসরে চাষ শুরু করেছেন। রোগবালাই কম হওয়ার পাশাপাশি চাষ পদ্ধতি সহজ হওয়ায় এবং বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় বিদেশি এ ফল চাষে এরই মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আশপাশের অনেকেই।
উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম নাসিদ বলেন, ‘আমিগো এগ্রো ফার্ম এন্ড নার্সারিতে ১০ শতক জায়গায় পরীক্ষামূলক ড্রাগন চাষ শুরু করি। গত বছর ১০ শতক জায়গায় ৯৫ টি পিলার বসিয়ে ১ হাজার চারা লাগাই। বাগান শুরুর এক বছরের মধ্যে আমরা ফলন পেয়েছি। এবার ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রির আশা করছি। এটা লাভবান ফসল। উঁচু জমি থাকলে যে কেউ এই ফলের আবাদ করতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা খুবই সন্তুষ্ট। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। তারা কোন সময় কি পরিচর্যা করা লাগবে সব পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমরা গোবর সার ব্যবহার করেছি তাতে পর্যাপ্ত পরিমানে ফলন পেয়েছি। আমরা কোন প্রকার ওষুধ ব্যবহার ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে ফল উৎপাদন করছি। পরীক্ষামূলক চাষে ফলন ভালো দেখে এবার বৃহত পরিসরে ১৩৬ শতক জমিতে ১০ হাজার ড্রাগন চারা আবাদের কাজ চলছে।’
করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নয়ন কুমার দাশ বলেন, ‘ইতিপূর্বে তিন বন্ধু মিলে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেন। পরে তাদেরকে ড্রাগন বাগান গড়ে তুলতে আমরা উদ্ধুদ্ধ করি। পরে তারা ড্রাগন চাষের জন্য মনস্থির করলে মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের ৫ শতক জমিতে উচ্চমূল্যের ফসল ড্রাগন ফল উৎপাদন প্রদর্শনী প্লট দেয়। আমাদের ৫ শতকের পাশাপাশি তারা আরো ৫ শতক বাড়িয়ে ১০ শতকে ড্রাগন বাগান করেছেন। প্রতি সপ্তাহে আমি সরেজমিনে বাগান পরিদর্শন করে বাগানের পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকি। তারা রেড় বেলবেট ও বোল্টার দুইটি জাতের ড্রাগন আবাদ করেছেন। প্রথম বছর ভালো ফলন হওয়ায় খুশি তারা।’
মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মিরসরাই উপজেলায় এবার ৩ হেক্টর জমিতে ড্রাগন আবাদ হয়েছে। ড্রাগন একটি পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাবার। এটি থেকে বছরে ৩ থেকে ৪ বার ফল পাওয়া যায়। মিরসরাই উপজেলায় ২০২০ সাল থেকে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী শুরু করা হয়। প্রথমে আমরা ৫ শতক করে প্রদর্শনী দিই পাশাপাশি খুঁটি, চারা, সারসহ নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে থাকি।’
তিনি আরো বলেন, ‘মিরসরাইয়ে দিনদিন ড্রাগন আবাদ বাড়ছে। অন্য ফসলের তুলনায় ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেক শিক্ষিত ও বেকার যুবক এগিয়ে আসছেন। মিরসরাইয়ের প্রতিটি কৃষককে হরমোন ব্যবহার ছাড়াই ফল উৎপাদন করতে আমরা উদ্ধুদ্ধ করি এবং কৃষকরা হরমোন ছাড়াই ফল উৎপাদন করছে। হরমোন ছাড়াও একেকটি ড্রাগন সাড়ে ৩ শ গ্রাম থেকে আধা কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।’
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







