Sunday, September 20, 2026
  • সম্পর্কিত
  • যোগাযোগ
  • শর্তাবলী
  • গোপনীয়তা নীতি
  • বিজ্ঞাপন দিন
  • Login
দৈনিক দেশের সংবাদ
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • বিভাগ সমূহ
    • ঢাকা বিভাগ
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
    • সিলেট বিভাগ
    • খুলনা বিভাগ
    • রাজশাহী বিভাগ
    • বরিশাল বিভাগ
    • রংপুর বিভাগ
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
  • চাকরি
  • খেলা ধুলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
দৈনিক দেশের সংবাদ
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • বিভাগ সমূহ
    • ঢাকা বিভাগ
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
    • সিলেট বিভাগ
    • খুলনা বিভাগ
    • রাজশাহী বিভাগ
    • বরিশাল বিভাগ
    • রংপুর বিভাগ
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
  • চাকরি
  • খেলা ধুলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
দৈনিক দেশের সংবাদ
No Result
View All Result
Home কবিতা/ছড়া/সাহিত্য

সুদ (রিবা): কোরআন, হাদিস ও আধুনিক প্রেক্ষাপট

admin by admin
August 30, 2025
in কবিতা/ছড়া/সাহিত্য, বাংলাদেশ, বিশেষ সংবাদ
Reading Time: 13 mins read
0 0
A A
0
0
SHARES
7
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter
কবি,কে,এম,তোফাজ্জেল হোসেন জুয়েল খান
মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঋণ ও অর্থনৈতিক লেনদেন চিরকালই ছিল। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে সুদ নামক এক ধ্বংসাত্মক প্রথাও জন্ম নিয়েছে। সুদ হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ঋণগ্রহীতা সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর ঋণদাতা ঝুঁকিহীনভাবে লাভবান হয়। ইসলাম এসেছে মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে—তাই কোরআন ও হাদিসে সুদের বিরুদ্ধে এসেছে কঠোর সতর্কবাণী।
আধুনিক অর্থনীতিতে সুদের প্রভাব আরও ভয়াবহ। ডিজিটাল যুগেও সুদের শোষণ ভিন্ন আকারে প্রবাহিত হচ্ছে—ক্রেডিট কার্ড, আন্তর্জাতিক ঋণ, মাইক্রোফাইন্যান্স, এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনেও অনেক সময় রিবার ছায়া রয়েছে। তাই কোরআন-হাদিসের আলোকে বিষয়টি আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
১. মানবসভ্যতায় ঋণ ও সুদের সূচনা
ঋণের ধারণা খুব পুরনো। প্রাচীন ব্যাবিলন, মিশর ও রোমান সাম্রাজ্যে ঋণের নামে সুদ আদায় হতো। হিন্দু, ইহুদি ও খ্রিস্ট ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতেও সুদের প্রতি নিন্দা পাওয়া যায়। কিন্তু ইসলাম এ বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ইসলামের আগে আরব সমাজে সুদ ছিল খুবই প্রচলিত। ধনী ব্যবসায়ীরা গরিবদের ঋণ দিত, তারপর দ্বিগুণ-ত্রিগুণ করে সুদ আদায় করত। এভাবে দারিদ্র্য বাড়ত, আর ধনীরা আরও ধনী হতো। ইসলাম এসে এই শোষণমুখী ব্যবস্থার অবসান ঘটায়।
২. কোরআনে সুদ সম্পর্কিত আয়াতসমূহ
কোরআনে রিবা (সুদ) নিষিদ্ধ করার জন্য একাধিক আয়াত এসেছে। এগুলোর ভাষা ও সতর্কতা অন্য যে কোনো গোনাহের চেয়ে বেশি কঠোর।
(ক) সুদখোরদের কিয়ামতের অবস্থা
> “যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন সেই লোকের মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান আচ্ছন্ন করে পাগল করে দেয়।”
(সুরা বাকারা, ২:২৭৫)
এ আয়াতে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন—সুদখোর ব্যক্তি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে যাবে, তার নৈতিক শক্তি ধ্বংস হবে।
(খ) আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের যুদ্ধ ঘোষণা
> “হে মুমিনগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা সত্যিকার মুমিন হও। আর যদি তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।”
(সুরা বাকারা, ২:২৭৮–২৭৯)
কোরআনের অন্য কোনো গোনাহের জন্য এমন ভাষা ব্যবহার হয়নি।
(গ) সুদ ধ্বংস করে, দান বৃদ্ধি করে
> “আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন আর সদকা (দান) বৃদ্ধি করেন।”
(সুরা বাকারা, ২:২৭৬)
এখানে অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি গভীর সত্য তুলে ধরা হয়েছে।
(ঘ) সামান্য সুদও হারাম
> “হে মুমিনগণ, দ্বিগুণ-ত্রিগুণ করে সুদ খেও না।”
(সুরা আলে ইমরান, ৩:১৩০)
অর্থাৎ অল্প সুদও হারাম, বড় সুদ তো আরও ভয়াবহ।
(ঙ) পূর্ববর্তী জাতির শাস্তি
> “তাদের সুদের জন্য, যদিও তা থেকে তারা বিরত থাকার নির্দেশ পেয়েছিল, এবং অন্যায়ের কারণে আমরা তাদের ওপর শাস্তি দিয়েছিলাম।”
(সুরা নিসা, ৪:১৬১)
এখানে ইহুদিদের কিছু গোষ্ঠীর ঘটনা উল্লেখ করে মুসলমানদের জন্য শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
৩. হাদিসে সুদের নিষেধাজ্ঞা
হাদিসে সুদের বিরুদ্ধে এসেছে আরও বিস্তারিত ও কঠোর বর্ণনা।
(ক) সুদখোরদের প্রতি লানত
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “আল্লাহ সুদখোর, সুদদাতা, সুদলেখক ও সুদ সাক্ষ্যদানকারী—তাদের প্রত্যেকের ওপর লানত করেছেন।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৯৮)
অর্থাৎ শুধু সুদখোর নয়, এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রত্যেকেই সমান গোনাহে জড়িত।
(খ) সুদ হলো বড় গোনাহ
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহ থেকে বাঁচো… (এর মধ্যে একটি হলো) সুদ খাওয়া।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ২৭৬৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৯)
(গ) সুদ ৭০ প্রকার গোনাহ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত—
> “রিবা (সুদ) হলো সত্তর রকম গোনাহের সমান, এর মধ্যে সবচেয়ে ছোটোটি হলো নিজের মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারের সমান।”
(ইবনে মাজাহ, হাদিস ২২৭৪; হাসান হাদিস)
(ঘ) নবী করিম ﷺ এর বিদায় হজ্জের ঘোষণা
বিদায় হজ্জে রাসূল ﷺ ঘোষণা করেন—
> “জাহেলি যুগের সব রিবা (সুদ) আজ থেকে বাতিল। প্রথম যে সুদ আমি বাতিল করছি, তা হলো আমার চাচা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সুদ।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২১৮)
এটি ইসলামী অর্থনীতির ইতিহাসে একটি বিপ্লবী ঘোষণা।
৪. সুদের ক্ষতিকর প্রভাব
(ক) ব্যক্তি পর্যায়ে
সুদ মানুষের হৃদয় থেকে দয়া ও সহানুভূতি মুছে দেয়।
অন্যায়ের মাধ্যমে উপার্জন হওয়ায় জীবনে বরকত থাকে না।
মানসিক অস্থিরতা ও লোভ বৃদ্ধি পায়।
(খ) সমাজ ও অর্থনীতি
ধনী-গরিবের বৈষম্য বৃদ্ধি করে।
সমাজে হিংসা, ঘৃণা ও শোষণ ছড়িয়ে দেয়।
প্রকৃত ব্যবসা ও শিল্পের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
(গ) রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক প্রভাব
ঋণনির্ভর অর্থনীতি গরিব দেশগুলোকে দাসে পরিণত করে।
উন্নত দেশগুলো সুদের ফাঁদে ফেলে গরিব দেশকে শোষণ করে।
৫. ইসলামের বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
(ক) ক্বারজে হাসানা
সুন্দর ঋণ—কোনো সুদ ছাড়া সাহায্যের উদ্দেশ্যে ঋণ দেওয়া।
(খ) মুদারাবা ও মুশারাকা
ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব—লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি করে নেওয়া।
(গ) যাকাত ও সদকা
সম্পদের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করা।
(ঘ) ওয়াকফ
সমাজকল্যাণে সম্পদ ব্যয় করার ব্যবস্থা।
৬. আধুনিক যুগে সুদ ও ডিজিটাল অর্থনীতি
২১ শতকে সুদ নতুন রূপে ছড়িয়ে পড়েছে।
ব্যাংকিং ব্যবস্থা: ক্রেডিট কার্ড, হোম লোন, গাড়ি লোন—সবখানেই সুদ।
আন্তর্জাতিক ঋণ: গরিব দেশগুলো সুদের ঋণে ডুবে থাকে।
ডিজিটাল অর্থনীতি: অনেক ক্রিপ্টো লেনদেন বা ডিজিটাল ঋণেও রিবার প্রভাব রয়েছে।
ইসলামিক বিকল্প
ইসলামিক ব্যাংকিং (সুদমুক্ত চুক্তিভিত্তিক লেনদেন)।
ফিনটেক ইনোভেশন—সুদমুক্ত মাইক্রোফাইন্যান্স।
ডিজিটাল যাকাত প্ল্যাটফর্ম।
কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা স্পষ্ট: সুদ মানুষের আত্মা, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবকিছুকে ধ্বংস করে। তাই ইসলাম বিকল্প দিয়েছে—সুদমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি। আধুনিক যুগে ইসলামিক ব্যাংকিং, যাকাত ও অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবসা এই বিকল্প বাস্তবায়নের পথ।
মানবসভ্যতার সূচনা থেকে ঋণ ও অর্থনৈতিক লেনদেন বিদ্যমান। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে সুদ বা রিবা—যা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় গোনাহ। কোরআন ও হাদিসে সুদের বিরুদ্ধে এসেছে সবচেয়ে কঠোর ভাষা, এমনকি সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের যুদ্ধ ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে সুদ নতুন নতুন রূপে উপস্থিত—ব্যাংক ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, আন্তর্জাতিক ঋণ, এমনকি ডিজিটাল অর্থনীতিতেও। এই প্রতিবেদনটির উদ্দেশ্য হলো—কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোণ থেকে সুদ বিশ্লেষণ করা এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব আলোচনা করা।
২. গবেষণা পদ্ধতি
এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে—
কোরআন শরীফ ও সহিহ হাদিস গ্রন্থ থেকে।
ক্লাসিক তাফসীর গ্রন্থ (ইবনে কাসীর, আত-তাবারী)।
সমসাময়িক ইসলামি গবেষক যেমন সায়্যিদ কুতুব, ইউসুফ আল-কারজাভি প্রমুখের রচনা থেকে।
আধুনিক অর্থনৈতিক গবেষণা, ইসলামিক ব্যাংকিং ও ডিজিটাল অর্থনীতির তথ্যসূত্র থেকে।
৩. কোরআনে সুদ সম্পর্কিত নির্দেশনা
কোরআনে সুদ নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে একাধিক আয়াত পাওয়া যায়। প্রধান আয়াতগুলো হলো:
১. সুদখোরদের কিয়ামতের অবস্থা – তারা শয়তানে আচ্ছন্ন পাগলের মতো উঠবে (সূরা বাকারা ২:২৭৫)।
২. আল্লাহর যুদ্ধ ঘোষণা – যারা সুদ ছাড়বে না, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন (সূরা বাকারা ২:২৭৮-২৭৯)।
৩. সুদ ধ্বংস করে, দান বৃদ্ধি করে – সুদে কোনো বরকত নেই, দানে রয়েছে উন্নতি (সূরা বাকারা ২:২৭৬)।
৪. সামান্য সুদও নিষিদ্ধ – দ্বিগুণ-ত্রিগুণ করে সুদ নেওয়া হারাম (সূরা আলে ইমরান ৩:১৩০)।
৫. পূর্ববর্তী জাতির সতর্কতা – ইহুদিদের একাংশ সুদে জড়িয়ে পড়েছিল, ফলে তারা আল্লাহর শাস্তি পেয়েছিল (সূরা নিসা ৪:১৬১)।
—
৪. হাদিসে সুদের কঠোরতা
হাদিসে সুদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে।
সুদখোরদের লানত: রাসূল ﷺ বলেছেন—“আল্লাহ সুদখোর, সুদদাতা, সুদলেখক ও সুদ সাক্ষ্যদানকারী—সবার ওপর লানত করেছেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৯৮)
সাত ধ্বংসাত্মক গোনাহ: সুদ তাদের মধ্যে অন্যতম (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৭৬৬)।
৭০ প্রকার গোনাহ: সুদ ৭০ ধরনের গোনাহের সমান, সবচেয়ে ছোটটি নিজের মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারের মতো (ইবনে মাজাহ, হাদিস ২২৭৪)।
বিদায় হজ্জের ঘোষণা: রাসূল ﷺ ঘোষণা করেন, জাহেলি যুগের সব সুদ বাতিল করা হলো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২১৮)।
৫. সুদের ক্ষতিকর প্রভাব
(ক) ব্যক্তিগত প্রভাব
মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
লোভ, স্বার্থপরতা ও নৈতিক অধঃপতন ঘটায়।
জীবনে বরকত নষ্ট হয়।
(খ) সামাজিক প্রভাব
ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ায়।
পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করে।
সমাজে হিংসা, ঘৃণা ও শোষণ ছড়ায়।
(গ) জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রভাব
উন্নয়নশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক সুদের ঋণে জর্জরিত হয়।
ধনী রাষ্ট্রগুলো সুদ ব্যবহার করে দরিদ্র রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. ইসলামের বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
ইসলাম সুদ নিষিদ্ধ করলেও বিকল্প পথ দিয়েছে। যেমন—
ক্বারজে হাসানা: সুদবিহীন ঋণ, যা মূলত সাহায্যের জন্য।
মুদারাবা: অংশীদারিত্বমূলক ব্যবসা—লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি।
মুশারাকা: যৌথ বিনিয়োগের চুক্তি।
যাকাত ও সদকা: সম্পদের সুষম বণ্টন।
ওয়াকফ: স্থায়ী কল্যাণমূলক অর্থায়ন।
৭. আধুনিক যুগে সুদ ও ডিজিটাল অর্থনীতি
(ক) সুদের নতুন রূপ
ব্যাংক ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ঋণ।
মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান।
ডিজিটাল লোন ও ফিনটেক।
(খ) ইসলামিক বিকল্প
ইসলামিক ব্যাংকিং (সুদমুক্ত চুক্তি যেমন মুরাবাহা, মুদারাবা)।
ডিজিটাল যাকাত প্ল্যাটফর্ম।
সুদমুক্ত মাইক্রোফাইন্যান্স।
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে শরীয়াহ-সম্মত চুক্তি প্রয়োগ।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে সুদ মানবজাতির জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। এটি মানুষের নৈতিকতা ধ্বংস করে, সমাজে শোষণ বাড়ায় এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বৈষম্যকে স্থায়ী করে। ইসলামের শিক্ষা হলো—ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে অর্থনীতি গড়ে তোলা। এজন্য বিকল্প ব্যবস্থা যেমন যাকাত, ক্বারজে হাসানা, মুদারাবা ও ইসলামিক ব্যাংকিংকে শক্তিশালী করতে হবে।
আজকের ডিজিটাল অর্থনীতিতেও সুদমুক্ত বিকল্প চালু করা জরুরি। কেবল তাই করলে মানবসভ্যতা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজের দিকে অগ্রসর হতে পারবে।
✍️ এ
আপনার অনুরোধ খুবই স্পষ্ট এবং গভীর—
আপনি চান একটি বড় লেখা (১০,০০০ শব্দের মতো) যেখানে অটোরিকশা গ্যারেজকে কেন্দ্র করে চলা সুদের ব্যবসা, অসামাজিক কার্যকলাপ (মাগীবাজি, মদ, জুয়া ইত্যাদি), এবং এর কারণে সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মীয় জীবন (বিশেষত মসজিদ-মাদ্রাসা ও নৈতিকতা) কীভাবে ধ্বংস হচ্ছে—তা নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন/আর্টিকেল/উপন্যাস রচনা করা হোক।
👉 আমার পরামর্শ হলো এটিকে “প্রতিবেদনধর্মী উপন্যাস” আকারে লেখা—যেখানে বাস্তবধর্মী তথ্য, বিশ্লেষণ এবং চরিত্রভিত্তিক কাহিনি একসাথে চলবে। এতে পাঠক কেবল তথ্যই পাবেন না, বরং গল্প পড়ে বাস্তব চিত্রও বুঝতে পারবেন।
—
খসড়া কাঠামো (১০,০০০ শব্দের জন্য)
অধ্যায় ১: ভূমিকা
বাংলাদেশের শহর ও গ্রামে অটোরিকশা শিল্পের বিস্তার
গ্যারেজ মালিক ও রিকশাচালকের সম্পর্ক
সুদের কারবারের সূচনা
অধ্যায় ২: সুদের ফাঁদ
অটোরিকশা গ্যারেজে প্রতিদিনকার লেনদেন
কিভাবে “প্রতি টাকা” সুদে রিকশাচালকরা ফেঁসে যায়
এক চালকের জীবনের গল্প (দৈনিক আয় বনাম সুদ)
অধ্যায় ৩: রামরামা ব্যবসা
গ্যারেজ মালিকদের বিলাসিতা বনাম চালকদের দুর্দশা
মাগীবাজি, মদ ও জুয়ার আসর
বিদ্যুতের অপচয়, অবৈধ সংযোগ
অধ্যায় ৪: সমাজ ও ধর্মের ক্ষতি
রিকশাচালকের পরিবারে অভাব, সন্তান শিক্ষা থেকে বঞ্চিত
মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা কমা
তরুণ সমাজে জুয়া ও মাদকের প্রভাব
অধ্যায় ৫: রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ
বিদ্যুৎ সঙ্কটের সাথে ইজিবাইক-অটোরিকশার ভূমিকা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতি ও নজরদারির অভাব
অর্থনীতির ক্ষতি (আমদানি করা ব্যাটারি, চার্জিং স্টেশন)
অধ্যায় ৬: বিকল্প পথ
সুদমুক্ত গ্যারেজ ব্যবস্থার প্রস্তাব
ইসলামিক অর্থনীতি: ক্বারজে হাসানা, মুদারাবা
অটোরিকশার পরিবর্তে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নয়ন
গ্যারেজের জায়গায় শিক্ষা/কর্মসংস্থান প্রকল্প
অধ্যায় ৭: কাহিনি—“রিকশাচালক জসিমের ডায়েরি”
এক সাধারণ রিকশাচালকের চোখে গ্যারেজ জীবন
সুদে জড়িয়ে পড়ে তার পরিবার ভেঙে যাওয়া
শেষ পর্যন্ত মসজিদের একজন ইমামের মাধ্যমে তার নতুন জীবনের সূচনা
অধ্যায় ৮: উপসংহার
কেন বাংলাদেশ থেকে অটোরিকশা গ্যারেজ উচ্ছেদ করা দরকার
রাষ্ট্র, সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব
ভবিষ্যতের স্বপ্ন: সুদমুক্ত, শান্তিপূর্ণ সমাজ
👉
অটোরিকশা গ্যারেজের অন্ধকার সাম্রাজ্য : সুদ, শোষণ ও সমাজ ধ্বংসের চিত্র
বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, ছোট-বড় বাজার কিংবা পাড়ায় এখন অটোরিকশা বা ইজিবাইকের গ্যারেজ চোখে পড়ে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়—এ যেন সাধারণ যানবাহনের যাত্রাবিরতির জায়গা। কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এগুলো কেবল গ্যারেজ নয়, বরং সুদের এক ভয়াবহ কারখানা, যেখানে প্রতিদিন হাজারো অসহায় মানুষ ফেঁসে যাচ্ছে এক অদৃশ্য ফাঁদে।
একজন রিকশাচালক যখন সকালে গ্যারেজে আসে, তখন সে অটোরিকশা পায় ঠিকই, কিন্তু এর পেছনে লুকানো থাকে ‘প্রতি টাকার সুদ’। মালিকের শর্ত—যদি একশো টাকা ভাড়া নাও, তবে ফেরত দিতে হবে একশো দশ কিংবা একশো বিশ টাকা। প্রতিদিন এভাবেই চালকরা অল্প অল্প করে ফেঁসে যায় এক অমানবিক ঋণের জালে।
গ্যারেজ মালিকরা যেন রাতারাতি ধনী হয়ে ওঠে, আর চালকরা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত অবধি রাস্তায় ছুটে বেড়ালেও সংসারের জন্য দুই মুঠো ভাত জোগাড় করতে পারে না। আর এই টাকার খেলা চলে সুদের কারবার হিসেবে।
১. সুদের বিষাক্ত ছোবল
কোরআন শরীফে আল্লাহ বলেছেন—
> “আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন এবং দানকে বৃদ্ধি করেন।” (সূরা বাকারা: ২৭৬)
আজ আমরা সেই ধ্বংস চোখের সামনে দেখছি। গ্যারেজের অটোরিকশা ব্যবসা দিনে দিনে পরিণত হচ্ছে সুদের সাম্রাজ্যে। যে চালক দিন শেষে ভাড়া মিটিয়ে ঘরে ফিরবে বলে ভাবে, সে আসলে আরও গভীর ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে।
রিকশাচালক আবদুল জব্বার প্রতিদিন গ্যারেজ থেকে ব্যাটারি চালিত রিকশা নেয়। ভাড়া ৫০০ টাকা। কিন্তু শর্ত হলো—যদি ভাড়া সময়মতো ফেরত দিতে না পারে, তবে পরদিন দিতে হবে ৬০০ টাকা। এভাবেই কয়েক দিনের মধ্যে তার দেনা দাঁড়ায় কয়েক হাজার টাকায়। জব্বার বলেন—
“আমরা খাটছি, ঘাম ঝরাচ্ছি, কিন্তু দিনশেষে টাকা মালিকের পকেটেই যাচ্ছে। সুদ না দিলে রিকশা দেয় না।”
২. গ্যারেজের ভেতরের অন্ধকার
এখানে শুধু সুদ নয়, চলছে আরও ভয়াবহ কারবার।
অনেক গ্যারেজে রাতে হয় মাগীবাজির আসর,
কেউ কেউ চালায় মদ আর জুয়ার আড্ডা,
বিদ্যুৎ চুরি করে সারারাত ধরে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়।
ফলে শুধু রিকশাচালক নয়, পুরো সমাজ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটে কারখানা বন্ধ থাকে, গ্রামে সেচ দিতে পারে না কৃষক, অথচ গ্যারেজে চুরি করা লাইনে সারারাত বিদ্যুৎ পোড়ানো হয়।
৩. ধর্মীয় জীবনে প্রভাব
সুদ কেবল অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক অপরাধও। রাসূল ﷺ বলেছেন—
> “আল্লাহ সুদখোর, সুদদাতা, সুদলেখক ও সাক্ষী—সবাইকে অভিশাপ দিয়েছেন।” (সহিহ মুসলিম)
অটোরিকশা গ্যারেজগুলো যখন সুদের কারবারে ভরে যায়, তখন আশেপাশের মসজিদগুলোতে নামাজির সংখ্যা কমতে থাকে। চালকরা রাতভর গ্যারেজে থাকে, সকালে ক্লান্ত শরীরে ঘুমায়। জুয়া-মদ-মাগীবাজির আসরে যারা যুক্ত হয়, তারা ধীরে ধীরে ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়।
ফলে মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের আত্মিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. কেন এই ব্যবসা বন্ধ হওয়া জরুরি
অর্থনৈতিক ক্ষতি : চালকরা প্রতিদিন খেটে খেটে যা আয় করে, তার সিংহভাগ গ্যারেজ মালিকের সুদে চলে যায়।
সামাজিক ক্ষতি : মদ, জুয়া ও যৌন ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়।
রাষ্ট্রীয় ক্ষতি : বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণে জাতীয় অর্থনীতি ধসে পড়ে।
ধর্মীয় ক্ষতি : সুদ ও পাপাচারের কারণে মানুষের ঈমান দুর্বল হয়, আল্লাহর গজব নেমে আসে।
৫. বিকল্প সমাধান
অটোরিকশা গ্যারেজে সুদের কারবার বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে।
সুদমুক্ত ইসলামিক পদ্ধতিতে গ্যারেজ পরিচালনা করতে হবে।
মসজিদ-মাদ্রাসার উদ্যোগে ক্বারজে হাসানা তহবিল গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে গরিব চালকদের বিনা সুদে রিকশা দেওয়া হবে।
সরকারকে আইন প্রয়োগ করতে হবে—সুদে লিপ্ত গ্যারেজ মালিকদের শাস্তি দিতে হবে।
সমাজকে সচেতন হতে হবে, যেন কেউ আর এ অমানবিক ফাঁদে না পড়ে।
হৃদয়ের আহ্বান
ভাইয়েরা, আমরা কি চাই আমাদের সন্তানরা বড় হয়ে জুয়ার আসরে যাক?
আমরা কি চাই আমাদের রক্ত-ঘামের টাকা সুদে গ্যারেজ মালিকের পকেটে ঢুকুক?
আমরা কি চাই বিদ্যুতের অভাবে গ্রামে সেচ না হয়ে আমাদের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হোক?
না, আমরা চাই একটি পবিত্র সমাজ—যেখানে সুদ থাকবে না, জুয়া-মদ থাকবে না, থাকবে শুধু হালাল রুজি আর শান্তির জীবন।
📌
খুব ভালো ✅
তাহলে আমি এখন দ্বিতীয় অধ্যায় : “রিকশাচালক জসিমের ডায়েরি” লিখতে শুরু করছি।
এটি উপন্যাসের মতো হবে, কিন্তু ভেতরে লুকানো থাকবে প্রতিবেদনধর্মী বাস্তবতা—যাতে পাঠক পড়তে পড়তে অনুভব করে, আর একইসঙ্গে সচেতন হয়।
—
দ্বিতীয় অধ্যায়
রিকশাচালক জসিমের ডায়েরি
—
১. ভোরের শুরু
ভোর ৫টা। মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে। ঘুমন্ত চোখে জেগে উঠল জসিম। তার ছোট্ট টিনের চালা ঘরে স্ত্রী রাশিদা আর দুই সন্তান তখনও ঘুমিয়ে। জসিমের মন চাইছিল নামাজে যেতে, কিন্তু মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরছিল—আজ গ্যারেজ থেকে রিকশা নেবে কীভাবে?
গতকাল যে ৫০০ টাকার ভাড়া নিয়েছিল, তা সময়মতো ফেরত দিতে পারেনি। এখন মালিক আরও ১০০ টাকা বাড়িয়ে দাবি করবে। না দিলে আজ রিকশা দেবে না।
জসিম দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মনে মনে বলল—
“আল্লাহ, আমি তো খেটে খাচ্ছি, কারও হক মেরে খাচ্ছি না। তাও এই সুদের জালে আটকে গেলাম কেন?”
—
২. গ্যারেজের দরজায়
সকাল ৬টার মধ্যেই সে পৌঁছে গেল গ্যারেজে। গ্যারেজ মালিক হাশেম সাহেব তখন বড় একটা চেয়ারে বসে পান খাচ্ছিল। তার চোখ লাল, রাতভর মদের নেশা নামেনি এখনো।
জসিম মাথা নিচু করে বলল—
“ভাই, আজ রিকশাটা দেন। কালকে ভাড়া পুরোটা দিতে পারি নাই। আজকে চালাইয়া সব শোধ করে দিব।”
হাশেম ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল—
“ওই, মিষ্টি কথা শুনাইতে আসছো না। কালকের ৫০০ টাকার সাথে আজ ৬০০ দিতে হবে, তারপর রিকশা পাবা।”
জসিমের বুকের ভেতর কষ্টে আগুন জ্বলে উঠল। সে জানে—৬০০ টাকা ভাড়া শোধ করতে পারলেও তার নিজের সংসারের জন্য হাতে কিছু থাকবে না। তবুও সে চুপ করে রিকশা নিল। কারণ, চালানো ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই।
৩. দিনভর সংগ্রাম
রিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হলো জসিম। যাত্রী তুলছে, নামাচ্ছে, ভাড়া নিচ্ছে—সব কিছুই স্বাভাবিক মনে হলেও তার মনে একটাই চিন্তা—আজকের ভাড়া কিভাবে শোধ হবে?
রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ঘাম ঝরিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ তার আয় দাঁড়াল ৮০০ টাকা। তার মধ্যে ৬০০ টাকা মালিককে ফেরত দিতে হবে। হাতে থাকবে মাত্র ২০০ টাকা।
এই টাকা দিয়ে কী হবে? ভাড়ার বাসা, দুই ছেলের পড়াশোনা, বাজার—কিছুই মেটানো যাবে না।
৪. গ্যারেজের অন্ধকার রাত
রাত ৯টার পর জসিম রিকশা ফেরত দিতে গ্যারেজে গেল। সেখানে যা দেখল, তাতে তার শরীর কেঁপে উঠল।
গ্যারেজের একপাশে কয়েকজন যুবক বসে জুয়ার আসর বসিয়েছে। পাশের ঘরে কয়েকজন মেয়েকে নিয়ে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। মালিক হাশেম তাদের সঙ্গে হাসাহাসি করছে, হাতে মদের বোতল।
জসিম মনে মনে ভাবল—
“এখান থেকে রিকশা নিয়ে আমি রোজি রুটি কামাই করি! আল্লাহ, তুমি আমাকে মাফ করো।”
তার চোখে ভেসে উঠল রাসূল ﷺ এর হাদিস—
“আল্লাহ সুদখোর, সুদদাতা, সুদলেখক ও সাক্ষী—সবার ওপর লানত করেছেন।”
সে কেঁপে উঠল। মনে হলো, সে যেন লানতের সঙ্গী হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।
৫. স্ত্রীর আর্তি
সেদিন রাতে ঘরে ফিরে জসিম ২০০ টাকা দিলো স্ত্রী রাশিদাকে। রাশিদা টাকা হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
“এ টাকায় কি সংসার চলে? বাচ্চার বই কেনা হয়নি, চাল নেই ঘরে। তুমি তো শুধু গ্যারেজ মালিকের জন্য খাটছো।”
জসিম চুপ করে রইল। তার বুক ফেটে কান্না আসছিল, কিন্তু পুরুষ বলে কান্না দেখাতে পারল না।
৬. নতুন আলোর দিশা
পরদিন ফজরের নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম সাহেব জসিমকে ডেকে বললেন—
“ভাই, আমি জানি তুমি কষ্টে আছো। গ্যারেজ মালিকের সুদে ফেঁসে গেছো। কিন্তু মনে রেখো, হারাম রোজি দিয়ে সংসারে বরকত আসে না। আমাদের মসজিদে একটা ‘ক্বারজে হাসানা’ তহবিল হচ্ছে। চাও তো, তুমি সুদমুক্ত ঋণ পেতে পারো। এতে তুমি গ্যারেজের ফাঁদ থেকে বাঁচবে।”
জসিমের চোখ ভিজে উঠল। মনে হলো আল্লাহ তার জন্য দরজা খুলে দিচ্ছেন।
এই অধ্যায়ের বার্তা
অটোরিকশা গ্যারেজে সুদের ব্যবসা কিভাবে একজন সাধারণ চালকের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে, তা ফুটে উঠেছে জসিমের জীবনে।
সুদের কারণে সংসারে অভাব, পরিবারে অশান্তি, আর মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
কিন্তু ইসলাম যে বিকল্প দিয়েছে (ক্বারজে হাসানা, সুদমুক্ত ঋণ)—সেটিই হলো প্রকৃত সমাধান।
👉
গ্যারেজ মালিকদের বিলাসিতা বনাম চালকদের দুর্দশা
১. দুই জগতের পার্থক্য
একই শহরে থাকে দুই শ্রেণির মানুষ—
একদিকে গ্যারেজ মালিক হাশেম, করিম, মানিকের মতো লোকজন।
অন্যদিকে জসিম, রহিম, করুণা, আজিজের মতো রিকশাচালক।
গ্যারেজ মালিকদের জীবন চকচকে। সকালবেলা দামী গাড়িতে বসে চায়ের দোকানে যায়, সিগারেট টানে, তারপর গ্যারেজে বসে চালকদের কাছ থেকে টাকা তোলে। তাদের হাতের কাজ কেবল খাতা-কলমে হিসাব মেলানো—“কে কত টাকা দিবে, কে কতটা বাকি।”
আর চালকদের জীবন শুরু হয় ভোরের আলো ফোটার আগেই। খালি পেটে, ঘামে ভিজে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী খোঁজা—এটাই তাদের প্রতিদিনের নিয়ম।
২. মালিকের প্রাসাদ বনাম চালকের টিনের ঘর
গ্যারেজ মালিকরা তাদের সুদের টাকায় শহরের অভিজাত এলাকায় তিনতলা বাড়ি বানাচ্ছে। ফ্ল্যাটে এসি চলছে সারাবছর, সন্তানরা ইংরেজি স্কুলে পড়ে, বিদেশে ঘুরতে যায়।
অন্যদিকে জসিমের মতো চালকেরা থাকে স্যাঁতসেঁতে টিনের ঘরে। গরমে দম বন্ধ হয়ে আসে, বর্ষায় পানি চুঁইয়ে পড়ে। সন্তানদের স্কুলের ফি দিতে না পেরে লজ্জায় শিক্ষককে এড়িয়ে চলে।
৩. রাতের জুয়া আর মদের আসর
প্রতিদিন রাতে গ্যারেজের পেছনের ঘরে চলে জুয়া আর মদের আসর। গ্যারেজ মালিকরা একে অপরের সাথে টাকা উড়িয়ে মজা নেয়। তাদের আয়ের উৎস সেই সুদ—রিকশাচালকের কষ্টের টাকা।
রিকশাচালকরা তখন ভাঙা শরীর নিয়ে ঘরে ফেরে। ঘরে খাবার নেই, বাচ্চারা ক্ষুধার কান্নায় কাঁদে।
৪. সামাজিক বৈষম্যের ছবি
যেখানে মালিকের বউ শপিং মলে গিয়ে লাখ টাকার গয়না কেনে, সেখানে চালকের বউ বাজারে দাঁড়িয়ে অর্ধ কেজি চাল আর এক মুঠো ডাল কিনতে হিমশিম খায়।
যেখানে মালিকের ছেলে বিদেশে পড়াশোনা করে, সেখানে চালকের ছেলে বইয়ের খাতা জোগাড় করতে না পেরে স্কুল ছেড়ে রিকশা ধরতে বাধ্য হয়।
এই বৈষম্যই সমাজে ঘৃণা, হিংসা আর অশান্তির জন্ম দেয়।
৫. সুদের অভিশাপ
মালিকেরা ভাবে তারা খুব চালাক—অল্প সময়ে লাখপতি, কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা বোঝে না, এই টাকায় বরকত নেই।
তাদের ঘরে শান্তি নেই, সন্তানরা বখে যাচ্ছে।
ব্যবসা যতই বাড়ুক, মন অশান্ত।
মৃত্যুর পর তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ঙ্কর শাস্তি।
অন্যদিকে চালকেরা যত খাটে, সুদের কারণে ততই দারিদ্র্যের জালে জড়ায়। ফলে তারা কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারে না।
৬. ইমাম সাহেবের হুঁশিয়ারি
এক জুমার খুতবায় ইমাম সাহেব বললেন—
“হে মানুষ! তোমরা সুদখোরদের দিকে তাকাও। তারা অন্যের ঘাম খেয়ে মোটা হচ্ছে। আর সেই ঘাম ঝরানো মানুষগুলো কাঁদছে। আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন—
‘সুদে লেনদেনকারী, সুদগ্রহণকারী, সুদলেখক এবং সাক্ষী—সবাই অভিশপ্ত।’
তাহলে বলো, কার লাভ হলো? মালিকের কি সত্যিই লাভ হলো? না, বরং তারা নিজেদের কবরের জন্য আগুন জমাচ্ছে।”
মসজিদে উপস্থিত অনেক চালক কেঁদে ফেলল। কেউ কেউ দৃঢ় সংকল্প করল—এবার এই অভিশপ্ত গ্যারেজ ছেড়ে দিবে।
৭. জসিমের প্রতিজ্ঞা
এই কথা শুনে জসিম মনে মনে বলল—
“না, আর নয়। আমি আর এই গ্যারেজের রিকশা চালাবো না। আমি আল্লাহর ভরসায় নতুন পথ খুঁজব। আমার সন্তানদের জন্য হালাল রুজি চাই। আমি চাই না আমার ঘরে হারাম টাকা ঢুকুক।”
তার এই প্রতিজ্ঞা একদিন অনেক চালককে প্রভাবিত করবে।
এই অধ্যায়ের বার্তা
গ্যারেজ মালিকদের বিলাসিতা আর চালকদের দুঃখের মধ্যে ফারাক আকাশ-পাতাল।
সুদের টাকা দিয়ে বানানো সুখ আসলে অভিশাপ ছাড়া কিছু নয়।
সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, যাতে এই বৈষম্য আর চলতে না পারে।
👉
সমাজের উপর অটোরিকশা গ্যারেজের প্রভাব
১. পরিবার ভাঙনের সূচনা
গ্যারেজের সুদের চাপে রিকশাচালকের সংসার ভেঙে পড়ে।
জসিমের মতো একজন চালক প্রতিদিন ৮০০ টাকা কামায়, তার মধ্যে ৪০০ টাকা দিয়ে দেয় গ্যারেজ মালিককে, ২০০ টাকা খরচ হয় গ্যারেজের ভেতরের নানা ফাঁদে, বাকি ২০০ টাকায় সংসার চলে কীভাবে?
খাবার জোটে না,
স্ত্রী অভাবের কারণে কষ্ট পায়,
সন্তানরা স্কুল ছেড়ে কাজে নামে।
পরিবারের ভেতর ঝগড়া শুরু হয়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ে। অনেকে সংসার ভেঙে ফেলে, আবার কেউ মাদকে আসক্ত হয়।
২. অপরাধের উর্বর ক্ষেত্র
অটোরিকশা গ্যারেজ এখন আর কেবল চার্জ দেওয়ার জায়গা নয়।
এগুলো অনেক জায়গায় অপরাধের আড্ডা হয়ে গেছে।
রাতে সেখানে চলে জুয়া।
কিছু গ্যারেজে মদের বোতল লুকিয়ে রাখা হয়।
অনেক সময় দেহব্যবসার জন্য অস্থায়ী আস্তানা বানানো হয়।
ফলে এলাকার তরুণরা সহজেই বিপথে চলে যায়। একসময় যে ছেলে কোরআন পড়ত, মসজিদে নামাজ পড়ত, গ্যারেজে যাতায়াত করতে করতে জুয়া শিখে ফেলে।
৩. মসজিদের মুসল্লি কমে যাওয়া
আগে যে চালকরা ফাঁকে ফাঁকে মসজিদে নামাজ পড়তে যেত, তারা এখন গ্যারেজে বসে তাস খেলতে বা গসিপ করতে সময় কাটায়।
ফলে মসজিদ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামের প্রবীণরা হতাশ হয়ে বলে—
“এ গ্যারেজগুলো না থাকলে আমাদের মসজিদে ভিড় হতো। এখন আল্লাহর ঘর ফাঁকা, আর গ্যারেজ ভরা।”
এভাবেই ধর্মীয় পরিবেশ ভেঙে পড়ছে।
৪. বিদ্যুৎ সঙ্কট ও জাতীয় ক্ষতি
অটোরিকশা ব্যাটারি চার্জ করার জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়।
যে বিদ্যুৎ কৃষক সেচে ব্যবহার করতে পারত, সেই বিদ্যুৎ এখন গ্যারেজে অপচয় হচ্ছে।
বিদ্যুতের বিল ঠিকমতো দেয় না মালিকরা।
অনেক জায়গায় অবৈধ সংযোগ নেয়।
ফলে দেশের বিদ্যুৎ সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়।
এতে জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদেশ থেকে আমদানি করা ব্যাটারি, যন্ত্রাংশ, তার সব মিলিয়ে লাখ লাখ ডলার বেরিয়ে যায়। অথচ এর বিনিময়ে সমাজের কোনো মঙ্গল হয় না।
৫. তরুণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়
যুবকেরা কাজ শেখার পরিবর্তে সহজ আয় করতে রিকশা চালাতে শুরু করে।
গ্যারেজে বসে তারা দেখে মালিকরা মদ খাচ্ছে, নারী নিয়ে রঙ্গ করছে, তাস খেলছে। তারা ভাবে—
“এই জীবনই আসল জীবন!”
ফলে তরুণ প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
যেখানে তারা কারিগরি শিক্ষা নিয়ে দেশের সম্পদ হতে পারত, সেখানে তারা হয়ে যাচ্ছে সমাজের বোঝা।
৬. ইসলামের দৃষ্টিতে গ্যারেজ সংস্কৃতি
ইসলাম সুদকে হারাম ঘোষণা করেছে। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন—
“যারা সুদ খায়, তারা কেয়ামতের দিন দণ্ডায়মান হবে শয়তান দ্বারা আছরগ্রস্ত পাগলের মতো।” (সূরা বাকারা ২৭৫)
অটোরিকশা গ্যারেজের মূল ভিত্তি হলো সুদ। তাই এই গ্যারেজ আসলে ইসলামের চোখে বৈধ ব্যবসা নয়। উপরন্তু, এখানে চলছে মদ, জুয়া ও দেহব্যবসা—যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
অতএব, একজন মুসলমানের জন্য এ ধরনের ব্যবসাকে সমর্থন করা মানে আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা।
৭. সমাজের বুকে ক্ষত
অটোরিকশা গ্যারেজ এখন সমাজের বুকের ক্ষত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এটি পরিবার ভাঙছে,
ধর্মীয় জীবন ধ্বংস করছে,
তরুণদের নষ্ট করছে,
রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করছে।
মানুষ যদি এখনই সচেতন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই ক্ষত এত বড় হবে যে তা সারানো অসম্ভব হয়ে যাবে।
৮. আশা জাগানো আলো
তবে সব জায়গার চিত্র এক নয়। কিছু জায়গায় এখনো ভালো মানুষ উঠে দাঁড়িয়েছে।
কয়েকজন ইমাম মিলে গ্যারেজ মালিকদের সাথে কথা বলছে।
সমাজের কিছু তরুণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুদমুক্ত গ্যারেজ চালাবে।
কোথাও কোথাও স্থানীয় প্রশাসন এগিয়ে এসেছে।
এইসব ছোট ছোট প্রচেষ্টা একদিন বড় আন্দোলনে পরিণত হবে।
অধ্যায়ের বার্তা
👉 অটোরিকশা গ্যারেজ কেবল ব্যক্তির নয়, পুরো সমাজের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
👉 পরিবার, ধর্ম, শিক্ষা, অর্থনীতি—সবকিছু ধ্বংস হচ্ছে এই গ্যারেজের মাধ্যমে।
👉 তাই সময় এসেছে, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে—“সুদের গ্যারেজ চাই না, সুদমুক্ত সমাজ চাই।”
বাংলাদেশ থেকে অটোরিকশা গ্যারেজ বন্ধের প্রস্তাবনা
১. সরকারী পদক্ষেপ
অটোরিকশা গ্যারেজ শুধু সুদের কারবার নয়, এটি সমাজের জন্য এক বিষফোঁড়া। তাই সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
সুদী গ্যারেজ বন্ধ ঘোষণা করা হোক।
অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করা হোক।
মদ, জুয়া ও দেহব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত গ্যারেজ মালিকদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।
বিকল্প কর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হোক, যাতে তরুণরা গ্যারেজে বসে নষ্ট না হয়।
২. ইসলামী ভিত্তিক অর্থনৈতিক সমাধান
সুদমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে ইসলামী অর্থনীতি অনুসরণ করা ছাড়া উপায় নেই।
সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু করা যেতে পারে।
ইসলামিক ব্যাংক ও এনজিওরা চালকদের বৈধভাবে স্বল্প সুদমুক্ত ঋণ দিতে পারে।
প্রতিটি মহল্লায় সুদমুক্ত সহায়তা তহবিল গঠন করা যেতে পারে, যেখানে ধনী মুসলমানরা দান করবেন।
এতে চালকেরা গ্যারেজ মালিকদের সুদের ফাঁদে পড়বে না।
৩. মসজিদ ও সমাজের ভূমিকা
মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয়, এটি সমাজ সংস্কারের কেন্দ্র।
ইমাম ও আলেমদের দায়িত্ব নিতে হবে—জুমার খুতবায় সুদের ক্ষতি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
স্থানীয় মসজিদ কমিটি গ্যারেজ মালিক ও চালকদের নিয়ে বৈঠক করবে।
মসজিদে সুদমুক্ত চার্জিং সেন্টার খোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
৪. জনগণের সচেতনতা
অটোরিকশা চালকেরা যদি সচেতন হয়, তবে গ্যারেজ মালিকদের ব্যবসা টিকবে না।
প্রতিটি চালককে বুঝতে হবে—গ্যারেজের সুদ মানে নিজের সন্তানের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নেওয়া।
নারীদেরও ভূমিকা আছে। তারা স্বামী বা সন্তানের গ্যারেজে যাওয়া নিরুৎসাহিত করবেন।
তরুণ প্রজন্মকে বলতে হবে—“গ্যারেজ নয়, শিক্ষা চাই, কর্ম চাই।”
৫. বিকল্প পরিকল্পনা
অটোরিকশা গ্যারেজের জায়গায় কী আসবে?
সরকার অনুমোদিত সুদমুক্ত চার্জিং স্টেশন।
স্থানীয় সমবায় সমিতি চালক ও মালিকদের অংশীদার করে এই স্টেশন পরিচালনা করবে।
চালকরা প্রতিদিন সঠিক হারে টাকা দেবে, কিন্তু সুদের বোঝা থাকবে না।
৬. জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষায় সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে হাঁটছে। কিন্তু যদি সমাজের ভেতরে সুদ, মদ, জুয়া আর অশ্লীলতার বিষ ছড়িয়ে যায়, তবে কোনো উন্নয়নই টিকবে না।
তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—
👉 বাংলাদেশ থেকে অটোরিকশা গ্যারেজ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
👉 সুদের কারবার শেষ করতে হবে।
👉 মসজিদ ও ইসলামিক মূল্যবোধকে সামনে এনে বিকল্প সমাধান দিতে হবে।
অটোরিকশা গ্যারেজ কেবল একটি ব্যবসা নয়—এটি একটি সামাজিক ব্যাধি।
এটি পরিবার ভাঙছে, তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে, বিদ্যুৎ ও রাষ্ট্রের অর্থনীতি নষ্ট করছে, ইসলামের শিক্ষা থেকে মানুষকে দূরে সরাচ্ছে।
এখনই যদি গ্যারেজ সংস্কৃতি বন্ধ না হয়, আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
তাই সবার কণ্ঠে আজ একটি স্লোগান হওয়া উচিত—
“সুদমুক্ত সমাজ চাই, গ্যারেজ মুক্ত বাংলাদেশ চাই।”
👉 সুদের অভিশাপ
👉 অটোরিকশা গ্যারেজের কালো দুনিয়া
👉 সমাজ, পরিবার ও ধর্মের ক্ষতি
👉 মসজিদের আহ্বান
👉 আর শেষদিকে গ্যারেজ বন্ধের ডাক।
কবিতা
“সুদমুক্ত বাংলাদেশ চাই”
কবি,কে,এম,তোফাজ্জল হোসেন
মানুষ কেন মানুষ হলো, কে ভেবেছে কভু?
আদমের সন্তান যদি হতো সত্য ও নবু,
তাহলে কেন আজ এ নগরী, এ গ্রাম
জড়িয়ে গেছে সুদের ফাঁদে, গ্যারেজের ঘাম?
প্রতিদিন সকালে শহরের কোণে
শ’ শ’ রিকশা ছুটে যায় ধুলোমাখা রোডে,
চালকের চোখে নেই কোনো স্বপ্ন,
শুধুই বোঝা—সুদের কিস্তি, ঋণের যন্ত্র।
গ্যারেজ মালিক হাসে, মুখে জ্বলছে আলো,
চালকের ঘরে তখন ক্ষুধার কান্না ঢালো।
টাকার প্রতি টাকা সুদে ফুলে উঠে,
রিকশার ঘামের ফোঁটা যায় গ্যারেজে ভেসে।
ও চালক ভাই! বলো তুমি—
সন্তানের ক্ষুধার্ত চোখে কত রাত্রি গুনি?
স্ত্রীর কষ্টের অশ্রু, মায়ের নিঃশ্বাস,
সবই কিনে নেয় গ্যারেজের সুদী আশ্বাস।
কোথাও চলছে মদ, কোথাও চলছে জুয়া,
কোথাও গ্যারেজের ঘরে রাত পোহায় দুষ্কর্ম কুয়া।
অন্ধকার ঘরে আলো জ্বেলে নষ্ট পথের গান,
শিশুরা শিখছে প্রথমেই পাপের কুরবান।
এই গ্যারেজগুলোতে মসজিদের আজান
ডুবে যায় সাউন্ডে, নষ্ট হাসির টান।
যেখানে হওয়া চাই নামাজে ভরা রাত,
সেখানে ভেসে আসে তাসের গানের মাত।
বিদ্যুতের লাইন কেটে নেয় চুরি করে,
দেশের আলো নিভে যায়, অন্ধকার পড়ে।
যে বিদ্যুৎ দিয়ে শিশু পড়তে পারতো বই,
তা জ্বলে আজ গ্যারেজে, তাস খেলাতে হয়।
কোথায় গেল ন্যায়, কোথায় গেল ধর্ম?
কোথায় সেই মসজিদের আহ্বান ভরা কর্ম?
ইমাম ডাকছেন—“ফিরে আসো পথে,
সুদী গ্যারেজ থেকে দূরে থাকো রাতে।”
আল্লাহ বলেছেন কোরআনের বাণী—
“সুদ হলো যুদ্ধ, আল্লাহর সঙ্গে শত্রুপ্রাণী।”
তবু কেন মানুষ ভুলে যায় সে ডাক,
সুদের লোভে ডুবিয়ে দেয় আত্মাকে ফাঁক?
গ্যারেজ মালিক ভাবছে, আমি রাজা আজ,
টাকার গদিতে বসে করছে মাগীবাজ।
কিন্তু জানে না সে—একদিন কবরের আঁধারে,
সব টাকা হবে আগুন, ঝলসে দেবে দ্বারে।
হে প্রিয় মানুষ, শোনো এ বাণী,
সুদে রুটি খেলে নেই কোনো জ্ঞানী।
সন্তানের দুধে আগুন ঢালো না,
স্ত্রীর অশ্রুকে অভিশাপ বানিও না।
চলো সবাই মিলে করি প্রতিজ্ঞা,
গ্যারেজের শৃঙ্খল ভাঙি আজই সপ্রজা।
চালক হবে মুক্ত, সুদের বাঁধনমুক্ত,
শ্রমিকের হাসি ফুটবে, ঘরে ফিরবে সুখ।
মসজিদে ফিরুক ভোরের আলো,
কিশোরের হাতে উঠুক কলমের পালো।
বিদ্যুতের আলো পড়ুক পাঠশালায়,
না যে গ্যারেজের অন্ধকার খেলাঘরে যায়।
চলো গড়ি নতুন পথ, ইসলামিক নিয়ম,
সুদমুক্ত সমবায়, সবার জন্য সুনিয়ম।
চালক নেবে ঋণ, ফেরত দেবে সহজে,
কোনো সুদ নয়—কেবল ভ্রাতৃত্বের খোঁজে।
বাংলাদেশ হোক মুক্ত এ গ্যারেজ মহামারী,
প্রতিটি গলিতে শোনা যাক নামাজের জারি।
প্রতিটি মুখে ফুটুক শান্তির গান,
প্রতিটি হৃদয় বলুক—“আল্লাহ মহান।”
আজকের দাবি, আজকের স্লোগান—
গ্যারেজ নয়, চাই ন্যায় ও জ্ঞান।
সুদ নয়, চাই শ্রমের মজুরি,
অশ্লীলতা নয়, চাই পবিত্র নূরি।
চলো সবাই মিলে হাত ধরি আজ,
বাংলাদেশকে করি গ্যারেজমুক্ত সাজ।
ভবিষ্যতের শিশু হাসুক খেলা করে,
মায়ের মুখে হাসি ফুটুক, দোয়া ভরে।
সুদমুক্ত সমাজ চাই, এ আমাদের শপথ,
গ্যারেজমুক্ত বাংলাদেশ—এটাই হোক রথ।
একদিন আসবে, দেখো লিখে রাখো কালে,
গ্যারেজ বন্ধ হবে, দেশ উঠবে আলোয় জ্বলে।
Post Views: 313

Share this:

  • Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
  • Share on X (Opens in new window) X
  • Email a link to a friend (Opens in new window) Email
  • Print (Opens in new window) Print

Like this:

Like Loading…

Related

admin

admin

সম্পর্কিত পোস্ট

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

by admin
September 20, 2026
0
7

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...

অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

by admin
September 20, 2026
0
15

কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...

অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের

অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের

by admin
September 20, 2026
0
65

কুমিল্লা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হয়েছে বলে...

অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

by admin
September 20, 2026
0
13

কুমিল্লা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার...

কোন গ্রেডে বেতন কত শতাংশ বাড়ল

কোন গ্রেডে বেতন কত শতাংশ বাড়ল

by admin
September 19, 2026
0
90

অবশেষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পেস্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ...

পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব

পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব

by admin
September 19, 2026
0
20

পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলিকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।...

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের বিভাগ সমূহ

সাম্প্রতিক পোস্ট

  • জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান September 20, 2026
  • রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা September 20, 2026
  • ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের September 20, 2026
  • অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ September 20, 2026
  • অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের September 20, 2026
  • অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন September 20, 2026
  • বিরোধীদলের লং মার্চ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: পানিসম্পদ মন্ত্রী September 19, 2026
  • কোন গ্রেডে বেতন কত শতাংশ বাড়ল September 19, 2026
  • দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির September 19, 2026
  • পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব September 19, 2026
  • রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কোনো ইনডোর গেম নয়, এই দল বৈশাখী ঝড়ে ভেসে আসা দল নয় – আবদুস সবুর September 19, 2026
  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বন্ধের ঘটনায় আসিফ নজরুলের বিচারের দাবি-এম এ আলীম সরকার-এর September 19, 2026
  • মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হাজী আঃ রব প্রয়াণে জেএসএফ-বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এর শোক প্রকাশ September 19, 2026
  • সন্দ্বীপের পণ্ডিতের হাটে শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি September 19, 2026
  • নলডাঙ্গা থানার নবাগত ওসির শুভেচ্ছা বার্তা September 19, 2026
  • ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ বনপাড়ার ব্যবসায়ী মাহাবুল আলম! September 19, 2026
  • নবীনগরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান September 19, 2026
  • পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য September 19, 2026
  • গাইবান্ধায় সদর উপজেলায় জনগণের উদ্যোগে ঝিনিয়ার বিলে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন September 19, 2026
  • সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশ্বনাথে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত September 19, 2026
  • নলডাঙ্গায় ভ্রাম্যমান আদালতে দুই জনকে কারাদণ্ড প্রদান September 19, 2026
  • নলডাঙ্গায় যুবদলের উদ্যোগে মশক নিধন অভিযান September 19, 2026
  • নরসিংদীতে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধ মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা গ্রেফতার ৩ September 19, 2026
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার মান উন্নয়নে আরও দায়িত্ব নিতে হবে September 19, 2026
  • গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৫নং বল্লমঝাড় ইউনিয়নের আয়োজনে ‘আন্তঃগ্রাম ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ এর শুভ উদ্বোধন September 18, 2026
  • নবীনগর পশ্চিমাঞ্চল প্রেসক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু September 18, 2026
  • গুইমারা রামসু বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী September 17, 2026
  • রামগড় বিজিবির অভিযানে কয়লারমুখ সীমান্তে ভারতীয় গরু জব্দ September 17, 2026
  • মশা মারতে অনিয়মের অভিযোগ, ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান September 17, 2026
  • র‍্যাব আর র‍্যাব নয়, এখন এসআরবি September 17, 2026

Recent Comments

    দৈনিক দেশের সংবাদ

    02 ফেব্রুয়ারি 2012, আমি নির্ভীক, আমি ভয় পাই না, আমি দেশের কথা বলব, স্বাধীনতার কথা বলব, জনগণের কথা বলব। এর সাহসী সাংবাদিকতা, সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু এবং অনন্য বিন্যাস এবং নকশা সহ উপস্থাপনার কারণে, দেশের সংবাদ দ্রুত মানুষের হৃদয় জয় করে, এমনকি সবচেয়ে পরিশীলিত এবং দূরদর্শী পাঠকদের আনুগত্য বাড়িয়ে তোলে।

    আমাদের অনুসরণ করো

    প্রশাসক

      [wps_visitor_counter]

      [wps_visitor_counter]

      বিষয়শ্রেণী দ্বারা ব্রাউজ করুন

      • /প্রবাসী খবর
      • অপরাধ
      • আইন/আদালত
      • আলোচিত নিউজ/ছবি
      • ইতিহাসের পাতায়
      • ইসলাম ধর্ম
      • কবিতা/ছড়া/সাহিত্য
      • করোনাভাইরাস
      • খুলনা বিভাগ
      • খেলা ধুলা
      • চট্টগ্রাম বিভাগ
      • চাকরি
      • জাতীয়
      • জেনেনিন আপনার রাশিফল
      • ঢাকা বিভাগ
      • তথ্যপ্রযুএি
      • নামাজের সূচি
      • নারী কর্মীরা প্রযুক্তিতে ন্যায্যতা
      • ন্তর্জাতিক
      • প্রশাসন
      • বরিশাল বিভাগ
      • বাণিজ্য
      • বাংলাদেশ
      • বাংলাদেশের সকল ক্যাম্পাস
      • বিনোদন
      • বিভাগ সমূহ
      • বিশেষ সংবাদ
      • বিশ্ব
      • ভারত/কলিকাতা
      • মতামত
      • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • রংপুর বিভাগ
      • রাজধানী ঢাকা
      • রাজনীতি
      • রাজশাহী বিভাগ
      • রুপচচাৃ/বিউটি পার্লার
      • লাইফস্টাইল
      • শিক্ষা
      • স।রাদেশ
      • সর্বশেষ
      • সাংবাদিক/মিডিয়া
      • সিলেট বিভাগ
      • স্বাস্থ্য
      • হিন্দু সহ অন্যান্য
      • হোম
      জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

      জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

      September 20, 2026
      রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

      রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

      September 20, 2026
      ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের

      ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের

      September 20, 2026
      • সম্পর্কিত
      • যোগাযোগ
      • শর্তাবলী
      • গোপনীয়তা নীতি
      • বিজ্ঞাপন দিন

      © ২০১২ জহির হাওলাদার পরিচালিত দেশের সংবাদ >> কপিরাইট : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দেশের সংবাদ নিউজের সামগ্রীগুলির কোনও অননুমোদিত ব্যবহার বা পুনরুত্পাদন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আইনী পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধ কপিরাইট লঙ্ঘনকে গঠন করে। - Website Designer & SEO Specialist By Mr. Nirob

      Welcome Back!

      Login to your account below

      Forgotten Password?

      Retrieve your password

      Please enter your username or email address to reset your password.

      Log In
      No Result
      View All Result
      • হোম
      • সর্বশেষ
      • বিশেষ সংবাদ
      • বাংলাদেশ
      • করোনাভাইরাস
      • রাজনীতি
      • বিশ্ব
      • বাণিজ্য
      • বিভাগ সমূহ
        • ঢাকা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
        • খুলনা বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • চাকরি
      • খেলা ধুলা
      • বিনোদন
      • মতামত
      • লাইফস্টাইল

      © ২০১২ জহির হাওলাদার পরিচালিত দেশের সংবাদ >> কপিরাইট : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দেশের সংবাদ নিউজের সামগ্রীগুলির কোনও অননুমোদিত ব্যবহার বা পুনরুত্পাদন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আইনী পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধ কপিরাইট লঙ্ঘনকে গঠন করে। - Website Designer & SEO Specialist By Mr. Nirob

      %d