গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের এই কঠিন সময়ে সরাসরি মিশর থেকে কাজ করছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। দাতব্য প্রতিষ্ঠানটির একটি বিশেষ টিম বর্তমানে কায়রোতে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে নিয়মিতভাবে গাজায় পৌঁছে দিচ্ছে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ত্রাণ কার্যক্রম কেবল সাময়িক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। যাতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ অন্তত খাবার ও পানির মৌলিক অধিকারটুকু পায়।
গাজায় প্রতিদিন অসংখ্য শিশু মারা যাচ্ছে অপুষ্টি ও পানির অভাবে। যুদ্ধের ভয়াবহতায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে অমানবিক কষ্ট। হাসপাতালগুলোতে আহত শিশুর আর্তনাদ, আশ্রয়কেন্দ্রে ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না— সব মিলিয়ে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই মর্মান্তিক অবস্থায় শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে গাজায় শিশুদের জন্য নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে বিশেষ শিশুখাদ্য। দুধ, সিরিয়াল, বিস্কুট, বেবি ফুড ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও রয়েছে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণের উদ্যোগ। গাজার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কিচেনের মাধ্যমে প্রতিদিন রান্না করা হয় ভাত, তরকারি, রুটি ও ডালসহ পুষ্টিকর খাবার। এরপর সেগুলো স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়াও অনেক পরিবারকে শুকনো খাবারের প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে, যাতে অন্তত কয়েকদিন টিকে থাকার মতো খাদ্য মজুত থাকে।
সবচেয়ে বড় সংকটের জায়গা হলো পানি। দীর্ঘ অবরোধের কারণে বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাজার সাধারণ মানুষ আজ ভয়াবহ অবস্থার মুখে। এই সংকট লাঘবে মাস্তুল ফাউন্ডেশন শুরু করেছে পানি সরবরাহ কার্যক্রম। প্রতিদিন পানির লরির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। শিশুরা যেন পানির অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে পানি সরবরাহকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এসব কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশের জনগণই প্রধান শক্তি। দাতাদের সহায়তায় সংগৃহীত অর্থ বাংলাদেশে অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাসের মাধ্যমে মিশরের ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সরাসরি গাজায় পাঠানো হচ্ছে খাদ্য, পানি ও অন্যান্য সহায়তা। পাশাপাশি মাস্তুল ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক টিমগুলো মাঠপর্যায়ে থেকে কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করছে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন— “গাজার শিশুদের ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতরানো চেহারা আমাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য শিশু মারা যাচ্ছে শুধুমাত্র দুধ বা বিশুদ্ধ পানির অভাবে— এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা যতটুকু পারি, সরাসরি মাঠে থেকে সেই অভাব পূরণের চেষ্টা করছি। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে বেবি ফুড ও পানি বিতরণ করছি, পাশাপাশি রান্না করা খাবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষের দোয়া ও সহায়তায় আমরা গাজাবাসীর পাশে দীর্ঘদিন থাকতে পারব।”
মাস্তুল ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি স্বনামধন্য ও সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। আমাদের মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— করোনা মহামারির সময় দাফনসেবা প্রদান; ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ; এবং ২০২৩ সালের তুরস্কের ভূমিকম্পে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অন্যতম সফল প্রকল্প ‘যাকাত স্বাবলম্বী’-এর মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় ব্যক্তি ও যুবসমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন বিনামূল্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের একবেলার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও ঢাকার হাজারীবাগ বারইখালি এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মাদ্রাসা, শেল্টারহোম, এতিমখানা ও মেহমানখানা রয়েছে।






