সাকিব হোসেইন, তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার তিতাসে প্রথম স্ত্রী’র মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিবাহ করাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধ পিতাকে মারধর করে আহত করেছেন তার চার কন্যা ও প্রথম স্ত্রীর আত্মীয় স্বজনরা এমন অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে।
এঘটনায় আহত মো. রমিজ মিয়া তিতাস থানায় তার প্রথম স্ত্রীর চার কন্যা, এক নাতি ও তার শ্যালকসহ মোট ৬জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৪/৫জনকে আসামী করে তিতাস থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রমিজ সরকার(৬০) দীর্ঘ ৩৪ বছর প্রবাসে ছিলেন। তিন মাস পূর্বে তার প্রথম স্ত্রী মৃত্যুবরণ করার পর পরিবারিক সম্মতিতে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। গত ২ অক্টোবর ২০২৫ইং তিনি মোসাঃ আয়েশা বেগম(৩৮) নামের এক নারীকে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ করে নিজ বাড়িতে ওঠেন তিনি।
পরদিন ৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে রমিজ সরকারের চার মেয়ে হাসিনা আক্তার, খালেদা আক্তার, ফাতেমা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, শ্যালক সাইফুল ইসলাম ও নাতি হাসিবুল ইসলামসহ ৪-৫জন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে এসে তাকে ও তার নববিবাহিত স্ত্রীকে গালি-গালাজ করতে থাকে।
সে গালি-গালাজ করতে না করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন তারা এবং তাঁর নববিবাহিত স্ত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন।
এঘটনার জের ধরে একই দিনের সন্ধ্যায় রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব সরকার নামের এক ব্যবসায়ীর ‘ফাস্ট ইন্টারনেট’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের দোকানেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠে।
অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী ইয়াকুব সরকার সাংবাদিকদের বলেন, রমিজ সরকার আমার সম্পর্কে কাকা। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। ওনার জায়গায় আমার প্রতিষ্ঠানের একটি দোকান ভাড়া নেওয়া আছে। রমিজ সরকারের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন। সেই বিবাহের অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দিলে আমি সেখানে যাই। অনুষ্ঠানের পরদিন জানতে পারলাম রমিজ সরকারের মেয়েরা নাকি আমিসহ অনুষ্ঠানের অন্যান্য অতিথিদের নাকি প্রচন্ড গালিগালাজ করেছেন। এর কিছুক্ষন পরই রমিজ সরকার আমাকে কল দিয়ে বলেন ভাতিজা আমারে বাচা, আমারে মাইরা ফেলতেছে। এই কথা শুনে আমি তাদের বাড়িতে গেলে দেখি চরম হট্রগোল রমিজ সরকারের মেয়েরা মারাত্মক বাজে ভাষায় গালিগালাজ করতেছে রমিজ সরকারকে। আমার সাথেও খারাপ আচরন করেন।
পরে সেখান থেকে আমি চলে আসি। এই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় আমার দোকানে গিয়ে গালিগালাজ করতে থাকে রমিজ সরকারের বড় মেয়ে হাসিনা। একপর্যায় আমার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেন। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের নিকট জানতে গেলে রমিজ সরকারের বড় মেয়ে হাসিনা আক্তার উপস্থিত হয়ে মেজাজ দেখিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা কেনো আসছেন? আমরা এবিষয়ে কিছু বলবো না। আপনারা যান, আমাদের কোন কথা নাই।
তিতাস থানার ওসি তদন্ত মফিজুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







