বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, যাতে দেশের চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিটি রোববার (২০ অক্টোবর) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)—এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে: সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে মৌলিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার তদন্ত শুরু, এবং আইনি সংস্কারের উদ্যোগকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানানো হয়। পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো ১২টি সুপারিশ উত্থাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে- গুম ও হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠন,র্যাব বিলুপ্তি এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আইনে সংযোজন এবং মৃত্যুদণ্ড বাতিলে রাষ্ট্রীয় অবস্থান পরিষ্কার করা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশের বিদ্যমান আইন—যেমন সাইবার সিকিউরিটি অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ফৌজদারি দণ্ডবিধির মানহানি ধারা—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে।
এছাড়া খসড়া ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিবর্তনের তাগিদ দেওয়া হয়।
সংস্থাগুলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় জোর দিয়ে বলে, সাংবাদিকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার বন্ধ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি আহ্বান ছিল রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত। চিঠিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার সকল দলের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে, এবং আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা উচিত।
চিঠির শেষাংশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, এবং যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন ঘটে সরকারের কার্যক্রমে।







