জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন মোড় নিচ্ছে। দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগে থাকা দলটি এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে স্পষ্ট জামায়াতবিরোধী বার্তা দিচ্ছে। দলটির তরুণ নেতা ও আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, জামায়াত পিআর পদ্ধতির আন্দোলনের নামে পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা চালাচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া ও জাতীয় আলোচনাকে গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠনের মূল প্রশ্ন থেকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা আন্দোলন চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের বিরোধিতা করেছে, তারা কখনও সংস্কার আলোচনায় অংশ নেয়নি, কার্যকর প্রস্তাব দেয়নি, কোনো সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেনি, কিংবা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতি দেখায়নি।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াত কখনোই গণমানুষের দল ছিল না; তারা ক্ষমতার রাজনীতিতে সুবিধা নিতে চেয়েছে। আগে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে ব্যবহার করেছে, এবার জামায়াত আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একই মুদ্রার দুই পিঠ, একটি অপরটির বিকল্প নয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, জামায়াত কখনোই রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছাতে পারবে না। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থী। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ন্যায়, মানবতা ও সংহতির পথে ঐক্যবদ্ধ। এখানে নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু তা কোনো ষড়যন্ত্র বা বিভাজনের হাতিয়ার হতে পারবে না। প্রশাসনে ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশ বা ধর্মের নামে রাষ্ট্র দখলের চেষ্টা সফল হবে না।
সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ বলেন, জুলাই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে জামায়াত জানিয়েছিল তারা যাবে কিন্তু স্বাক্ষর করবে না। তারা পিআর ছাড়া স্বাক্ষর করবে না। এই ধরনের অবস্থান আগে দেখা যেত এরশাদকে। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ সকাল-সন্ধ্যা ভিন্ন কথা বলতেন; জামায়াতের বর্তমান অবস্থানও এমনই-কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই স্পষ্ট জামায়াতবিরোধী অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। বিশেষ করে জামায়াতকে ঘিরে যে রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল, সেখানে এনসিপির অবস্থান ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জোটগুলোকে দুর্বল করতে পারে।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তৃতায় দুই দলের রাজনৈতিক বিরোধও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।





