নীলা ক্লাস নাইন পাশ, নীলা ফর্সা হেব্বি, নীলার কোমর ও স্তনের সাইজ দেখলে যে কোনো পুরুষ প্রেমে পড়ে যেতো….
নীলা যখন নাইনে পড়তো, তখন ওকে সামান্য কটা টাকার জন্য ওর ভ্যানচালক মদখোর বাবা যৌনপল্লীতে কাজ করা একজন দালালের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়…
বিয়ের পর দুদিন যেতে না যেতেই নীলার ঠিকানা হয় যৌনপল্লী….
নীলা আকাশে উড়তে চেয়েছিল, একটা স্বাধীন বাধন খোলা জীবন বাঁচতে চেয়েছিল, নীলা পাখি হতে চেয়েছিল। নীলা বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল “বাবা তুমি আমায় একটু কষ্ট করে পড়াশুনো শেখাও, আমি ডাক্তার হতে চাই”…..
কিন্তু নীলা নীল আকাশের বদলে একটা ঘুপচি মতো ঘর পেলো, রাত হলেই ওই ঘরে নীল আলো জ্বলে ওঠে। রজনীগন্ধা ফুলের গন্ধে ঘর ম ম করে, নীলার খুব বমি পায় রজনীগন্ধা ফুলের গন্ধে, নীলার কান্না পায়….
নীলা পাখি হতে চেয়েছিল, অথচ নীলা পায়ে শেকল বাধা একটা নরকের মতো ভয়ংকর জীবন পেলো….
নীলা ইস্কুলের পরীক্ষায় পাশ করলে খিলখিলিয়ে হেসে উঠতো, অথচ নীলার জীবনটাই বিক্রি হয়ে গেল! যে জীবনের উপর আর নিজের কোনো অধিকার থাকে না, সেই জীবনের মতো ব্যর্থ জীবন কিচ্ছু নেই এই পৃথিবীতে…
খুব কান্না পেলে নামিদামি মদের গ্লাসে নীলা কান্না গুলে নেয়, সারাদিনে অনেক কাস্টমার আসে, শরীর কেনার কাস্টমার….
শরীরের উপর সারাদিন যৌন অত্যাচার চলে….
নীলা ক্লান্ত হয়ে যায়, খিদে পায়, সামান্য জল খেতে চায়, কিন্তু জলের বদলে ওর ঠোঁট ফাটিয়ে দেওয়া হয়, যাতে বেশি কথা না বলতে পারে….
তারপর ওই অবস্থাতেই নীলার ঘুম পায়, ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের ভেতরেও নীলা স্পষ্ট টের পায় কত পুরুষ ওই এক কামরার ঘুপচি ঘরে আসে আর যায়….
নীলা প্রথম প্রথম খুব চিৎকার করতো, পালানোর চেষ্টা করতো, কিন্তু যতবারই পালানোর চেষ্টা করেছে ততবারই ওকে টেনেহিঁচড়ে বিছানায় ফেলে বেল্ট দিয়ে প্রথমে চাবকানো হয়েছে, তারপর চোখ, মুখ মেরে ফুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, খেতে দেওয়া হয়নি প্রায় তিন চারদিন মতো।
নীলা একটা সময়ের পর বুঝে যায় সবার কপালে স্বাধীনতা লেখা থাকে না, নীলা চুপ হয়ে যায়, গুম মেরে যায়….
বেশ কয়েকমাস পর যৌনাঙ্গে গদগদে ঘা হয়, ট্রিটমেন্ট চলে, আর তার সাথে শরীরের উপর যৌন অত্যাচারও চলে, এভাবেই রাতের পর রাত নামে, অথচ ভোর আসে না নীলার জীবনে….
আগের বছর হঠাৎ একদিন মাঝ রাতে নীলার জীবনে ভোর নামে, বেআইনি ভাবে যৌনব্যবসা চালানোর জন্য পুলিশ অনেককেই গ্রেফতার করে….
নীলা এবং নীলার মতো আরো কয়েকজন ওই নরক থেকে মুক্তি পায়। আকাশের রঙ দেখতে পায়, রোদ্দুর দেখতে পায়, পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখতে পাওয়া, তিরতির করে বয়ে যাওয়া নদীর জল দেখতে পায়….
নীলার যৌনাঙ্গে দগদগে ঘা, বেশ কয়েকমাস ট্রিটমেন্ট চলে হসপিটালে। যে ডক্টর নীলার চিকিৎসা করে, সেই ডক্টর নীলাকে নিজের বাড়ি নিয়ে আসে…
নীলা প্রথমে ইতস্তত বোধ করছিল, কিন্তু তারপর ডক্টর নীলাকে আশ্বস্ত করে….
একদিন হঠাৎ ডাক্তার নীলাকে বলেন,
●—–নীলা তুমি আমায় বিয়ে করবে?
নীলা হতবিম্ভ হয়ে যায়,
●——কিন্তু ডাক্তারবাবু আপনি তো জানেন আমি কে!
●——তুমি কে নীলা! তোমাকে আমি জানতে চাইছি, এতদিন তোমায় স্রেফ একজন মানুষ হিসেবে জেনে এসেছি, এবার নিজের স্ত্রী হিসেবে জানতে চাইছি। যদি তুমি রাজি থাকো তাহলে বাড়িতে জানাবো, নইলে কোনো ব্যাপার না। সবার কপালে তো তোমার মতো ভালো মানুষের সঙ্গ লেখা থাকে না নীলা…
●——-আমি একজন বেশ্যা ডাক্তারবাবু…..
●——তুমি বেশ্যা ছিলে, এবং তোমায় বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য করানো হয়েছিল। দেখো নীলা পৃথিবীতে অনেক ধরণের পেশা আছে, সব পেশা সবার জন্য নয়, আমি এটুকুই মনে করি। কিন্তু সব পেশার মানুষদের সম্মান করা উচিত, আমি তোমায় একজন মানুষ হিসেবে সম্মান করি….
তোমায় যদি করুণা করতাম, তাহলে তোমার বিয়ে অন্য কোনো ভালো ছেলে দেখে দিতাম, কিন্তু তোমায় ভালোবেসে ফেলেছি বলেই তোমার সাথে থাকতে চাইছি।
তোমার হাতের রান্নায় জাদু আছে, আমার মায়ের মতো রান্না করতে পারো তুমি। আর রোজ রাতে আমি আমার রুমে ঘুমিয়ে পড়ার পর তুমি যখন লাইট বন্ধ করে আমার গায়ে চাদর জড়িয়ে দাও, আমি মায়ের স্পর্শ পাই….
আমার মা বহুবছর আগে মারা গেছে, তারপর খুব শীত পড়লেও আমার গায়ে কেউ কোনোদিন চাদর জড়িয়ে দেয়নি, বিয়ে করবে নীলা আমায়?….
●——–আপনার বাড়িতে সবাই রাজি হবে আমার ব্যাপারে জানার পর ডাক্তার বাবু?
●——ওরা রাজি আছে নীলা, আমি ওদেরকে তোমার অতীত সম্পর্কে জানিয়েছি আর বলেছি তোমাকে ভালো লেগেছে আমার। ওরা কি বলেছে জানো তো নীলা….
●——-কী?
●——ওরা তোমায় দেখতে চেয়েছে, ওরা বলেছে সব মানুষের একটা খারাপ অতীত থাকে, কিন্তু খারাপ অতীত থাকা মানুষটা খারাপ হয় না। মানুষটাকে একটা আগলানোর মতো হাতের দরকার হয়, মানুষটাকে গড়ে নেওয়ার একটা হাতের দরকার হয় এটুকুই…..
●——–ডাক্তারবাবু আমায় একটা সংসার দিও, আর কিছু চাই না….
নীলা নতুন সংসার পেয়েছে অনেকদিন পর, যে সংসারে মুক্তি আছে, স্বাধীনতা আছে। নীলা বিউটিশিয়ান কোর্স করেছে, বিয়ের দিন নিজের হাতেই নিজের স্বামীকে তৈরি করে দিয়েছে…..
এখন নীলা খুব খুশি, নীলা যখন সাজে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে, তখন ডাক্তার বাবু নীলার শাড়ির কুচি ঠিক করে দেয় প্রতিবার।
ওদের সংসারে রোজ প্রেম বাড়ে, কারণ ওরা একে অপরকে সম্মান করতে জানে যে যার নিজেদের অতীত ভুলে….
যারা বারবার অতীত নিয়ে কথা বলে একটা মানুষকে মেরে শেষ করে দেয়, তাদের মতো অসভ্য নোংরা মানুষ পৃথিবীতে হয় না!
Post Views: 232
Related