বরিশাল ব্যুরো : বরিশালের হিজলা থানাধীন শেওড়া সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়িতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এতে ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমানসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা রাতে হরিনাথপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বাদল সিকদার এবং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মতিউর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে এ হামলার অংশ নেয় শতাধিক নেতাকর্মী। এই হামলার ঘটনায় হিজলা থানা পুলিশ ওই দিন রাতভর অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতা বিপ্লবসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি ১২০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে।
হিজলা থানা পুলিশ জানায়, শেওড়া সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল মেহেদী হাসান শনিবার মাগরিবের পর বাজার থেকে ফাঁড়ির দিকে আসছিলেন। পথে একটি ভ্যানগাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে চালককে রাগারাগি করেন। এই ঘটনাটি ভ্যানচালক ক্ষমতাসীনদলের নেতাকর্মীদের জানালে রাত ৭টার দিকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা বাদল সিকদার এবং যুবলীগ নেতা বিপ্লবের নেতেৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী ফাঁড়িতে ঢুকে হামলা করাসহ কনস্টেবল মেহেদী হাসানকে মারধর শুরু করে। এসময় তাকে রক্ষার্থে ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মিজানুর এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, শনিবার ৭ টার দিকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা বাদল সিকদারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের শতাধিক নেতাকর্মী একতিত্র হয়ে ফাঁড়িতে হামলা করাসহ কনস্টেবল মেহেদী হাসানকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এই চিত্র দেখে একপর্যায়ে তাকে রক্ষার্থে ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মিজানুর এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এবং ফাঁড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের নেতৃত্বদাতাদের একজন যুবলীগ নেতা বিপ্লবসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, শেওড়া সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ১২০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় যুবলীগ নেতা বিপ্লবসহ ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামীদের সিসি ফুটেজে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।’







