সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা এমন একটি মাইক্রোচিপ উদ্ভাবন করেছেন, যা ক্যান্সার উপসর্গ দেখা দেওয়ার চার বছর আগে সনাক্ত করতে সক্ষম। ধানকণার চেয়েও ছোট এই যন্ত্রটি রক্তে সঞ্চলিত টিউমার ডিএনএ (ctDNA) এবং প্রারম্ভিক ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট প্রোটিন বায়োমার্কার পর্যবেক্ষণ করে।
ন্যানোটেকনোলজি সেন্সর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে চিপটি যে কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ শনাক্ত করলে তা রিয়েল-টাইমে স্মার্টফোন অ্যাপে পাঠায়। ৩০০ স্বেচ্ছাসেবীর উপর করা ক্লিনিকাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, প্যানক্রিয়াস, ওভারিয়ান, ফুসফুস এবং কোলন ক্যান্সার প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ৩–৪ বছর আগেই ধরা সম্ভব।
চিপটি প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত কাজ করে এবং ইমপ্ল্যান্ট করার খরচ প্রায় ৫০০ ডলার। ক্যান্সারের পাশাপাশি, এটি প্রদাহজনিত এবং হৃদরোগ সম্পর্কিত বায়োমার্কারও পর্যবেক্ষণ করতে পারে, যা ডাক্তারদের হার্ট ডিজিজ এবং অটোইমিউন রোগের পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করবে।
সুইডিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ২০২৭ সালের মধ্যে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এই প্রযুক্তি উপলব্ধ করার পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ক্যান্সারের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।প্রারম্ভিক শনাক্তকরণ স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমাবে, বাঁচার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে এবং বারবার বায়োপ্সির প্রয়োজনীয়তা দূর করবে—মানবজাতির ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে এই প্রযুক্তি প্রমাণিত হতে যাচ্ছে।






