গোপাল চন্দ্র রায়
, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা বন বিভাগের আওতায় ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোঁসাইগঞ্জ বিটের গাছ কেটে বন উজাড় করে আবাদি জমি বের করে চাষবাদ শুরু করেছে একটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্র। চক্রটি এতোই বেপরোয়া যে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেফতার করেও তাদের দমানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত কাটছে গাছ। প্রকাশ্যে হমকি দিচ্ছে বনরক্ষীসহ বন বিভাগের লোকজনদের। ইতিমধ্যে বনের প্রায় ১০থেকে ১৫একর জমির গাছ উজার হয়ে গেছে। তাদের বাঁধা দিতে গিয়ে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বনবিভাগের লোকজন।
শুক্রবার সকালে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও গোসাইগঞ্জ বন বিভাগের দেয়া মামলার আসামি তোফা ও তোফি বন বিভাগের গাছ কাটার সময় কর্তনকৃত গাছ উদ্ধার করতে গিয়ে গার্ড নাজমুল হকের হাত পা কেটে ফেলার হুমকি দেন। একই সময়ে লুৎফর রহমানের ছেলে মশিউর রহমান বন বিভাগের অফিস সংলগ্ন জায়গায় আগুন লাগিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডোমার বন বিভাগের আওতায় গোসাইগঞ্জ বিটে ১৫০.০৩ একর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মুল্যবান গাছ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরের দিন থেকে একটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্র গোঁসাইগঞ্জ বিটের গাছ কেটে বনটি উজাড় করে ফেলেছে। ইতিমধ্যে বন উজার করা ফাঁকা জায়গাগুলিতে জমি বের করে চাষাবাদ করছে তারা। একটি সূত্র জানান, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত বন বিভাগের জমি খনন করে বালু উত্তোলন করে দেধারছে বিক্রি করে আসছে। তারা বালু উত্তোলনের পাশাপাশি বন বিভাগের মূল্যবান গাছগুলি কেটে দেধারছে বিক্রি করা অব্যাহত রেখেছে। চক্রটির নামে বন বিভাগ এ যাবত আদালতে ১৪থেকে ১৫টি এবং পুলিশ কেস ৫থেকে ৭টি দায়ের করেছে। বর্তমানে তারা হাই কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পূনরায় দেধারছে গাছ কাটা ও বন উজার সহ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাদেরকে কেউই থামাতে পারছে না। গোঁসাইগঞ্জ বন বিভাগের গার্ড নাজমুল হক বলেন, শুক্রবার সকালে প্রকাশ্যে তোফা ও তোফি বন বিভাগের গাছ কর্তনের সংবাদ পেয়ে গাছগুলি উদ্ধার করতে যাই। এ সময় তোফা ও তোফি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর চড়াও হয়ে হাত পা কেটে ফেলার হুমকি দেয়। এসময় আমাকে ভীত করতে অফিসের পাশে থাকা মজুদকৃত শুকনা গাছে মশিউর রহমান অগ্নিসংযোগ ঘটায়। সংবাদ পেয়ে ডোমার থেকে আসা বিট অফিসারের সহযোগিতায় কর্তনকৃত কাজগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি ও অগ্নি সংযোগের কারণে বন বিভাগের ভিতরে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে আমার। তিনি আরও জানান, যেভাবে বন বিভাগের গাছ কর্তন অব্যাহত রয়েছে অল্প দিনের মধ্যেই গোসাইগঞ্জ বিটে বন নামে কিছুই থাকবে না।
এ ব্যাপারে গোসাইগঞ্জ বিট কর্মকর্তা মোরশেদ আলম জানান, আমরা গোসাইগঞ্জ বন বিভাগ সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রেখেছি। বন রক্ষা করার যথেষ্ট চেষ্টা করছি। ৫ই আগস্টের পর থেকেই বন উজাড় করছেন স্থানীয় একটি চক্র। আমরা কয়েকবার সেখানে অভিযান চালালে তারা আমাদের কয়েকজন কর্মকর্তাকে মারপিট করে। এ ব্যাপারে আমরা এ যাবত ১৪/১৫টি মামলাও দায়ের করেছি। আমি সেখানে তদারকিতে গেলে স্থানীয় বনদস্যুরা আমাকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয়। যে মামলা করেছি সেখানে হাজিরা দিতে আসলেও তারা আমাকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেয়। বন বিভাগে থাকা গার্ডকেও বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে। বন উজাড় করার পেছনে তিনি কয়েকজনের নামও বলেন তারা হচ্ছেন তৌফি, তোফা, জাহাঙ্গীর, মশিউর, বিটুল, শহর আলীসহ আরো অনেক। হুমকির মধ্যে যতটুকু পারছি বন রক্ষার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে আমরা ইউএনও, রংপুর বন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকলকেই চিঠি দিয়েছি। স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জানালেও তাদের তৎপরতা তেমনটা লক্ষ্য করিনি। মামলা দিয়েছি কিন্তু আসামিদের ধরার ক্ষেত্রে তাদের কোন তৎপরতা নেই।
এ বিষয়ে ভোগডাবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেয়াজুল ইসলাম কালু জানান, গোসাইগঞ্জ বনের গাছ যেভাবে চুরি হচ্ছে অদুর ভবিষৎতে বনটি আর থাকবেনা। আমি নিজেও আমার ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার দিয়ে পাহারা দিচ্ছি। তাতেও গাছ চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। পুলিশ এ ব্যাপারে নিষ্ক্রিয়। তাদের অভিযোগ দিলেও আসামী ধরছে না। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সম্পুর্ন বনটি উজার হয়ে যাবে। বনটি না থাকলে এই এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য থাকবে না।