আবু জাফরওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কিংবা কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার— “বল বীর, বল উন্নত মম শির”—এই কিংবদন্তি কিংবা বীরের সন্ধান আমরা পেয়ে গেছি। আমাদের শরীফওসমানহাদি। একালের কিংবদন্তি, এ মাটির বীর।
ওসমানহাদি কতদিন বেঁচেছিলেন?
বড়জোর দুই বছর। অথচ ইমপ্যাক্ট রেখে গেছেন শত বছরের। তার আগের ওসমানহাদিকেসেভাবে কেউ চিনত না, কিন্তু তার পরের ওসমানহাদিকে সবাই চেনে। হাজার বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম হাদিকে চিনবে। জুলাই ও পরবর্তী সময়ে যাদের আমরা নায়ক হিসেবে দেখেছি, তাদের অনেকেই খলনায়কে পরিণত হয়েছে; কিন্তু ব্যতিক্রম ওসমানহাদি। বাংলাদেশ নামের বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি উন্নত শির— “শির নেহারি, আমারি নত শির”—শরীফওসমানহাদি।
বিদ্রোহ-বিপ্লবের আলাপে সবার আগে যে নামটি উচ্চারিত হবে, সে নামে ধন্য হয়েছে দেশ—বাংলাদেশের হাদি। বলিষ্ঠ কণ্ঠে লড়েছেন ঘরে ও বাইরে। অন্যায়ের প্রশ্নে একচুলআপসকরেননি। জীবন উৎসর্গ করে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন সত্য। বাংলাদেশের স্মরণকালের ইতিহাসে আর একটি ওসমানহাদিআসেনি, আর আসবেও না। হাদি একবারই জন্মায়।
দুই শুক্রবারের ব্যবধানে বাংলাদেশে এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে হাদিকে চেনে না, হাদির জন্য কাঁদেনি কিংবা হাদির ফিরে আসার জন্য হাত তোলেনি—কতজনকে পাওয়া যাবে?
শত্রু-মিত্র সবাইকেইহাদির দেশপ্রেমের স্বীকৃতি দিতে হবে। দেশটাকে এমন করে ভালোবেসেছে—এমন মানুষের সংখ্যা অল্প। অনেকের হাঁটুর বয়সের হাদি এত গল্প রেখে গেছে, যা ছুঁতে তাদের হাজারবার জন্মাতে হবে। আমাদের হাদি একটাই ছিল। হাদিকেভিনদেশি কেউ গুলি করেনি; দেশীয় দানব ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের ষড়যন্ত্রে হাদি আজ অনন্তের পথে। এই দুঃখ কোনোদিন আমাদের ছাড়বে না। তারা হয়তো ভুলে গেছে—মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না।
হাদি এই মাটির সবচেয়ে সৌভাগ্যবান সন্তান। অল্পক্ষণ পরেই দুপুর দুইটায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হাদিরজানাজা। বিদ্যমান বন্দোবস্ত চুরমার করে নয়া বন্দোবস্ত চালু করতে হাদি সংসদেই যেতে চেয়েছিল। হাদিরচিরঘুম হবে এমন একজন কবির পাশে, যিনি বাংলাদেশের সব মানুষের ভালোবাসা নিয়ে ঘুমিয়ে আছেন সবুজ ঘাসের দেশে। সেই কবির বক্ষপাশেহাদি জাতীয় কবির বিদ্রোহী কবিতা হয়ে অবশেষে ঘুমাবেন। জাতীয় কবির পাশে জাতীয় বীরই মানায়।
আজ হাদিরজানাজায় মানুষের মহাসমুদ্র হবে—এমন ঘটনা আগে কেউ দেখেনি, ভবিষ্যতেও হয়তো আর দেখা যাবে না। ওসমানহাদিজিন্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
ধ্বংসেহাদির সায় ছিল না। হাদি চেয়েছিলেন পাল্টা মতবাদ দাঁড় করাতে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। আজ হাদি নেই, কিন্তু ভ্রাতা ও ভগ্নীরা কি প্রতিশ্রুতি ভুলে যাবে? পাড়া-মহল্লায় গড়ে তুলতে হবে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়েহাদিকে স্তম্ভ মেনে জীবন উৎসর্গ করতে হবে।
জানাজায়তাকবিরেতাকবিরে ঘোষণা দিতে হবে—
“এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে।”
আমরা সবাই হাদি হয়ে না উঠলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বআধিপত্যবাদীশকুনদের হাতে ছিন্নভিন্ন হবে। লাল-সবুজের পতাকা রক্ষায় হাদির প্রেরণায় শপথে শপথেগড়তে হবে স্বপ্ন।
হাদি-ই বাংলাদেশ। বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, মাথা তার বাংলাদেশের বিবেক। কন্ঠস্বর তার বাংলাদেশ বিরোধী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বুলেট।
রাজুআহমেদ, প্রাবন্ধিক।








