জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারার পদত্যাগ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তাসনিম জারার পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির আরও তিন শীর্ষ নারী নেতা। তারা হলেন— জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব নুসরাত তাবাসসুম এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু।
সামান্তা শারমিন তার সংক্ষিপ্ত পোস্টে লিখেছেন, “আমরা লড়াই ছাড়ব না। আল্লাহ সহায়।”
নুসরাত তাবাসসুম লিখেছেন, “নীতির চাইতে রাজনীতি বড় নয়। কমিটমেন্ট ইজ কমিটমেন্ট…।”
অন্যদিকে ডা. মাহমুদা মিতু তার পোস্টে কড়া ভাষায় লিখেছেন, “এক পয়সা দিয়েও দেশি ভান ধরা পশ্চিমা গং বিশ্বাস করি না। এর চেয়ে যারা ওপেন বলে-কয়ে পশ্চিমা এজেন্ডার পক্ষ নেয়, তাদের স্যালুট।”
এই পোস্টগুলো ঘিরে দলের ভেতরের মতপার্থক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি বক্তব্য দেন তাসনিম জারা। সেখানে তিনি জানান, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নিজের পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসীর ঘরের মেয়ে হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের সেবা করতে চান। দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় প্রশাসনিক সহায়তা, দলীয় অফিস কিংবা সংগঠিত কর্মী কাঠামো— কিছুই থাকবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার একমাত্র ভরসা আপনারা।”
তিনি আরও জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ঢাকা-৯ আসনের ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে, যা এক দিনে করা প্রায় অসম্ভব। এজন্য এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এছাড়া, আগের ফান্ডরেইজিং কার্যক্রমে যারা অর্থ সহায়তা করেছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ অর্থ ফেরত চাইলে তা যথাযথভাবে ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানান তাসনিম জারা।







