বরিশাল: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যানারে ঢাকা ও বরিশালের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন চরমোনাই পীর পরিবারের তিন সহোদর। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তারা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছেন।
চরমোনাই দরবার শরিফকেন্দ্রিক এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বরিশালের তিনটি এবং রাজধানী ঢাকার একটি আসনে তাদের প্রার্থিতা ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায় এবং দলীয় প্রতীক হিসেবে হাতপাখা বরাদ্দ হয়।
বর্তমানে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম দেশের প্রায় সব জেলা ও উপজেলায় বিস্তৃত। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলটি উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও এখনো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পর্যায়ে দলটির একাধিক নেতা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
চার আসনে তিন ভাইয়ের অবস্থানঃ
বরিশাল-৫ সদর ও বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম প্রার্থী হয়েছেন। তিনি দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং এর আগে একাধিকবার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র পদেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
বরিশাল-৪ হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ আসনে দলের সহকারী মহাসচিব সৈয়দ ইসাহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দুবার নির্বাচিত হন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে।
ঢাকা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তিনি এর আগেও একই আসনে নির্বাচন করে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, দেশের জনগণ এখন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে তাকিয়ে আছে। বরিশাল অঞ্চল ইসলামী আন্দোলনের জন্মভূমি হওয়ায় এখানকার ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আত্মীয়তার বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা। জনগণ যদি যোগ্য মনে করে, তাহলেই তারা ভোট দেবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিচ্ছে। দলটির নেতৃত্ব আশা করছে, এবারের নির্বাচন তাদের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করবে।







