প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ঔষধ ও চিকিৎসায় প্রবেশাধিকার বিষয়ে গবেষণা
ঔষধের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে
বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশন ওয়াচের গবেষণা বলছে, উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের ফলে দেশের ঔষধ শিল্প প্রভাবিত হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়বে। আজ ঢাকার পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের ঔষধে প্রবেশাধিকার বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনা করা হয় এবং তার উপরে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল উপস্থাপনের পর আলোচনা করেন সংবিধান সংস্কার কমিটির সদস্য ও গণসংহতি আন্দোলনের ফিরোজ আহমেদ, বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ, চা শ্রমিক প্রতিনিধি মোহন রবিদাস, গ্রিনবাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সুলতানা বেগম, কর্মসংস্থান ব্যাংকের পরিচালক সালাহউদ্দীন আহমাদ বাবলু। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নাগরিক উদ্যোগের বরকত উল্লাহ মারুফ। সভা সঞ্চালনা করেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন পিপলস হেলথ মুভমেন্টের সমন্বয়কারী আমিনুর রসুল।
বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশন ওয়াচের গবেষণাটি পরিচালনা করা হয় শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিক ও ঢাকাস্থ দলিত সম্প্রদায়ের নি¤œআয়ের একশত জন মানুষের উপর, যারা বিগত ৫ বছর ধরে নানা ধরনের ক্রনিক রোগে ভুগছেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই নি¤œ আয়ের মানুষেরা তাদের মাসিক আয়ের গড়ে ৩৩% ব্যয় করছেন ঔষধ ক্রয়ের জন্য। এমনও পরিবার আছে যারা তাদের আয়ের ১৩৫% ব্যয় করছেন পরিবারের একটি সদস্যের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য।
গবেষণায় আরো বলা হয়, অতীতে ইতিমধ্যে ঔষধের দাম বেড়ে যাবার ফলে চিকিৎসা বন্ধ বা ডোজ কমিয়ে দিয়েছিলেন ৮৪% নারী এবং ৫৩% পুরুষ। ভবিষ্যতে ঔষধের দাম ২০-৩০% বাড়লে আর চিকিৎসা করতে পারবেন না ২৩% নারী এবং ২৯% পুরুষ। ঔষধের দাম বাড়লে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে ঋণ করবেন ৬১% নারী এবং ৫৯% পুরুষ।
গবেষণা প্রতিবেদনের উপর মতবিনিময়কালে গণসংহতি আন্দোলনের ফিরোজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে চিকিৎসা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও এটি আদালতের দ্বারা বলবৎযোগ্য না। নাগরিকের চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের হাতে না থেকে বণিকের হাতে চলে গেছে। এমনকি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করপোরেটের হাতে চলে গেছে। ফিরোজ আহমেদ বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের আগে বাংলাদেশকে নাগরিকের চিকিৎসার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।
বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ বলেন, গ্রাজুয়েশনের পর বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ২৩ টি চুক্তির ফলেই বাংলাদেশ নানাভাবে প্রভাবিত হবে। তবে, শুধুমাত্র মেধাস্বত্ব আইন (ট্রিপস চুক্তি)-র শুধু ২৭ ধারার ৩ বি উপধারার জন্য যে ক্ষতি হবে, সেটাই অপরিমেয় হয়ে যাবে। তাহলে ২৩টি চুক্তির ফল কী হবে তা অনুমানের বাইরে। পার্থ বলেন, গ্রাজুয়েশনের আগেই আমাদের একটি জাতীয় বায়োডাইভারসিটি রেজিস্টার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং তা সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
চা শ্রমিক প্রতিনিধি মোহন রবিদাস বলেন, চা-শ্রমিকেরা চা-বাগানে ব্যবহৃত বিষাক্ত কেমিকেল ব্যবহারের ফলে নানা ধরনের রোগে ভুগছেন, কারখানার ভেতরে উচ্চ শব্দে ৮-১০ ঘন্টা কাজ করার ফলে বধির হয়ে যাচ্ছেন। এসবের চিকিৎসার ব্যয় চা-শ্রমিকদের মজুরির চেয়েও বেশি।
গ্রিনবাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম বলেন, পোশাক শ্রমিকরা সর্বোচ্চ ১২ বছর কাজ করার পর কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। যেখানে, অন্য পেশায় মানুষ ৩০ বছর বা তার বেশি সময় কাজ করেন। পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। এর উপর যদি উন্নয়নশীল দেশ হবার কারণে ঔষধের দাম বাড়ে, তাহলে আমাদের পোশাক শ্রমিক কোথায় যাবে?
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, আমরা আগামী বছর বাংলাদেশের সম্ভাব্য গ্রাজুয়েশনের ফলে কী কী প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়ে আরো গবেষণা করব এবং তা কিভাবে প্রশমণ করা যায় তার জন্য অধিপরামর্শ করব।







