গতকাল নওগাঁ থেকে রাজশাহী যাওয়ার বাসে- সহকারী পুলিশ সুপার ‘শ্যামলী রানী বর্মণের’ স্বামী ‘জয়ন্ত বর্মণে’র সঙ্গে তর্কা-তর্কি হয় বাস চালক ‘বাদলের।’
দো*ষ ছিল ‘জয়ন্ত বর্মণের’ই। উনি কেটেছেন সিটবিহীন টিকিট, কিন্তু উঠে আরেকজনের সিট দখ*ল করে রাখেন। এতে বাসের সুপারভাইজার বাঁধা দিলে- সে ‘স্ত্রীর’ ক্ষমতার গ/রম দেখিয়ে বাসের ড্রাইভার এবং সুপারভাইজারকে ‘পরে দেখে নিবেন’ বলে হুম’কি-ধা*মকি দিয়ে নেমে যান।
রাতে তার ‘স্ত্রী’ সহকারী পুলিশ সুপার ‘শ্যামলী রানী বর্মণ’ সেই বাসের ড্রাইভারকে তার অফিসে তলব করেন।
বাস ড্রাইভার উপস্থিত হলে- “সে নিজেই ড্রাইভারের তল-পে/টে সজোরে লা’**ত্থি মা**রেন। এরপর তার স্বামী সহ লোকজন দিয়ে বে*ধ*ড়ক পিটি’*য়েছেন বাস ড্রাইভার বাদলকে। বাদলের ভাষ্যমতে, পিটি’*য়ে*ছে শরী*রের গো*প*ন জায়গাগুলোতেও।
এরকম একটা অমানবিক নি’র্যা*ত*নের ঘটনা ঘটে গেল অথচ মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলোতে কোনো প্রচার নাই। তারচেয়ে অবাক করার কথা- “সারাজীবন শ্রমিক অধিকার কার্ড খেলে রাজনীতি করা বা*ম-পন্থীদেরও কোনো মশাল মিছিল নাই!”
কেন নাই? বিপরীতের মানুষটা নিয়ে রাজনীতি করতে গেলে স্ব-বিরো*ধী হয়ে যায়? একদিকে শ্রমিক অধিকার কার্ড আরেকদিকে সংখ্যা-ল*ঘু কার্ড?
কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণের স্ত্রী শ্যামলী রানী বর্মণ পুলিশের সাপাহার সার্কেল এএসপি।
তাঁর স্বামী রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ বাসে স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটে উঠেন। উঠে সিট ফাঁকা থাকায় একটা সিটে বসেন।
পথে বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে ওই স্টপেজ থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীর যেই সিটে তিনি বসেছিলেন, সেই সিটের যাত্রী এলে সেটি থেকে তাকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার।
তখন নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে ধমকাতে শুরু করেন জয়ন্ত। একপর্যায়ে সৃষ্ট তর্ক বাড়তে থাকলে সিট ছেড়ে দিয়ে বাসচালক বাদলের কাছে এগিয়ে যান তিনি।
চালকের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর তার গন্তব্য ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।
জয়ন্ত গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন শ্যামলী রানী বর্মণ। টিকিট মাস্টারের ফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করেন তিনি।
চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি ধামকি দেন। রাত ১০টায় হিমাচল পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেন শ্যামলী রানী বর্মণ।
সেখানে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাসচালক বাদলের পেটে প্রথমেই সজোরে লাথি দেন শ্যামলী।
সাথে বেধড়ক পেটাতে যোগ দেন তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণও। এরপর শ্যামলী রানী বর্মণের নির্দেশে কনস্টেবল আনন্দ বর্মণ পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
জানা যায়, পরে আহত অবস্থায় বাদল জ্ঞান হারালে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না এই শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সেখান থেকে পরের দিন সোমবার দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল।
‘এএসপিম্যাডাম ও ওনার স্বামী আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে শরীরের গোপন জায়গা গুলোতে মেরেছে। উনি বডিগার্ডকে বললেন মাইরা হাত পা ভেঙে দে।
তারপর বডিগার্ড আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে উচ্ছেমতো পিটিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?’
এই খবর এসেছে জাগোনিউজ-এ। শ্রমিক বলে এদেশে পুলিশ কর্তা শ্যামলি রাণীদের কাছে তাঁরা যে মানুষ না, এটা সম্ভবত বাদল’রা ভুলে গেছে!
নওগাঁর পুলিশ সুপার এ ঘটনাকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলেছেন। অথচ ভিক্টিমের ভাষ্য আর প্রেসক্রিপশনে ঠিকই পুলিশ কেইস বলে সিল দিয়েছে ডাক্তার।
কয়েক মাস আগে কুকুর পেছন থেকে ঘেউঘেউ করায়, ভ্যানচালককে খাস কামরায় নিয়ে রাজবাড়ী জেলার বিচারক পিটিয়ে পিঠ ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল।
সেই নিয়ে এত বলেছি, কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শুনেছেন?
এদেশে আমাদের মত সাধারণ মানুষের কপাল হলো সরকারি কর্তাদের সামনে দাসানুদাস হয়ে থাকা। মুসলিম, হিন্দু আলাদা কিছু নাই।
বাদল সংখ্যালঘু আর লাঠিয়ালরা মুসলমান হলে অন্তত ওপারে হলেও ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ বলে কথা হত।
সরকারের টনক নড়ত অন্তত। কি নিদারুণ দূর্ভাগা, বাদলের সেটুকুও কপালে নাই।
সরকার বাহাদুর, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিন। সত্য ও সুবিচার নিশ্চিত করুন, প্রোপাগান্ডা হলে তাও নিশ্চিত করুন।
Post Views: 237
Related