গোপাল চন্দ্র রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমারে ৩টি ইট ভাটায় অভিযান চালিয়ে ২লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিনব্যাপি পরিবেশ অধিদপ্তর ডোমার উপজেলার ৩টি ইট ভাটায় অভিযান চালায়। ডোমার উপজেলায় অবস্থিত শালকী ব্রিকস, থ্রি ব্রাদার্স ব্রিকস ও এমএসবি ব্রিকস নামে ৩টি ইট ভাটায় পুলিশ ফোর্সসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নীলফামারী এর সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজীর ইসলাম। এসময় প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘন করে কৃষি জমির টপ সয়েল কাটার অপরাধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং কাঁচা ইট ধবংস করা হয়।
জানা যায়, এসব ইটভাটায় ব্যবহৃত কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর। এছাড়া ইট তৈরির জন্য কৃষি জমির উর্বর উপরি স্তর (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।পরিবেশবিদদের মতে, ইটভাটাগুলো নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এই দূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন বন্ধ এবং কঠোর নজরদারি জরুরি।
ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি জমির টপ সয়েল বা উপরি স্তর কেটে নেওয়া হলে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টপ সয়েল কাটার ফলে জমির স্বাভাবিক শক্তি ও উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে উর্বরতা হ্রাস পেতে থাকলে ভবিষ্যতে উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্য সংকট দেখা দেবে।
অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন ইটভাটার কারণে বায়ু, মাটি ও পানি দূষণ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কৃষির ওপর। ডোমারে শালকী ব্রিকস, থ্রি ব্রাদার্স ব্রিকস ও এমএসবি ব্রিকস নামে তিনটি ইটভাটা ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, কোনো ধরনের ছাড়পত্র বা জেলা প্রশাসনের নিবন্ধন ছাড়াই এসব ইটভাটার কার্যক্রম চালাচ্ছে মালিকপক্ষ।








