শেখ হাসিনা গতকাল ভারতে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা বলেছেন সেটা হল একটা ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি। সেটা হল বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন আন্দোলনের পেছনে যে গ্র্যান্ড গেম বা ডেইলি স্টার প্রথম আলো জামাত শিবির ও মৌলবাদীদের ব্যবহার করে সরকার পতনের যে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক চক্রান্ত সেটা তিনি, তার দল বা তাঁর সরকার বা রাষ্ট্র কেউই ধরতে পারেনি। আমরা যারা ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করেছি তারা জানি, যে কোন ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি হল সেই ব্যর্থতাকে সফলতায় পরিণত করার প্রথম ধাপ।
এই ভিডিওতে শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বড়ইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্প বিডিআরের বিএসএফ হত্যা এবং ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছেন, সেই দুটো ঘটনা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার ঠিক আগে আর পরে ঘটেছে। যার মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ছিল সিআইএ-আইএসআই পরিকল্পিত জাকার্তা মেথড। যার উদ্দেশ্য ছিল বিডিআর সেনাবাহিনী যুদ্ধ লাগিয়ে তখনই একটি সেনা ক্যু করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। তার পরে শেখ হাসিনার লাশ সারা শহর ট্রাকের পেছনে বেধে ঘোরানো। এটা দেখে আওয়াম লীগ কর্মী সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হলে একটি গৃহযুদ্ধ লাগানো। পরে এই গৃহযুদ্ধে নিহতদের হত্যার দায়ে অন্তত ১০ লক্ষ আওয়ামী এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের হত্যা করা।
এভাবেই জাকার্তায় সেনা কর্মকর্তা হত্যা করে ক্যু করে ইন্দোনেশীয়ার জাতীয়তাবাদী নেতা সুকর্ণকে ক্ষমতাচ্যুত করে ১০ লক্ষ জাতীয়তাবাদীদের হত্যা করে ইন্দোনেশিয়াকে আমেরিকার তাবেদার সেনা মুসলিম রাষ্ট্র বানানো হয়েছে ১৯৬৫-৬৬ সালে। এই কারণেই খালেদা জিয়াকে তারেক জিয়া ফোন করে সেনানিবাস থেকে সরে যেতে বলেছিল। ইন্দোনেশিয়ায় তখন এই ১০ লক্ষ জাতীয়তাবাদী হত্যায় মার্কিন সিআইএ এবং জাকার্তায় মার্কিন দুতাবাস ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে। কাদের মারতে হবে সেই তালিকাও আমেরিকা পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বর্তমানে যারা ক্ষমতায়, তারাই জড়িত ছিল। তারাই অপরাধীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়েছে। এবং ২০২৪ এ ক্ষমতা দখলের পর তারাই তাদের জামিন বা জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছে। জামাত শিবির এবং বিএনপির সাকা-তারেক অংশ এই চক্রান্তের অংশ মার্কিন দুতাবাস সহ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাই জামাতকে ক্ষমতায় আনতে চাওয়া নতুন কিছু নয়। এটা গ্র্যান্ড মার্কিন গেমের বঙ্গোপোসাগর থিয়টারের বহু পুরাতন কৌশল।








