আমেরিকা রাশিয়ার প্রায় সব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে—কীভাবে সেগুলোর মোকাবিলা করতে হয়, সেটাও তাদের জানা । কিন্তু ব্যতিক্রম হলো চীন । চীনের এমন অনেক অস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে আমেরিকা এখনো পুরোপুরি অবগত নয় । সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—চীন এখনো এসব অস্ত্র সরাসরি বড় কোনো যুদ্ধে পরীক্ষা করেনি ।
.
আমার ধারণা অনুযায়ী, এই অজানা ও পরীক্ষাহীন চীনা অস্ত্রের কিছু অংশ ইতিমধ্যেই ইরানের কাছে পৌঁছেছে । ফলে আমেরিকা যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে সেই অস্ত্র ব্যবহার করে চীন পরোক্ষভাবে আমেরিকার ওপর পাল্টা আঘাত হানতে পারে । এখানেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ।
.
যদি কোনো কারণে আমেরিকা ইরানে হামলা করে এবং সেই যুদ্ধে ব্যর্থ হয়, তাহলে শুধু একটি যুদ্ধ নয়—বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার আধিপত্যের অবসান ঘটবে এবং চীনের প্রভাবশালী যুগের সূচনা হবে । তখন আমেরিকা যে “অস্ত্রের ভয়” দেখিয়ে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করত, সেটারও অবসান ঘটবে । তাদের অস্ত্র ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামবে ।
.
আরেকটি বড় সমস্যা হলো—এই যুদ্ধে মাঝপথে থামার কোনো সুযোগ নেই । যুদ্ধে নামলে শেষ পর্যন্ত যেতে হবে । হয় আমেরিকা হারবে, নয় ইরান—মাঝামাঝি কোনো সমাধান নেই ।
.
এই যুদ্ধ শুরু হলে চীনের জন্য এটি হবে অস্ত্র পরীক্ষার এক বিশাল সুযোগ । বাস্তবে যুদ্ধটি তখন আর ইরান–আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে চীন ও আমেরিকার প্রক্সি যুদ্ধ । এতদিন আমেরিকা যেভাবে অন্য দেশ দিয়ে প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়েছে, এবার সেই ফাঁদেই তারা নিজেরাই পড়ে যেতে পারে ।
.
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রায় সব সামরিক ঘাঁটিই ইরানের মিসাইলের আওতার মধ্যে রয়েছে—এটিও একটি বড় ঝুঁকি । তাই যুদ্ধ না করলেও নৈতিকভাবে আমেরিকা দুর্বল অবস্থানে, আর যুদ্ধ করলেও রয়েছে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ।
.
মূলত এই কারণেই ইরান ইস্যুতে আমেরিকা আজ চরম চাপের মুখে ।
.
সৌজন্য : Masum Reaz








