সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। এছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন।
সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির নেত্রীরা। কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগ নেত্রীই এবার মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে সুচি এগিয়ে আছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক সুচি বিএনপির রাজনীতিতে তৃণমুল নেতাকর্মীদের কাছে আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি একজন প্রচন্ড সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবান নেতৃত্ব যিনি রাজনীতিকে কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ বা পদ-প্রাপ্তির হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি, বরং জনগণের সেবা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করে যাচ্ছেন। তার জন্ম একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তিনি রাজনৈতিক সচেতন পরিবারের সন্তান হিসেবে শৈশব থেকেই সংগ্রামী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা মাসউদা আফরোজ হক শুচির। ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন রাজনীতি মানে জনগণের পাশে থাকা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, দুর্বল ও অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়া। তার পিতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় রাজনীতির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় সুচি ছোট থেকেই রাজনীতি ও সমাজসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, “রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণে কাজ করা, এই মনোভাবই একজন নেতাকে সত্যিকারের নেতা করে তোলে।পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ, ন্যায়পরায়ণতা ও সততার মূর্ত প্রতীক তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাজনীতির মাঠে শুচি একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন নারী নেতৃত্ব হিসেবে সুপরিচিত। তার চরিত্র, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে।
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বদা স্বচ্ছ, সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। কোনো প্রকার হিংসা, লোভ বা স্বার্থপরতা তার রাজনীতিতে জায়গা পায়নি। তার কাছে রাজনীতি মানেই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শুচি ছিলেন প্রথম সারির কর্মী ও নেতৃত্বের ভূমিকায়। যখনই দল বা দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে,তখনই তিনি রাজপথে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে আওয়াজ তুলেছেন। উপজেলা, জেলা, বিভাগ এমনকি কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতেও তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি কখনো ভয় পাননি, কখনো আপোস করেননি বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জে ছিলেন দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী।
জনগণের সেবায় নিবেদিত জীবন শুচি শুধু রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন সমাজসেবক। নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, বয়স্ক ও বিধবা নারীদের সহায়তা এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নিয়মিত সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন জনগণের সেবায় নিয়োজিত জীবনই সবচেয়ে বড় রাজনীতি।” তার প্রতিটি পদক্ষেপেই জনগণকে কেন্দ্র করে চিন্তা করেন তিনি।







