আলামত বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে। ইরানের আত্মাভিমান জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালী সহসা খুলছে না। কাজেই দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস ও তেলের রিজার্ভ ঠিক রাখতে আশু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যেকোনো ধরণেরআলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে হবে।খাদ্য মজুদেও মনোযোগ দিলে ভালো হয়। পিক/অফপিক নির্ধারণ করে শিল্পাঞ্চল ছাড়া রুটিন করে লোডশেডিং বাড়িয়ে গ্যাস ও ডিজেল সংরক্ষণ করা আবশ্যক কিনা ভেবে দেখা দরকার।
প্রত্যেকটি বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে এই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ হয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে একবার বৃটিশরা বস্ত্র ও খাদ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এই অঞ্চলের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করেছিল। ৪৩ এর সেই মন্বন্তরে ভারতীয় উপমহাদেশে মারা গিয়েছিল লাখ লাখ মানুষ।অনুমান বলছে, এবারেরওবোধহয় গুরুতর বৈশ্বিক অভিঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্ব ব্যবস্থা পরিচালিত করার ও গতিশীল রাখার শক্তি উৎপন্নেরকেন্দ্রসমূহেএবারের যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল, গ্যাস বিশেষ করে এলএনজি দিয়ে গোটা বিশ্বেরউৎপাদনব্যবস্থাসচলথাকে। সেখানে আছড়ে পড়ছে মুহূর্মুহু মিসাইল। সার্বক্ষণিকঝংকারিত হচ্ছে সতর্কতামূলকসাইরেন। এমন পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তারও নিশ্চয়তা নাই। সমস্তই নিরাপত্তাহীনতায় কাঁপছে। ইরানও ভালোই ক্ষেপছে।
যুদ্ধ যদি আগামীকাল সকালেও থেমে যায় তবুও তেল ও গ্যাসের দাম অবশ্যম্ভাবীভাবে বাড়বে। কেননা যুদ্ধের খরচ তেল-গ্যাস বিক্রি করেই মধ্যপ্রাচ্যেরপশ্চিমাদের দাসরা তাদেরআমেরিকা গং প্রভুদের সমীপে হাজির করে। এই দুই, তরল ও বায়বীয়, জিনিসের দাম বাড়া মানে অন্য সবকিছুর দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। কেননা উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে এই দুই মূল প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে। সুতরাং সঞ্চয়ের ও সংযমের মানসিকতা এখন থেকেই দরকার।এক্ষেত্রে সরকারকেই মূল ভূমিকা নিতে হবে। সংকট মোকাবিলায় যা যা করা দরকার তা পরিকল্পনা করে এখন থেকেই সরকারের নিজ উদ্যোগে করা দরকার।
সারাবিশ্বের খাদ্য ও জ্বালানী এবং অন্যান্য পণ্য ও সেবার পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এখন জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিকতা নাই। সব থমাকে গেছে। সুতরাং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে, হবে- সেই সম্ভাবনা দুয়ারে দাঁড়িয়ে নেই। টিকে থাকার জন্য অপচয় রোধ করে ব্যবহারও কমাতে হবে। আধা শীতের এই রাতে কিংবা নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে এখনই দিনে এসি, ফ্যানের আবশ্যকতা নাই বললেই চলে। এ ব্যাপারে সরকার যেন দরকারি পদক্ষেপ নেয়। নইলেআগুনেসিদ্ধতরকারি খাওয়ার মুরোদওকমেআসতেপারে। প্রমোদ তো পরের কথা।
যদি বিপদ আসে তখন জনগণ অস্থির হলেও তাদেরকে কিছুই বলা যাবে না। তখন দমন-পীড়ন সব বন্ধ রাখতে হবে। প্রবাদ আছে, খেতে দেবার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই!এই অপবাদ বহন করতে না চাইলে চোখ-কান খোলা রেখে এখন থেকেই প্রত্যেক পদক্ষেপ হোক।
রাজুআহমেদ, প্রাবন্ধিক।
raju69alive@gmail.com








