সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
সুনীল বাঁশফোর হত্যার বিচার, ভূক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম)-বগুড়া জেলা শাখা। অদ্য (০৭ মার্চ ২০২৬ ইং) শনিবার বেলা ১১.১৫ টায় বগুড়ার সাতমাথায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ‘বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম)’-কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এবং বগুড়া-৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী শিপন কুমার রবিদাস।
বগুড়া জেলা বিডিইআরএম এর সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার রাজভর এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ-কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জয়পুরহাট জজকোর্টের আইনজীবি এডভোকেট বাবুল রবিদাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)- কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি কমরেড আমিনুল ফরিদ, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী শেখ, সহ সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান ঝিলাম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অখিল পাল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট- বগুড়া জেলা শাখার সদস্য সচিব এডভোকেট শ্যামল বর্মণ, বগুড়া পাদুকা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বিজয় চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ রবিদাস ছাত্র ফোরাম (বিআরএসএফ)-কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক স্বাধীন চন্দ্র রবিদাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট- বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হৃদম গোস্বামী বিভো, পুরান বগুড়া শান্তিনগর মন্দির কমিটির সভাপতি বিজন কুমার মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক শ্রী অতুল চন্দ্র দাস, নারীনেত্রী রিনা রানী রবিদাস, ফুলো রানী রবিদাস প্রমুখ।
বক্তাগণ জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারী বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে সুনীল বাঁশফোরের কাছে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন মোঃ অনিক নামের এক মাদক কারবারি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোঃ অনিক তার পেট ও ঊরুতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় সুনীলকে। সেখানে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী রাত ৯টার দিকে মারা যান সুনীল। নিহত সুনীল বাঁশফোর শহরের সেউজগাড়ি সুইপার কলোনির সন্তোষ বাঁশফোরের ছেলে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেছেন।
এরই মধ্যে হত্যার শিকার সুনীল বাঁশফোরের খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বগুড়ার হরিজন সম্প্রদায়। এছাড়াও ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারী বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া স্টেশন কলোনী থেকে সুনীলের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হরিজনরা। শহরের সাতমাথায় অবস্থান এবং পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন তারা। মিছিলটি শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় এসে পৌঁছালে সেখানে মরদেহ রেখে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। এতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সাতমাথা থেকে মিছিলটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা খুনিদের ফাঁসির দাবীতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। প্রায় এক ঘণ্টা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। সেখানেও তারা স্লোগানের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানায়।
এ সময় হরিজন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আসামী ধরতে ২৪ ঘন্টা সময় বেধে দেওয়া হয়। নয়তো বগুড়াসহ সারা দেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেবে বলে আল্টিমেটাম দেয় বিক্ষোভকারীরা। এর প্রেক্ষিতে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, ‘আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রæতই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ কিন্তু ঘটনার ২২দিন পরেও চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোঃ অনিকসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।
বক্তাগণ বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, হরিজন তথা দলিত জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এ দেশেরই নাগরিক, এবং তাদের জীবন-জীবিকা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের মৌলিক মানবাধিকার। তাদের জীবন, অস্তিত্ব এবং সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। আমরা মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং সংবাদমাধ্যমের সহায়তা কামনা করছি। যাতে এই মানুষগুলির কণ্ঠ রোধ না হয় এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার রক্ষিত হয়। আমরা সরকারের কাছে সংবেদনশীল, মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছি। আমরা আশা করি, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম এই ইস্যুটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং একটি মানবিক সমাধানের দিকে এগিয়ে আসবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক বন্ধুগণ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার সংগঠনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বক্তাগণ মানববন্ধন ও সমাবেশের মাধ্যমে নিম্নোক্ত দাবিনামা উত্থাপন করেন:
১. সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সুনীল বাঁশফোর হত্যার সাথে জড়িত চিহ্নিত চাঁদাবাজ মোঃ অনিকসহ অন্য অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
২. ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকি, হয়রানি ও হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।
৪. বগুড়া শহরের চারটি হরিজন কলোনী যাতে চাঁদাবাজ মুক্ত হয়, তার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।







