নারী সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগে ওই নারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও পরে সংসদ সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
সংসদ সচিবালয়ের কমিটি শাখা-৬ এর কমিটি অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অসৌজন্যমূলক আচরণ, আপত্তিকর কথাবার্তা ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেন ওই নারী। অভিযোগ পেয়ে রফিকুলকে ‘কারণ দর্শানোর’ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে রফিকুল ইসলাম ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অধীনস্থ ওই কর্মীকে তিনি শাসন করেছেন।
অভিযোগকারী ওই নারী কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে সংসদ সচিবালয়ে কর্মরত। তিনি বলেন, “ওই কর্মকর্তা জোর করে অনেকবার তাকে জড়িয়ে ধরেছেন, শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেছেন। চাকরি আর লজ্জায় এই নির্যাতন দিনের পর দিন সহ্য করে গেছি।” তিনি জানান, এ ব্যাপারে গত ২০ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করেন তিনি। পরে তাকে নানাভাবে চাপ দেওয়া হয়। পরদিন অভিযোগ তদন্ত না করার জন্য থানায় আবেদন করেন।
ওই নারীর স্বামীও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “জিডির সংবাদ পেয়ে রফিক আরও ক্ষিপ্ত হন এবং জিডি প্রত্যাহার না করলে তার পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাছাড়া রফিক বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যও বিভিন্ন লোক মারফত হুমকি দেন। প্রয়োজনে আমার স্ত্রীর পা ধরে ক্ষমা চাইবেন বলেও বলেন।”
ওই ভুক্তভোগীর স্বামী আরও বলেন, “নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমরা সংসদ সচিব মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করি এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করেছি। আসলে আমরা দুজনই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। লোকলজ্জার ভয়ে আর কত দিন এই ধরনের নির্যাতন সহ্য করা যায়?”
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর রফিকুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংসদ সচিবালয়। সংসদের ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রিভিলেজ শাখার উপসচিব এস এম মঞ্জুর বলেন, “তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।”
ওই নোটিশের একটি অনুলিপি হাতে এসেছে। তাতে দেখা যায়, অফিসে কেউ না থাকার সময় অফিস সহকারীকে বাইরে পাঠিয়ে ওই নারীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ ও অপ্রীতিকর আচরণ করেন রফিকুল। কম্পিউটারে ‘আপত্তিকর ছবি’ বের করে বলেন, ‘এগুলো দেখলে মনে প্রশান্তি আসবে’।
ওই নারী ওয়াশ রুমে যাওয়ার পথেও রফিকুল বাধা দিতেন। একদিন ফাঁকা অফিসে ওই নারীর গায়ে হাত দেন তিনি। চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরে প্রাণনাশের হুমকিও দেন রফিকুল।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, “তিনি আসলে তাকে শাসন করতে চেয়েছিলেন। এই বিষয়টিই বড় করে দেখা হচ্ছে। তবে তার বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে এটা ঠিক। এছাড়া সচিব স্যারের কাছে বিচার দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছেই এ ব্যাপারে জানতে পারবেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানতে চাননি।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রবিবার থেকে ওমরাহ করার জন্য সৌদি আরব যাওয়ার জন্য ছুটি নিয়েছেন। তিনি ওমরা পালনে যাচ্ছেন কিনা জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বাংলা ট্রিবিউন







