রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: গত বছরের লোকসানের ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই চলতি মৌসুমে রংপুরে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন আলুর ক্ষেত। জমিতে নষ্ট হচ্ছে একরের পর একর আলুর ক্ষেত। আলু পচার শস্কায় রযেছে কৃষক। এতে নতুন করে লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাজারো কৃষক। গত বুধবার ও বৃহ¯পতিবার রাতের বৃষ্টিতে রংপুরে একরের পর একর আলুর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। কৃষকেরা কোথাও বালতি, কোথায় ডোল দিয়ে জমি থেকে পানি সেচে বের করার চেষ্টা করছে, আবার কেউ কেউ কাদামাটি আর পানির মধ্যেই আলু তুলে উচু স্থানে নিয়ে শুকানো চেষ্টা করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিনে রংপুরে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত বৃহ¯পতিবার জেলায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছিল ৫৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৫৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে আলু উত্তোলনের পুরো মৌসুম চলছে। এপর্যন্ত প্রায় ৫২ শতাংশ আলু উত্তোলন হয়েছে। তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, গত বছর আলু চাষে প্রায় ২ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এক একর জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। বৃহ¯পতিবার তাঁর আলু তোলার কথা ছিল। কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে যায়। উপজেলার দোলাপাড়া মাঠে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করে আব্দুল হালিম বলেন, এবার ফকির হয়ে যাব। বৃহ¯পতিবার আলু তোলার জন্য কৃষাণ নিয়ে ছিলাম। সেই কৃষাণ দিয়েই সকাল থেকে পানি সেচছি, তবু পানি শেষ হচ্ছে না। কেজিতে উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৬ টাকা, তবে ১০ টাকায়ও কেউ নিতে চায় না। ইকরচালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মিলন রহমান শ্রমিক নিয়ে ডুবে যাওয়া আলুর ক্ষেত থেকে পানি বের করার চেষ্টা করছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, পাঁচ একর জমির আলু ডুবে গেছে। শনিবার থেকে আলু তোলার কথা ছিল। পাঁচজন কৃষাণ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুই একর জমির পানিই বের করতে পারিনি। এমনিতেই আলুর দাম নাই, তার ওপর এই অবস্থা হলে আমাদের মতো চাষিদের মরণ ছাড়া উপায় থাকে না। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ১৪ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে ৯ থেকে ১০ টাকা দরে আলু বিক্রি হলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর টানা বৃষ্টিতে ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আলুক্ষেতে যে বৃষ্টির পানি জমেছে, তা এমনিতে নেমে যাবে, ধরে রাখার মতো না। যারা আলু উত্তোলন করছিল তারা থেমে যাবে, আকাশের অবস্থা দেখে আলু তুলবে। দীর্ঘ সময়ে বৃষ্টি হলে উঠতি আলুর ক্ষতি হতে পারে।
সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
সাতক্ষীরার- ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুন (১৯) এর মরদেহ গলায় ফাঁস লাগা অবস্থায়...






