মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য এমপি নুরুল আমিনের ইমামতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মিরসরাই উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামাল উদ্দিনের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে উপজেলার খৈয়াছরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযাপূর্ব বক্তব্যে এমপি নুরুল আমিন বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে আমার অনেক রাজনৈতিক কর্মীকে হারিয়েছি। কামরুল, রিপন, ইমাম এবং সর্বশেষ আজ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামাল উদ্দিনসহ অনেকেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আমি আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, আমার আর কোন কর্মীকে আমি যেন দাফন করতে না হয়। আল্লাহ আমাদের হায়াত দান করুন। কত গালি দিয়েছি, কত বকা দিয়েছি তবুও আমাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি। অনেকে অনেক প্রপ্রোজাল দিয়েছে এবং অপবাদ দিয়েছে, তবুও এই ১৭ বছর আমাকে রেখে একদিনের জন্যও কোথাও যায়নি। আমি রাগ করলে আমার হাত-পা ধরে বসে থাকতো, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি ক্ষমা না করতাম। কামাল উদ্দিন আমার রাজনৈতিক কর্মী নয়, আমার সন্তানের মতো ছিলো। আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহ দরবারে দোয়া করি, আল্লাহ আমাদের ঈমানের সহিত মৃত্যু দিও। রমজান মাসে মৃত্যু দিও। শুক্রবার জুমার দিনে মৃত্যু দিও। রোজা রেখে, যোহরের নামাজ আদায় করে এবং মাথায় টুপি দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে কামাল। আল্লাহ রমজানের উচিলায় কামালের জীবনের সমস্ত গুনাহ মাপ করে দিও।’
জানাযাপূর্ব বক্তব্য রাখেন সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট সাইফুর রহমান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী, নিহত কামাল উদ্দিনের বড় ছেলে আরাফাতুল ইসলাম মুন্না। জানাযায় বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৭ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
জানাযাপূর্ব বক্তব্যে কামালের পুত্র আরাফাতুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচার করতে হবে। কিছু কুচক্রী মহল কিছুদিন ধরে আমার বাবাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। আমরা এতিম হয়ে গেলাম, আমাদের যারা এতিম করেছেন প্রশাসন ও স্থানীয় এমপির কাছে সঠিক বিচারের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, যুবদল নেতা নিহতের ঘটনায় আটককৃত ড্রাম ট্রাক চালক খলিল হাওলাদারকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।







