অসুস্থ মস্তিষ্কের অমানুষের সংখ্যা বাড়ছে। চোখে পড়ছে বিকৃত মস্তিষ্কের ছেলে-মেয়েদের। ফেসবুক ও ইউটিউবসহনানান ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে চোখে পড়ছে বিকট মানসিক অসুস্থতার চিত্র। ভাইরালের নেশায় এবং টাকা ইনকামের আশায় অসভ্যাচারের এমন কিছু অবশিষ্ট নাই যেটা তারা দেদারসে করছে না।
টিকটক, শর্টস এবং রিলসে সেসব সামনে আসছে। যা দেখা ও শোনা- দুটোই সুস্থ সমাজ, সহিহ সভ্যতা এবং সুরুচিসম্পন্নের জন্য অস্বস্তিকর। ক্যামেরা ঘুরছে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে। একটা মেয়ে লাইভে গিয়ে পোশাক পাল্টাতে আরম্ভ করে- এটাকে সুস্থতা ভাবছেন? একটা ছেলে পার্টনারকে সামনে রেখে শরীর নিয়ে উল্টাপাল্টাকমেন্ট করছে- স্বাভাবিক মানেন?
এভাবেও পয়সা ইনকাম করা যায়! মোবাইল-ক্যামেরার স্ক্রিনে শরীর বিক্রি করে যারা খায় তাদের নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলতো কেননা তারা সংখ্যায় এখনো অল্প। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। ব্যাধি তো বিপুলতায় সংক্রামক। ভাইরাল ম্যানিয়ায় এমন সব কুরুচির প্রদর্শনী চলছে যা সমাজ ও সভ্যতার জন্য হুমকি হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, এদের দর্শক, অনুসারী সংখ্যায় লাখ লাখ, কোটি কোটি। বিশেষ করে প্রবাসীদের একটা বড় সংখ্যা এখানেই আয়ের একাংশ বিনিয়োগ করছে! ইমোর ব্যবসায়! ইনকামাদি ভালো বলেই শরীর দেখানোর প্রতিযোগিতায় কাপড় ছোট হতে হতে নাই হয়ে যাচ্ছে। নিষিদ্ধতার আকর্ষণে তরুণ, যুবক কিংবা বয়স্করাও অধীর আগ্রহে ঝুঁকছে। এসবের পরিনাম-পরিণতি?
সমাজে টিজিংয়ের সংখ্যা বাড়ছে। প্রাইমারি কিংবা হাইস্কুলের ছেলেমেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে অপ্রাপ্তবয়সের প্রেমে এবং পরিণতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের দ্বারা মুকুলেই সম্ভাবনার পরিসমাপ্তি ঘটছে। ঘরে ঘরে অশান্তি বাড়ছে। ধর্ষণের ভয়াবহতা চেপে ধরছে সমাজকের স্বাভাবিক গতিকে। কেউ কোথাও নিরাপদ নয়। বিকৃত যৌনাচারের আতঙ্কে সভ্যতার ভিত কাঁপছে।
টিকটক-রিলসে শুধু অসুস্থ মস্তিষ্কের ছেলে-মেয়েই নয় বরং ঝুঁকছেমধ্যবয়সী নারী-পুরুষ, এমনকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও। ব্যাপকতরভাইরালভিডিওতেমানসম্মত কিংবা শিক্ষণীয় কোনো কন্টেন্ট নাই। সমাজের জন্য কোনো বার্তা নাই। কেবল শরীরের দুলুনি এবং গালাগালি। ক’পয়সা আয়ের লোভে লজ্জা-শরম নাই করে দেওয়া প্রজন্মের আগামী কেমন হবে একবার চোখ বন্ধ করে উপলব্ধি করে দেখুন। আঁৎকে উঠবেন।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অশ্লীলতার প্রচলন ও মানসিক বিকৃতির চর্চা। এতে পয়সা কামাই কত তারচেয়েও বড় বিবেচ্য এখানে সহজভাবেভাইরাল হওয়া যায়। ভাইরালের নেশায় বিউটিস্পট দেখানো পর্যন্ত তো এখন খুবই সাধারণ কার্যক্রম- বরং কতকিছুর উপস্থাপন যে চলছে তা শয়তান মালুম।
মা-বাবার সামনেও টিকটকার ছেলেমেয়েদের কোনো লজ্জা-শরমের বালাই নাই। এমনকি মধ্যবয়সী স্বামী-স্ত্রী বুঝদার ছেলে-মেয়েদের সামনে যা তা ভিডিও করছে। সেসব আবার সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। এরাআত্মীয়স্বজনদের সামনে মুখ দেখায় কেমনে তা কে জানে! বন্ধু-বান্ধবীদের মধ্যে সেক্স, শরীর নিয়ে আলাপ খুবই স্বাভাবিক রিচুয়্যালে পরিণতি পেয়েছে! যারা বেডরুমের আলাপ-আচার দুনিয়ার সামনে হাজির করে তারা মানসিকভাবে সুস্থ না। আজকাল শর্টস, রিলস আর টিকটকে যা শুরু হইছেএরচেয়ে আরব্য রজনীর নিষিদ্ধ গল্প বেশি পরিশুদ্ধ! নাটক-সিনেমাতেও অশ্লীলতা কম ঢুকছে না।
এসবের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যেকোনো মূল্যে এসব বন্ধ করতেই হবে। নয়তো সমাজ-সংস্কৃতি স্বাভাবিক থাকবে না। সরকারকে দরকারি পদক্ষেপ নিতে হবে। মহাসড়কেরমতোঝুঁকিপূর্ণ জায়গাতেও আজকাল নাচানাচির ভিডিও ধারণের ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। এদেরকে পাকড়াও করে সরাসরি জেলে দিয়ে শিক্ষা দিতে হবে। অভিভাবক ডেকে মুচলেকা নিয়ে এদেরকে তাদের জিম্মায় দিতে হবে। নির্দিষ্ট একটা বয়স পর্যন্ত ফোন না দেওয়া, সোস্যাল মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে না পারা- নীতিমালা করতে হবে। সবার মঙ্গল ভেবে একটু কঠোর হতে হবে।
স্কুল কলেজের পোশাকে যে ছেলেমেয়েরা টিকটক করে, শর্টস-রিলস বানায় ওদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সমাজ ও সুস্থতা বিরোধী, রুচিহীন এবং ধর্মীয় কটূক্তিমূলক ভিডিও নির্মাণ, এসব ছড়ানোআইডি চিহ্নিত করে ব্যান করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব মনিটরিং করার জন্য একটা সেল বানাতে হবে। সবকিছু থেকে আয়ের বৈধতা দিলে সমাজের তরুণ-তরুণী গোল্লায় যাবে। আগামীর অন্ধকারের শঙ্কা এখনই, এখানেই স্টপ করতে হবে।
রাজুআহমেদ, প্রাবন্ধিক।
raju69alive@gmail.com








