রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রংপুরের যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ। সিটি কর্পোরেশন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে অল্প পরিমাণে ডিজেল ও পেট্রোল পাওয়া গেলেও অকটেন একেবারেই মিলছে না।
অন্যদিকে উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের পাম্পগুলোতে প্রায় কোনো ধরনের জ্বালানিই নেই, এমনকি টানা কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ পাম্প। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার শিহাব ফিলিং স্টেশনসহ জেলার অধিকাংশ পাম্প জ্বালানি তেলের অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের কারণে টানা ছয় দিন ধরে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে ঈদুল ফিতরে ঘুরতে বের হওয়া সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে।
সংকট না কাটায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার নজরুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছি। পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কোথাও পেট্রোল পাচ্ছি না।
এটা খুবই ভোগান্তির। উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের আনুর বাজার এলাকায় শাহ আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী আজিবর রহমান বলেন, নাতনিকে আনতে মেয়ের বাড়ি যাব। তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। ঈদের সময় এমন অবস্থা মেনে নেয়া যায় না। জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই একই অবস্থা।
জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে ঈদের আগের দিন থেকেই বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ পাম্প। একাধিক ফিলিং স্টেশন মালিক বলেন, ছয় দিন পর ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও শুধু ডিজেল দেয়া হয়েছে। পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় গ্রাহকদের চাপ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এদিকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি না থাকলেও উপজেলাগুলোর বিভিন্ন বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সিন্ডিকেটের আশঙ্কা করছে ভুক্তভোগীরা। গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি এলাকার মোটরসাইকেল চালক আব্দুল জলিল বলেন, কয়েকটি পাম্প ঘুরে তেল পাইনি।
বাধ্য হয়ে বাজার থেকে ২৫০ টাকা লিটার দরে কিনেছি। পাম্পে তেল না থাকলে বাজারে আসে কোথা থেকে, এটাই প্রশ্ন। একই কথা বলেন পীরগাছা উপজেলার আমিনুল ইসলাম বলেন, তিন থেকে চারটি পাম্প ঘুরে কোথাও পেট্রোল বা অকটেন পাননি।
পরে বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার পেট্রোল ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। তবে সিটি কর্পোরেশন এলাকার পাম্পগুলোর দৃশ্য কিছুটা ভিন্ন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন পাওয়া না গেলেও মিলছে পেট্রোল ও ডিজেল।
তবে তা সীমিত আকারে দেয়া হচ্ছে। একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার পেট্রোল এবং ৫০০ টাকার ডিজেল দেয়া হচ্ছে। এতে পাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে গাড়ির জটলা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অল্প পরিমাণে তেল পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকরা।
পাম্প মালিকেরা বলেন, ডিপোতে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়েই তেল বিক্রির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে, যাতে সবাই অন্তত কিছুটা করে পান।








