মোহাম্মদ সোহেল, বিশেষ প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় গড়ে ওঠা
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর দোকান তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন প্রতিবেশী জীবন চন্দ্র সাহা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। এতে করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পৌর এলাকার বামনহাটা গ্রামে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সোহেল খন্দকারের দোকানে তালা ঝুলছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সোহেল খন্দকার জানান, প্রায় দশ বছর আগে এলাকাবাসী তাঁর অসহায় অবস্থা দেখে সরকারি রাস্তার পাশে পরিষ্কার করে একটি দোকান নির্মাণ করে দেন। স্থানীয়রা তখনই দোকানে পণ্যসামগ্রীও তুলে দেন। পরে তাঁর স্ত্রী দোকানটি চালাতে থাকেন। সেই আয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার কোনোরকমে চলছিল। সোহেল খন্দকারের অভিযোগ, গত এক বছর আগে হঠাৎ প্রতিবেশী জীবন চন্দ্র সাহা তাঁর দোকানে থাকা মালামালসহ দোকানটিতে তালা দিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি পরিবার নিয়ে দারুণ কষ্টে আছি। সাহায্যের আশায় অনেক মানুষের দোরগোড়ায় ঘুরেছি, কিন্তু কোনোরকম সমাধান পাচ্ছি না।” এ বিষয়ে জীবন চন্দ্র সাহা লিখিত লিপিতে দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “এই জায়গাটি খাস (সরকারি) নয়। এই জমির মূল মালিক আমার বাবা মৃত মাখন সাহা। বর্তমানে মাখন লাল সাহার তিন ছেলে ভরেন চন্দ্র সাহা, জীবন চন্দ্র সাহা এবং নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা এই জমির মালিক।” তিনি আরও দাবি করেন, “উল্লেখিত জমির রাস্তার ধারে দুই-এক ফুট জায়গা খাস থাকলেও তার একমাত্র ভোগাধিকার আমাদের। সংখ্যালঘু হওয়ায় অন্যায় ও জোরপূর্বক আমাদের ওপর অত্যাচার করে ওই প্রতিবেশী (সোহেল খন্দকার) আমাদের জায়গায় দোকান দিয়েছে। যদিও ওর নিজের বাড়ি ঘর রয়েছে এবং রাস্তার ধারে দোকান করার মতো যথেষ্ট জায়গাও আছে, তবুও বারবার বাধা দেওয়ার পরও আমাদের জমিতে দোকান দখল করে রেখেছে।” উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সোহেল খন্দকারের দীর্ঘদিনের দোকানটি তালাবদ্ধ থাকায় তাঁর সংসারে অভাব-অনটন চরম আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আইনি সমাধান ও উভয়পক্ষের মধ্যে সুবিচার পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন ক্ষতিগ্রস্ত সোহেল খন্দকার।






