বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) এবং নাগরিক উদ্যোগ এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানবেন।
জন্ম ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬ কোটি মানুষ বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হন। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এই জনগোষ্ঠী সাধারণত ‘দলিত’ নামে অধিক পরিচিত। দলিত অধিকার বিষয়ে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লক্ষ দলিত জনগোষ্ঠী রয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানে বৈষম্য থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা থাকা সত্তে¡ও বাংলাদেশের দলিত জনগোষ্ঠী এখনও নানাভাবে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হন যা তাদের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতি এখনও অস্পৃশ্যতার চর্চা বিদ্যমান, যা তাদের মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও জন্ম ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন মন্দির, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং জনসমাগমস্থলে তাদের বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে বৈষম্যবিরোধী কোনো আইন না থাকায় তারা এ বিষয়ে কোন প্রতিকার চাইতে পারেন না। শুধুমাত্র জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতি চলমান বৈষম্য নিরসন কোনভাবেই সম্ভব নয়। অন্যদিকে শুধুমাত্র সংবিধানে উল্লেখিত ২৭ এবং ২৮ নং অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার দলিত জনগোষ্ঠীর একজন মানুষের পক্ষে আইনী প্রতিকার চাওয়া অত্যন্ত দুরূহ বিষয়। ফলে বিগত এক যুগেরও অধিক সময় ধরে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) এবং নাগরিক উদ্যোগ এর সহায়তায় বাংলাদেশের দলিত জনগোষ্ঠী ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
উল্লেখ্য, ৫ এপ্রিল, ২০২২ এ একাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘বৈষম্য বিরোধী বিল-২০২২’ উত্থাপন করা হয় এবং তা পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিকট প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণবশতঃ বাংলাদেশে বৈষম্যের শিকার একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্খিত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ আজও আলোর মুখ দেখেনি।
এই প্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বিডিইআরএম এবং নাগরিক উদ্যোগ-এর আয়োজনে প্রস্তাবিত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ দ্রুত প্রণয়নের দাবিতে আগামীকাল ২৯ মার্চ, ২০২৬ (রবিবার) সকাল ১০:৩০ মিনিটে, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা-এর সামনে দলিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছে।
উক্ত মানববন্ধনে আপনার পত্রিকা/টেলিভিশন চ্যানেল এর একজন প্রতিবেদক এবং একজন ক্যামেরাম্যান প্রেরনের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।







