শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত দুই দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই দুই উপজেলার কয়েক শ যানবাহন চালক, বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা। জ্বালানি না পেয়ে অনেককে ক্ষোভ নিয়ে পাম্প থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে গত দুই দিন ধরে দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে এক হতাশাজনক চিত্র। বেশিরভাগ পাম্পের প্রবেশমুখেই বাঁশ বা দড়ি দিয়ে আটকে রখা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। দোহার ফিলিং এন্ড সার্ভিস সেন্টারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, একটি সাইনবোর্ডের ওপর কার্টনের কাগজে লাল কালিতে বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা রয়েছে “অকটেন নাই, পেট্রোল নাই, ডিজেল নাই”।
যে সব পাম্পে সামান্য পরিমাণ তেল অবশিষ্ট ছিল, সেখানে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। অনেক পাম্প জ্বালানি শূন্য হয়ে পড়ায় পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে দোহার ফিলিং এন্ড সার্ভিস সেন্টারে তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন “আজ ৩ দিন ধরে আমি দোহার আর নবাবগঞ্জের প্রায় সব কটি পাম্পে ঘুরছি। কোথাও পেট্রোল বা অকটেন পাচ্ছি না। বাইক নিয়ে বের হতে পারছি না, জরুরি কাজেও যেতে পারছি না। এভাবে চললে আমরা চলবো কীভাবে?”
চালকদের অভিযোগ, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পর তেল না পেয়ে অনেক চালক পাম্প চত্বরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেককে তীব্র রোদে মাইলের পর মাইল বাইক ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
জ্বালানি সংকটের কারণ জানতে আজ দুপুরে দোহার ফিলিং এন্ড সার্ভিস সেন্টারে গেলে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পাম্পের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ওপর থেকে (ডিপো থেকে) সরবরাহ না থাকায় তারা তেল দিতে পারছেন না। সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। দোহার ও নবাবগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াতকারী ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া, পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা এই সংকটের পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।








