কলমে: হায়দার খালীদ

ইরান ও আমেরিকার সম্ভাব্য যুদ্ধ মানব সভ্যতার জন্য কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়! এটি হতে পারে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং মানবিক মূল্যবোধের উপর এক গভীর আঘাত। ইতিহাসে আমরা দেখেছি, যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানবজাতির উপর যে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, তেমনই একটি বড় শক্তির সংঘর্ষ পুরো পৃথিবীকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। প্রথমত, এমন একটি যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হবে মানবিক বিপর্যয়। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ, যেখানে যুদ্ধ শুরু হলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। সিরিয়া ও ইরাকের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে একটি সংঘাত পুরো প্রজন্মকে শরণার্থী করে তোলে। এতে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার সংকট সৃষ্টি হবে, যা মানব সভ্যতার মৌলিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
দ্বিতীয়ত, এই যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তীব্র ধাক্কা দেবে। ইরান বিশ্বের অন্যতম তেলসমৃদ্ধ দেশ, এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। ফলে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং সামাজিক অশান্তি বাড়বে, যা মানব উন্নয়নের গতি থামিয়ে দিতে পারে।
তৃতীয়ত, এই সংঘাত পারমাণবিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। যদিও ইরান সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ নয়, তবে এমন একটি যুদ্ধ বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইতিহাসে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা আমাদের দেখিয়েছে, একটি পারমাণবিক আঘাত কিভাবে কয়েক মুহূর্তে হাজার হাজার প্রাণ ধ্বংস করে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
চতুর্থত, এই যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। বিভিন্ন দেশ তাদের স্বার্থ অনুযায়ী পক্ষ নেবে, যার ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, এবং বিশ্বব্যবস্থা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
সবশেষে, এই ধরনের যুদ্ধ মানবিক মূল্যবোধের উপরও আঘাত হানে। সহনশীলতা, শান্তি ও সহাবস্থানের যে আদর্শ মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধ মানুষকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয় এবং মানবিক চেতনার অবক্ষয় ঘটায়।
পাগলামির একটা মাত্রা থাকে। আমেরিকার মতো দেশের একজন প্রেসিডেন্ট যা ইচ্ছে তাই করে যাবে আর সেটাই বিশ্ববাসীকে চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে আর তার প্রভাবে নিজেদের অবক্ষয় নীরবে মেনে নিতে হবে এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। উনি একজন ছিনতাইকারী এবং সন্ত্রাসী। ভেনিজুয়েলার মাদুরোকে স্বপরিবারে হাইজ্যাক করে তুলে নিয়ে বন্দী করে রেখেছে। সকল বিশ্ব সংস্থাগুলো মুখে কুলুপ এটে বসে আছে। এমনকি জাতিসংঘ নিশ্চুপ। এমন জাতিসংঘের আদৌ কি প্রয়োজন আছে? বিশ্ববাসীর এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তুমি পারমাণবিক বোমা বানিয়ে সারা বিশ্বকে ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেবে আর বাকিরা বসে বসে আংগুল চুষবে! পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর যদি ন্যূনতম মানবতাবোধ থাকে তবে তোমাদের পারমাণবিক মারনাস্ত্র নিজেরা ধ্বংস করো। নিজেদের অবস্থানে নিজেরা উন্নয়ন ঘটাতে পরিকল্পনা গ্রহণ করে দেশের মানব সম্পদের সঠিক ব্যবহার করো। সকল দেশের সাথে সম্মানজনক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোল। নয়তো সামনের দিনে অপমানজনক পরিণতি অপেক্ষা করছে।
ইচ্ছে হলো ইরাক আক্রমণ করলে, লিবিয়া, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরানেও শেষে আক্রমণ করলে। উদ্দেশ্য কি? কি তোমার অধিকার? এবার ক্ষান্ত দাও মিঃ ট্রাম্প। সারা বিশ্ব জেনে গেছে ট্রাম্পের পাম্প ফুরিয়ে গেছে। বেলুন চুপসে যাবে একটা সূচের আঘাতেই। প্লিজ বিশ্বকে শান্তিতে থাকতে দিন। নিজেরাও শান্তিতে থাকুন।
চলায়মান যুদ্ধাবস্থায় সার্বিকভাবে বলা যায়, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কেবল দুটি দেশের সংঘর্ষ হবে না, এটি হতে পারে সমগ্র মানব সভ্যতার জন্য এক অন্ধকার অধ্যায়। তাই আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন সংঘাত এড়ানোই মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের পথ। সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। মানবতার জয় হোক।
Post Views: 239
Related