ইনুস বাটপারের নতুন গেইমের নাম ‘ডিপ স্টেট’। ইনুস বাটপারের সাঙাত আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলাম নতুন করে ডিপ স্টেট প্রসঙ্গ তোলা মানে হচ্ছে বাটপার ইনুসের বাংলাদেশের রাজনীতিতে খেলা এখনো শেষ হয়নি।
বদিউল আলম, সুজন, প্রথম আলো এগুলো এক এগারোর নেপথ্য কারিগর। এরা বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণের পেছনে খেলছে অনেক দিন থেকে। ইনুস বাটপারকে তৈরি করা হয়েছে একটু একটু করে। তার নোবেল প্রাইজ পাওয়া অবশ্যই তাদের সঙ্গে যে আন্তর্জাতিক চক্র আছে প্রমাণিত।
যারা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের লোকদের হাতে নিতে চায় এইসব পুরস্কার তার অংশ। কিন্তু ডিপ স্টেট চেয়েছিল ২০২৯ পর্যন্ত তাদেরকে থেকে যেতে কিন্তু তারা সেটা চায়নি- এটা বলা মানে নিজেদের দেশপ্রেমিক, দেশের স্বার্থে তারা ক্ষমতা আকড়ে থাকতে চায়নি এই ন্যারেটিভ সৃষ্টি করা।
এটা অর্থ হচ্ছে ইনুস চ্যাপ্টার শেষ হয়ে যায়নি। ডেইলি স্টার প্রথম আলো পুড়িয়ে দেয়ার পর এই দুটি পত্রিকা আর কোন রিস্ক নিতে চায়নি। ফলে তারাও দ্রুত নির্বাচন চাইছিল নিজেদের নিরাপদ রাখতে। শরিকদের হাতেই নিজেদের অস্তিত্ব হারানোর ভয়ে তারা চাইছিল বিএনপি ক্ষমতা নিক।
নইলে বাটপার ইনুস ‘পঞ্চাশ বছর ক্ষমতায় থাকুক’ এই থিউরীই তাদের লক্ষ ছিল। এক এগারোর জন্য প্রথম আলো কতখানি দায়ী ছিল সেটা শেখ হাসিনা জানে। মানে মাইনাস টু প্রকল্প বাস্তবায়নে তখন ইনুসের দল করার চেষ্টা, নাগরিক সমাজ, সুশীল সমাজ তখন দৌড়ঝাঁপ করছিল।
রাজনীতিবিদরা নয়, বদিউল আলমদের মত এলিটরা দেশ চালাবে। বাটপার সুদ ব্যবসায়ী, এনজিওরা দেশ চালাবে। তাদের মাথার উপর আশির্বাদ হয়ে থাকবে পরাশক্তিরা। এটাই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু সেবারও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
হয়নি কারণ আওয়ামী লীগের বিশাল সাংঘঠনিক শক্তির কারণে। ফলে নির্বাচন হয় এবং আওয়ামী লীগ রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে আসে। দেশীয় ডিপ স্টেট হতাশ হলেও তখন থেকে পরিকল্পনা শুর করে।
সেই পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগের ভেতর ডিপ স্টেট ঢুকে পড়ে তাদেরকে নৈতিকভাবে ধ্বংস করে দাও। পক্ষান্তরে একটা নাগরিক সমাজ তৈরি করো যারা মানবাধিকারবাদী হয়ে দেশের যে কোন ইস্যুতে ঝাঁপিযে পড়বে।
তাদের সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল জেনজি প্রজন্ম যারা পুরোদস্তুর ইন্টারনেট ভোগী তাদেরকে কাজে লাগানো। জেনজি এক্টিভিস্ট, মিম তৈরি করে, পডকাস্ট, বুক রিভিউয়ার, রিলস তৈরি করে, র্যাপ গান গায়, টিকটকার সকলকে একটা গোত্রে আনতে পেরেছিল।
হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। লীগের ভেতর থাকা ডিপ স্টেট গুম, নির্যাতন চালিয়ে গেছে। মন্ত্রী সভায় কারা কারা ডিপ স্টেটের লোক সেটি আওয়ামী লীগ বের করতে না পারলে আরো পস্তাবে তারা। গুমের ঘটনা বিএনপি আমলে ছিল, আয়নাঘর নেত্র নিউজের সৃষ্টি।
এই রকম ‘আয়নাঘর’ এদেশের বিশেষ বাহিনীর গোয়েন্দাদের সব আমলেই ছিল। এদেশে ‘হাওয়া ভবনের’ শাসন মানুষ দেখেছে আবার ভুলে গেছে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার, ফ্যাস্টিস এই রকম শব্দগুলো দিয়ে আখ্যায়িত করার ফান্ডিং কার্যকর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কাফেরদের মুসলিম লীগ সোসাইটি যাদের কাজ হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের সাপোর্ট ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে তাদের মত রেজিম কায়েম করা, এদের এজেন্ট ফটো শহিদুল বাংলাদেশকে গুমের দেশ, নিপীড়নের দেশ হিসেবে প্রচার করতে পেরেছে সফলভাবে।
লীগের অহংকার দম্ভ আর অন্যদিকে এই গভীর ষড়যন্ত্র তাদেরেই কেবল পতন হয়নি, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র যেটি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার শেকড়ে গিয়ে আঘাত লেগেছে।
২৪ এর অবস্থানটা দেখুন, ৭১ এর বিরুদ্ধে, ৭১-কে ঢেকে দেয়ার চেষ্টা, ৭১ এর অল্টানেটিভ হওয়া।
নির্বাচন হওয়ার জন্য টেবিলে বসে অনেক রকম সমঝোতা করে আসতে হয়েছে। ২০২৯ পর্যন্ত বিশ্ব বাটপার ইনুস ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি।
কিন্তু তার ও তার চক্রের ষড়যন্ত্র শেষ হয়ে যায়নি। ৭১ এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নাম এমনভাবে জড়ানো যে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ইতিহাস বানাতে গেলে বিকৃতি ছাড়া আর কিছু হবে না। ফলে ৭১-কে বাদ দিতেই হবে বিশ্ব বাটপারকে।
এই ষড়যন্ত্রে এখনো একটা বড় অংশ জড়িত। এখন তাদের কাজ হচ্ছে বিএনপির ভেতর ঢুকে পড়া। একই গেইম। লীগের সঙ্গে যা হয়েছে। তারেক রহমান সেইম শেখ হাসিনার মত তাদের দিয়েই ঘেরাও হয়ে যাবে যারা তার দলের ডিপ স্টেটের লোক!
তারেক রহমানের কাজটা সহজই। প্রথমত তিনি স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিবেন। ইনুসের অবৈধ সরকারের সময় করা অধ্যাদেশগুরো বাতিল করে দিবেন অটোমেটিক।
আওয়ামী লীগের সাংঘঠনিক কার্যক্রম খুলে দেয়া। বিশ্ব বাটপার ও তার দলবল, পত্রিকা শিল্প কালচার যা যা কিছু আছে তাকে এই দেশ থেকে পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য করা। ফটো শহিদুল হঠাত করে গণভোট বাস্তবায়নের জন্য মুখ খুলেছে মানে ষড়যন্ত্র নতুন একটা মোড় নিয়েছে।








