বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র ৫ দিনে ১১৭টি বিল পাশ করার ঘটনাটি নজিরবিহীন। সরকারের একান্ত প্রচেষ্টা না-থাকলে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ কোনভাবেই পসিবল হতো না।
ইন্টেরিম সরকারের দেড় বছরের ১৩৩টি অধ্যাদেশকে বিল আকারে উত্থাপন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলি প্রয়োজনীয় সময় পেয়েছে মাত্র ১২-১৩ দিন। যেখানে পূর্বে সংসদে দেখা যেত একেকটি বিল তৈরি থেকে উপস্থাপন এবং পাশ করতে ২০-২৫ দিন সময় লেগে যেত, সেখানে মাত্র ২ সপ্তাহর মধ্যে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ সেরেছে সরকার।
শুক্রবারের বন্ধের দিন পর্যন্ত সরকার জরুরিভিত্তিতে সংসদ অধিবেশন করেছে, শুধু এই একটি কারণে। শুক্রবার বন্ধের দিনে এভাবে সংসদে বসার নজির পূর্বে আছে কিনা, আমার জানা নেই।
সরকারের এই সদিচ্ছাকে এপ্রিশিয়েট করার বদলে উলটো ক্ষুদ্র বিষয়ে এমনভাবে হাইলাইটস করে নেতিবাচক ভাইব ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছে বিরোধীদল, যেন সরকার কোন কিছুই বাস্তবায়ন করতেছে না। সব বাতিল করে দিচ্ছে।
তারা দেখাচ্ছে, গুম ও মানবাধিকার কমিশন রিলেটেড যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলি এখনি পাশ করা সম্ভবপর হলো না, সেগুলো বাতিল করে দিল।
অথচ সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে, এগুলো বাতিল হচ্ছে না। এগুলোতে অনেক এরোর রয়েছে, ফলে পরবর্তীকালে সরকার এবং বিরোধীদলসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনারভিত্তিতে সংশোধিত আকারে আইনে আরও কঠোর বিধান রেখে বিল আনা হবে। তাহলে তাদের রাজনীতিটা আসলে কী নিয়ে?
সোজা কথা, সরকারের বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা করা!
গণমাধ্যমের সামনে ভুলভাল তথ্য প্রেজেন্ট করে পাশাপাশি
লাগাতার প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের মনেও একপ্রকার কনফিউশান তৈরি করে দিছে তারা। কিছু বিষয় খোলসা করি সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য থেকে।
প্রশ্ন: ইন্টেরিম সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ থেকে সরকার ১১৭টি এখনি বিল আকারে এনে পাশ করল, বাকি ১৬টি কী বাতিল করে দিলো?
উত্তর: না, এগুলো বাতিল করা হচ্ছে না৷ সংবিধান অনুসারে ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার যে বাধ্যবাধকতা, তাতে অল্প সময়ে এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় চেঞ্জ এনে উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি বিধায় এখন ১৩৩টির মধ্যে মাত্র ১৬টি লেপস হচ্ছে বাট সবগুলো হেফাজতকরণ করা হচ্ছে। পরবর্তী অধিবেশনে সরকার এবং বিরোধীদল সবার সঙ্গে আলোচনারভিত্তিত আবার বিল আকারে আনা হবে।
প্রশ্ন: এখন তাহলে প্রশ্ন যেসব অধ্যাদেশে মেজর এরোর ও অস্পষ্ট বিধানের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে তখন কী কোনো আলাপ হয়নি? আর আমরা দেখেছি, বর্তমানে যিনি সরকারের আইনমন্ত্রী তিনি একটি প্রোগ্রামেও ছিলেন, সেই ছবিও ফেসবুকে আছে!
উত্তর: বর্তমান আইনমন্ত্রী তখন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। অর্থাৎ সরকারের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন কর্মকর্তা। সে জন্য তিনি আইনবিষয়ক প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন, রাজনৈতিক পক্ষের ছিলেন না। তার কাছে সেসময় মতামত চাওয়া হলে তখনি তিনি বলেছিলেন, এসব অধ্যাদেশে বেশ ত্রুটি আছে, সরকারের উচিত সব দলের সঙ্গে বসে আরও যাচাই-বাছাই করে জারি করা, কিন্তু সরকার সেটা আমলে না নিয়েই জরি করে দেয়।
প্রশ্ন: এখন গণভোটের কী হবে? গণভোট অধ্যাদেশটি যে বাতিল হয়ে গেল, তাতে কী গণভোটের ফলাফল বাতিল করে দিবে?
উত্তর: না, গণভোটের ফলাফল বাতিল হবে না। গণভোট অধ্যাদেশটি যে কারণে জারি করা হয়েছিল তখন, সেটির কার্যকারিতা শেষ৷ গণভোট হয়ে গেছে, ফলও চুড়ায় হয়ে গেছে। এই অধ্যাদেশ তো আবার আইন করার প্রয়োজন নাই।
প্রশ্ন: বিএনপি কী তাহলে সত্যিই গণভোট মেনে নিবে? এটা নিয়ে তো নানান কাহিনি শুনি একেকজনের মুখে!
উত্তর: হ্যা, বিএনপি গণভোটের রায়ের আলোকেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে, এটা তারা বারবার জানিয়ে আসছে, এখানে কনফিউশান থাকার কারণ নেই। বিরোধীদল তার রাজনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য কনফিউশান তৈরি করাচ্ছে।
নিয়ম হলো কোনো বিল নিয়ে আপত্তি/ মন্তব্য থাকলে সেটি হাউজের মধ্যে উত্থাপন করার পূর্বে করতে হবে, যখনি এই বিলটি উত্থাপনের জন্য অনুমতি চাইবে। সময় ২ মিনিট।
সেখানে বিল পাশ হওয়ার চুড়ান্ত মুহূর্ত তৃতীয় স্টেপে গিয়েও বিরোধীদলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা কিনা নিয়ম ব্রেক করে। এরপর ২ মিনিটের জায়গায় ১০ মিনিট কথার বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজন মতো। একজনের জায়গাতে একাধিকজনকেও কথা বলার সুযোগ দিছে, বিন্দুমাত্র বিরোধিতা করে নাই সরকার দল।
এতো উদারত ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা দেখানোর পরও উনারা সংসদ থেকে বের হয়ে ক্যামরার সামনে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার শুরু করে দেন।
Post Views: 140
Related