রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুর বিভাগের আট জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। জ্বালানি তেলের জন্য রংপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার মানুষের মধ্যে একধরনের হাহাকার তৈরি হয়েছে। রংপুর নগরীসহ আট জেলার ফিলিং স্টেশনের মধ্যে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনের মধ্যে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যে সমস্ত পাম্পে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে,আগাম ঘোষণা ছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশের তল্লাশি ও জরিমানাকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজ ১৫ এপ্রিল বুধবার দিনাজপুর জেলাসহ রংপুর নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে। নগরীর শাপলা চত্ত্বরে অবস্থিত ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ সারি। একই অবস্থা প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও। পাম্পের কর্মীরা বলেন, ডিপো থেকে তেলবাহী ট্যাংক লরি আসার অপেক্ষায় আছেন তারা। সালেক পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক আফসার আলী বলেন, পাঁচ দিন আগে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পেয়েছিলেন, যা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর পাঁচ দিন ধরে ডিপো থেকে আর কোনো তেল দেওয়া হয়নি। স্টেশন রোডের রহমান পেট্রোল পাম্পের কর্মীরাও একই ধরণের অভিযোগ করেন। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ডিপো থেকে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। দু-একটি পাম্প প্রতিদিন তেল পেলেও বেশির ভাগ পাম্প ৪ থেকে ৬ দিন পরপর বরাদ্দ পাচ্ছে। ফলে চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ তেলও মিলছে না। ১৫ এপ্রিল বুধবার শাপলা চত্ত্বরের ইউনিক ট্রেডার্সে দেখা যায়, মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা তেল নিতে আসা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছেন। কাগজপত্র না থাকা এবং হেলমেট না পরিধান করার দায়ে অনেককে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। আলমনগর এলাকার ভুক্তভোগী সাহেব আলী বলেন, ‘তেল নিতে এসে দেখি তল্লাশি চলছে। হেলমেট না থাকায় তার ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংকটের সময়ে আগাম ঘোষণা না দিয়ে এমন অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বলেন, যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে, তাদেরই কেবল তেল নিতে দেওয়া হচ্ছে। এতে পাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় কমবে। আর আইন অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। আমরা সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আশফাক মাহাতাব বলেন, তেলের সরবরাহ ও বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় শহরতলি ও উপজেলার পাম্পগুলোতেও মানুষ ভিড় করছেন, কিন্তু তেল পাচ্ছে না।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








