নিউজে দেখলাম ইউরোপে নাকি আর মাত্র ৬ সপ্তাহের জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে। ইউরোপের মতো অঞ্চলে তেলের সংকটের অবস্থা যে এতো বেগতিক হবে এটা সত্যিই অপ্রত্যাশিত ছিলো। তবে ইউরোপ সহ বিশ্বে এই সংনটের পেছনে মূলত ভারি তেল/কাচা তেল বা ক্রুড অয়েলের ঘাটতিই প্রধান কারন।
কিন্ত কাচা তেল বা Crude Oil, জিনিসটা আসলে কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ! যার জন্য বর্তমান বিশ্বের দেশগুলো একে অপরের সাথে যুদ্ধ করছে?
কারন ক্রুড অয়েল থেকে শুধুমাত্র কোন একক ধরনের জ্বালানি পাওয়া যায়না, বরং ভিন্ন ভিন্ন কয়েক ধরনের জ্বালানী পাওয়া যায়।যা ক্রুড অয়েলের প্রায় প্রতিটা অংশ নিংড়ে নিংড়ে বের করা হয়।
যদি ছোট উদাহরণ দিয়েও বলি, ১ লিটার কাচা তেল বা Crude Oil থেকে ৪০০ গ্রাম পেট্রোল, ৩০০ গ্রাম ডিজেল,১০০-২০০ গ্রামের মতো কেরোসিন,জেট ফুয়েল,রাস্তা তৈরির লুব্রিকেন্ট ও বিটুমিন পাওয়া যায় এবং এরপরেও আরো ১০০ গ্রাম অবশিষ্ট ক্রুড অয়েল আরো উত্তপ্ত করতে করতে এর থেকে মানুষ এলপিজি গ্যাস উৎপাদন করে।এছাড়াও আলকাতরা,প্লাস্টিকও পাওয়া যায় এই ক্রুড অয়েল থেকে।
অর্থাৎ ক্রুড অয়েলের প্রতিটা ফোটা থেকে মানুষ কোননা কোন জ্বালানী বা খনিজ পদার্থ উতপাদন করে। এমনকি এর বায়বীয় অবস্থা থেকে গ্যাসও উৎপাদন করি আমরা।যার জন্য ক্রুড অয়েলের গুরুত্ব এতোবেশি। এই ক্রুড অয়েল আবার দু ধরনের, – হাল্কা ও – ভারি বৈশিষ্ট্যের।
বর্তমানে বিশ্বে ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে সবচেয়ে বেশি পরিমান ভারি বৈশিষ্ট্যের ক্রুড অয়েল মজুদ আছে। এরপরে সর্বোচ মজুদ আছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। এরমধ্যে ইরান,ইরাক,সৌদিতে সবচেয়ে বেশি।
মজার ব্যপারা হলো, আমেরিকার তেল শোধনাগার গুলো মূলত যখন তৈরি করা হয়েছিলো তখন সেগুলো হাল্কা বৈশিষ্টের ক্রুড অয়েলকে রিফাইন করার মতো করে ডিজাইন করে তৈরি করা হয়েছিলো। অর্থাৎ আমেরিকার অধিকাংশ তেল শোধনাগার গুলোই হাল্কা বৈশিষ্টের ক্রুড অয়েল রিফাইন করতে সক্ষম। কিন্ত ধীরে ধীরে আমেরিকার কাছে হাল্কা বৈশিষ্টের ক্রুড অয়েলের যোগান কমে আসছে।যার জন্য আমেরিকার তেল শোধনাগারগুলো চাইলেও অন্য কোথাও থেকে ভারি ক্রুড অয়েল এনে শোধন করতে পারছেনা। কেননা সেগুলো ডিজাইন করা হয়েছে হাল্কা বৈশিষ্টের ক্রুড অয়েলের জন্য।
আর যেহেতু ভেনেজুয়েলার কাছে অফুরন্ত ভারি বৈশিষ্ট্যের ক্রুড অয়েল আছে,তাই আমেরিকা কিছুদিন আগে ছলে বলে কৌশলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প দখলে নিলো এবং পুরো বিশ্বের তেল রপ্তানি যেন আমেরিকার হাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দেশগুলো যেন আমেরিকার থেকে অবশ্যই তেল কিনে,তাই ইরানের তেল সরবরাহকে রিতীমত বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইরানেও হামলে পড়লো আমেরিকা।
আসলে বাস্তবতা হলো, ক্রুড অয়েলের গুরুত্ব দিনকে দিন আরো বাড়বে। কারন পৃথিবীর সম্পদ সীমিতি কিন্ত চাহিদা অসীম।ফলেই আমেরিকার কাছে ক্রুড অয়েলের যোগান যত কমবে,আমেরিকা ততই দিনকে দিন ডেমোক্রেসি কিংবা জঙ্গিবাদ,মৌলবাদ দমনের নামে ক্রুড অয়েল সমৃদ্ধ দেশগুলোর ওপর হামলে পড়বে। অথবা সেসব দেশের সাথে মিত্রতা তৈরি করবে।যেভাবে বর্তমান বিশ্ব চলছে এখন।






