সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বিশেষ করে অনেকক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের গরমে ঘামে জামাকাপড় ভিজে একাকার হয়ে যায়। পাঠের কার্যক্রমের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয় শিক্ষকদের কসাই মনোবৃত্তির মানুষ হিসেবে ধারণা পোষণ করে থাকেন। শিক্ষকেরা যে সরকারের নির্দেশ ছাড়া কিছুই করার নেই, বিষয়টি তাদের উপলব্ধিতে থাকার কথা নয়। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক/১ম/২য় শ্রেণির শিশুরা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ মাথায় নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে থাকেন। এ অনেকটা দোজখের সূর্যের তাপের অগ্রিম কষ্ট আমাদের শিশুরা শাস্তি হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। অপরদিকে ৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সারাদিন গরমে দুঃসহ যন্ত্রণার কবলের মাঝে ৪ টার সময় তাপ মাথায় নিয়ে বাসগৃহে যেতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যা অর্জন তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে।
সকাল সাতটায় গরমের তাপমাত্রা সহনীয় থাকে। প্রাক-প্রাথমিক, ১ম, ২য় শ্রেণির কার্যক্রম ৭:৩০ মিনিটে শুরু করে ৯:৩০ টার মধ্যে শেষ করা হলে তাপমাত্রার তীব্রতা তাদের তেমন পোহাতে হবে না। ৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২ টায় পাঠদান সমাপ্ত হলে শুধু দুপুরের গরম তাদের যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। শিখন ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখন ঘাটতি অতি নগণ্য। তাদের শিখন ঘাটতির অন্যতম কারণ অভিভাবকদের দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও বাড়িতে দেখভালের অভাব। শুধু গরমের এ তীব্রতায় প্রাথমিকের শিখন ঘাটতি পূরণের নামে শনিবার খোলা রাখা চরম বৈষম্য। এককভাবে শুধু শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার ফলে শিক্ষার্থী উপস্থিতি থাকে নগণ্য। এতে শিখন ঘাটতি পূরণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের এককভাবে প্রাথমিক শিক্ষার শিখন ঘাটতি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষকসহ সচিব, মন্ত্রী সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তৈরি হবে সমৃদ্ধ শিক্ষা।







