রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুরে কয়েক দিনে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে বোরো ধান, শাক-সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ও জায়গীর এলাকায়। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিনে রংপুরে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি যদিও অন্যান্য ফসলের জন্য কাঙ্খিত ছিল। তবে ক্ষতির কারণ হয়েছে সবজিচাষিদের জন্য। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার আগাম পাকা বোরো ধান, তামাক, ভুট্টা, শাক-সবজি, চিচিঙ্গা, করলা, পাট, ঢেঁড়স, ডাটা শাক, মরিচ, আদা ও হলুদসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে শেষ মুহূর্তে এসে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে কৃষি বিভাগ। গত ২৫ এপ্রিল শনিবার দুপুর থেকে বুধবার পর্যন্ত রংপুর বিভাগের আট জেলায় শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও কোন কোন এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়। সাথে ঝড়ো ও দমকা হাওয়া বয়ে যায়। এতে কৃষি ক্ষেতের ফসল, গাছপালা ও ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর ও মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, চরাঞ্চলসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শিলা বৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের। এসব আগাম বোরো ধান এক সপ্তাহের মধ্যে গোলায় তুলতেন কৃষক। ধান গোলায় তোলার ঠিক আগমুহূর্তে শিলাবৃষ্টিতে দিশেহারা কৃষক। ঝড়ো হাওয়া ও শিলার আঘাতে বোরো ধান, শাক-সবজি ও ভুট্টা গাছ ভেঙে পড়েছে। তামাকের পাতা ফুটো হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বাতাস সাথে শিলার আঘাতে ঐতিহ্যবাহী হাড়ি ভাঙ্গাসহ আম এবং লিচুর কচি মুকুল ঝড়ে গেছে। শাকসবজির ক্ষেত তছনছ হয়ে গেছে। ঝড়ের তাÐবে অনেক কাঁচা ও আধা-পাকা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে শতশত ঘরবাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। ঝড়ো হাওয়ায় বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়নের কাজ করছেন। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার চার বিঘা জমির ধান প্রায় ৬০ ভাগ শিলাবৃষ্টির কারণে মাটির সাথে লুয়ে পড়েছে। ধার দেনা করে আমরা ধান ফলাই। সেই ধান বিক্রি করে, ধার দেনা পরিশোধ করা হয়। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। শিলাবৃষ্টিতে জমির অর্ধেকেরও বেশি ভুট্টা মাটিতে হেলে পড়েছে। রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাড়িভাঙ্গা আমের মাতৃগাছের মালিক আমজাদ পাইকার বলেন, শিলাবৃষ্টির কারণে আমের গুটি বাগান থেকে ঝড়ে যায়। এলাকার সব বাগানের ২০ থেকে ৩০ ভাগ আম ঝড়ে গেছে। এতে কাঙ্খিত উৎপাদন হবে না। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তামাক চাষি আব্দুর রহমান বলেন, শিলাবৃষ্টির কারণে তামাকের পাতা বড় বড় ফুটো হয়ে গেছে। মাটির সাথে লুয়ে পড়েছে। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের উপ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলার অনেক এলাকায় আগাম বোরো ধান চলতি সপ্তাহে কাটা মারাই শুরু হতো। কিন্তু ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ করছেন। রংপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার থেকে বৃষ্টি সাথে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হচ্ছে। ফলে ধান, ভুট্টা তামাকসহ শাক-সবজির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকা তৈরি শেষে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে। যদি ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয় তাহলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার উৎপাদন নাও হতে পারে।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








