নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী
নওগাঁর মান্দা চকহরিনারায়ন দাখিল মাদরাসা সুপার আব্দুল মান্নান এবং মাদরাসার সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর পক্ষে নজরুল ইসলামের পুত্র জাকির হোসেন বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে প্রকাশ,সম্প্রতি মাদ্রাসায় ল্যাব সহকারি ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগকারির দাবি, সুপার আব্দুল মান্নান তার কন্যা উম্মে আখি আক্তারকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ল্যাব সহকারি পদে নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে মুখরোচক নানা গুঞ্জন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, ল্যাব সহকারী পদে সুপারের ছোট কন্যা উম্মে আখি আক্তারকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।ইতিপূর্বে সুপার তার স্বজনদের বিভিন্ন কৌশলে মাদরাসায় নিয়োগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে,অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠেছে।চাকরি প্রত্যাশী একই গ্রামের আজাদ হোসেনের পুত্র আজিজুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামের পুত্র শাহিন আলমসহ কয়েকজন প্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর গুঞ্জন বইছে।
অভিযোগ রয়েছে একইভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের আফজাল হোসেনের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু সহ-সুপার পদে নিয়োগ দিতে পারেননি। শিক্ষক আফজাল হোসেন আফসোস করে বলেন, ‘আমাকে নিয়োগের কথা বলে টাকা নিয়েছে কিন্তু আজও নিয়োগ দিতে পারেননি এমনকি আমার টাকাও ফেরত দেননি।’
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যথাযথভাবে প্রকাশ না করে সীমিত পরিসরে গোপনে প্রচার করা হয়েছে, ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করার সুযোগই পাননি। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যকে অবহিত না করেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এক কর্মচারী দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তার নামে নিয়মবহির্ভূতভা সুপারের সহযোগিতায় বেতন উত্তলনের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা চরমভাবে বঞ্চিত হবেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে।
তারা অবিলম্বে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন । স্থানীয় রহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাপ দাদার সম্পত্তিতে এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু এই সুপারের কারনে মাদ্রাসায় এখন পর্যন্ত কোন উন্নয়ন সাধিত হয়নি। দেওয়ালের ইট গুলো খুলে পড়ছে, টিন ছিদ্র হয়ে পানি পড়ছে, একটু বৃষ্টি হয়ে খেলার মাঠ পানিতে তলিয়ে থাকে অথচ এগুলো সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সময় সরকারি অনুদান আসলেও কাজের কাজ কিছুই করেননি সুপার আব্দুল মান্নান বলে আলোচনা রয়েছে।
এবিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সবেমাত্র নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন চাকরি প্রত্যাশী তাদের আবেদন পত্র জমা দিয়েছে। এরমধ্যে দেশের নাগরিক হিসেবে আমার মেয়েও একজন চাকরি প্রত্যাশী। সেও আবেদন জমা পত্র জমা দিয়েছে। নিয়োগের পূর্বেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায়ন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি কুচক্রীমহল উঠে পড়ে লেগেছে। এবিষয়ে চকহরিনারায়ন দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, এই প্রতিষ্ঠানে আগে কি হয়েছে সেটি জানিনা তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেউ একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।
স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন,একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি সেটি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা সেটি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়াও অভিযোগকারী চাইলে ডিজি বরাবর অভিযোগ করলে তদন্ত কমিটি গঠন করে তারা প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।#
Post Views: 211
Related