মোহাম্মদ সোহেল, বিশেষ প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর চর কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (৪ মে) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন ও ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাব্বির রহমানসহ পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও চারজনকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে আটটি ব্যাকহো মেশিন ও তিনটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ সময় নিকরাইল ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মতিনকে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চক্র যমুনা নদীর চর ও পাড় কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছিল। অভিযানকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জড়িত সদস্যরা খননযন্ত্র ও মাটিবোঝাই যানবাহন ফেলে পালিয়ে যায়। পরে মতিন নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করে শাস্তি দেওয়া হয়। এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী রক্ষাবাঁধ ভাঙনকবলিত হয়ে পড়ছে, যা এলাকার জনজীবন ও সম্পদের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এমন অভিযান চালানোর দাবি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘যমুনা নদীর চর থেকে অবৈধ মাটি উত্তোলন পরিবেশ ও নদীর প্রাকৃতিক গতিপথের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনের চোখ এড়িয়ে কেউ রেহাই পাবে না। যেকোনো প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নদী সম্পদ রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।’







