প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্বতন্ত্র শিক্ষা অফিস প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার প্রাণশক্তি মজবুত
করা যেতে পারে। বর্তমান অফিস কাঠামো সময়ের চাহিদা মিটাতে সক্ষম হচ্ছে না।কারণ উপজেলা
ও জেলায় কার্যকর কোন শিক্ষা অফিস না থাকার কারণে যেমন নজরদারি ব্যাহত হচ্ছে
তেমনিভাবে সময়ে সময়ে শিক্ষার যথাযথ উন্নয়ন বিলম্বিত হচ্ছে।
প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পদ রয়েছে। জেলা ও
উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের একটি অংশ আসে শিক্ষকদের মধ্য থেকে,
যারা স্কুল পর্যায়ে সরাসরি শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে
পরিচালিত হয় হয় শিক্ষা অফিসগুলো। বর্তমান শিক্ষা অফিসের কাঠামো বহু পুরনো। সে সময়
জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কলেজ ছিল না বলে হয়ত কলেজ শিক্ষার মাঠ
পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় আনেনি। কিন্তু বাস্তবতা পরিবর্তন হয়েছে।
প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কলেজ শিক্ষা এখন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কলেজের সংখ্যা
বৃদ্ধি হয়েছে। একই সাথে স্কুলের সংখ্যাও বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কলেজ শিক্ষা তত্ত্বাবধান
ও স্বতন্ত্র শিক্ষা অফিস প্রতিষ্ঠা করা খুবই প্রাসঙ্গিক বিষয়।
এখন প্রশ্ন হলো কলেজ শিক্ষার জন্য শিক্ষা অফিসার কে? জেলা ও উপজেলায় কলেজ শিক্ষা
কোন অফিস তত্ত্বাবধান করেন? স্কুল পর্যায়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিযুক্ত বা স্কুল
পর্যায়ের জন্য নিয়োগকৃত শিক্ষা অফিসারগণ কি শিক্ষা ক্যাডার থেকে আগত কলেজ শিক্ষকসহ
অন্য সকল কলেজ শিক্ষকদের নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ করবেন? যদি স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা
অফিসারগণ কলেজ শিক্ষা নজরদারি করতে চান তখন তা কতটুকু কার্যকর হবে? এসব প্রশ্নের
উত্তর খুব সহজ নয়। এ প্রশ্নের উত্তর জটিল এবং জটিল এক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত
হয় কলেজ শিক্ষা। কারণ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কলেজ শিক্ষা বিষয়ে কোন স্বতন্ত্র অফিসার
বা অফিস নেই। ফলে তত্তাবধান ও নজরদারি ব্যবস্থা যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা নিয়ে নতুনভাবে
চিন্তা করার সময় এসেছে।
ঢাকা কেন্দ্রিক মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাজার হাজার কলেজ পূর্ণাঙ্গভারে
নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কারও কঠিন। ফলে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সঠিকভাবে হয় কিনা
তা খতিয়ে দেখা সময়ের দাবি। কারণ জেলা ও উপজেলায় কোন কলেজ শিক্ষা বিষয়ক অফিস নেই বা
অফিসার থাকেন না। জেলা পর্যায়ে গবেষণা কর্মকর্তা পদ থাকলেও তার ভূমিকা জানেন না তেমন
কেউ, জানেন না তার পরিধি বা পরিচিতিও। সময়ের সাথে সাথে কলেজভিত্তিক শিক্ষা কাঠামো
সম্প্রসারিত হওয়ায় জেলা ও উপজেলায় শিক্ষা অফিসার নিয়োগ করে স্বতন্ত্র শিক্ষা অফিস
প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।
সরকার চাইলেই খুব সহজে স্বতন্ত্র শিক্ষা অফিস প্রতিষ্ঠা করতে পারে। স্বতন্ত্র শিক্ষা
অফিস প্রতিষ্ঠার জন্য আলাদা শিক্ষা অফিসার নিয়োগ প্রয়োজন হবে না। কারণ শিক্ষা খাতে
একটি বিশেষায়িত ক্যাডার সার্ভিস আগে থেকেই বিদ্যমান রয়েছে। যাদেরকে গঠন করা হয়েছে
শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব প্রদানের জন্য। যারা একই সাথে সরকারি কলেজগুলোতে পাঠদানের
পাশাপাশি শিক্ষার সাথে জড়িত শিক্ষাবোর্ড ও দপ্তরগুলোতে কাজ করছে। শুধু অর্গানোগ্রাম
অনুমোদন করেই শিক্ষা অফিস চালু করা যাবে। অর্গানোগ্রামে শিক্ষা অফিসার (সার্বিক), শিক্ষা
অফিসার (কলেজ)-সহ কয়েকটি পদ সৃজন করে দিলেই শিক্ষা ক্যাডারদের পদায়নের মাধ্যমে
স্বতন্ত্র শিক্ষা অফিস চালু করা যাবে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা ব্যবস্থা সুসংহত হবে এবং
এই শিক্ষা অফিসই হতে পারে মাঠ পর্যায়ে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণশক্তি।
মো: মহিউদ্দিন
শিক্ষক (বিসিএস সাধারণ শিক্ষা),
আমতলী সরকারি কলেজ, বরগুনা।
সম্পাদক-মাসিক ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স এবং অধুনালুপ্ত 71news24.com








