রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল চ্যানেল আইয়ে ‘Tribute to Guru Azam Khan’ ও শনিবার বিশেষ ‘তারকাকথন’
আগামীকাল ৫ জুন বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরের যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক-প্রাপ্ত রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খান-এর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।
এই উপলক্ষে শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আই প্রচার করবে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘Tribute to Guru Azam Khan’।
আজম খানের পরিবারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে, তাঁর সৃজনকর্মের কপিরাইট ও রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান Cool Exposure-এর উদ্যোগে এবং চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম-এর সহযোগিতায় নির্মিত এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণ করা হবে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এই অবিস্মরণীয় পথিকৃৎকে, যিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেবে আজম খানের প্রতিষ্ঠিত কিংবদন্তি ব্যান্ড উচ্চারণ (Uchcharon)-এর পুনর্গঠিত বর্তমান লাইন-আপ। বর্তমানে ব্যান্ডটির সদস্যরা হলেন— দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কিবোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)।
অনুষ্ঠানে উচ্চারণ ব্যান্ড পরিবেশন করবে রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খানের জনপ্রিয় ও কালজয়ী বেশ কিছু গান। একই সঙ্গে শিল্পীর জীবন, সংগ্রাম, সংগীতচর্চা, উচ্চারণ ব্যান্ডের ইতিহাস এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনে তাঁর অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন ব্যান্ডের সদস্যরা।
বিশেষ এই অনুষ্ঠানটি ইফতেখার মুনিম-এর প্রযোজনা ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে এবং উপস্থাপনা করেছেন অপু মাহফুজ।
এছাড়াও আজম খানকে স্মরণ করে আগামী ৬ জুন (শনিবার) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘তারকাকথন’-এ প্রচারিত হবে একটি বিশেষ পর্ব। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আজম খানের কনিষ্ঠ কন্যা অরণী খান, উচ্চারণ ব্যান্ডের সাবেক সদস্য ও ফিডব্যাক ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফুয়াদ নাসের বাবু, এবং উচ্চারণ ব্যান্ডের বর্তমান লিড গিটারিস্ট ও সঙ্গীত পরিচালক পার্থ মজুমদার।
ইফতেখার মুনিম-এর প্রযোজনায় নির্মিত এই বিশেষ পর্বটি উপস্থাপনা করেছেন ইফফাত আরা ইরা।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখসমরের যোদ্ধা হিসেবে দেশ স্বাধীন করার পর আজম খান গিটার হাতে শুরু করেন আরেকটি সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। সত্তরের দশকে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা উচ্চারণ বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলা ভাষায় রক, পপ ও লোকজ সংগীতের সংমিশ্রণে তিনি এমন এক ধারার সূচনা করেন, যা পরবর্তীতে দেশের ব্যান্ড সংগীতকে মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক (২০১৯) এবং স্বাধীনতা পদক (২০২৫) প্রদান করে।
আজম খান শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছে। তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড উচ্চারণ নতুন প্রজন্মের কাছে সেই উত্তরাধিকার পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।








