এর পেছনে বৈজ্ঞানিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং ঐতিহ্যগত কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। নিচে কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
১. বিষাক্ত পোকামাকড় ও সাপ থেকে সুরক্ষা (প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ)
মরুভূমির বালি অত্যন্ত আলগা এবং হালকা হয়। যখন একজন মানুষ বালির ওপর তার চারপাশে একটি গভীর বা স্পষ্ট দাগ কেটে বৃত্ত তৈরি করে, তখন বালির স্তরে একটি কৃত্রিম বাধা বা “Miniature Trench” তৈরি হয়।
- মরুভূমির বিষাক্ত পোকামাকড়, বিশেষ করে বিচ্ছু (Scorpoints) এবং কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির সাপ, বালির এই আকস্মিক ভূপ্রকৃতি বা খাড়া ঢাল পরিবর্তন সহজে পার হতে চায় না।
- বৃত্তের কারণে আলগা বালি যখন নিচের দিকে ধসে পড়ে, তখন ছোট পোকামাকড়গুলোর গতি ধীর হয়ে যায় বা তারা বৃত্তের বাইরেই থেকে যায়।
২. ভাইব্রেশন বা কম্পন টের পাওয়া
মরুভূমির ক্ষতিকর প্রাণীরা (যেমন সাপ বা অন্যান্য সরীসৃপ) সাধারণত মাটির কম্পন বা ভাইব্রেশন অনুসরণ করে তাদের শিকার খোঁজে। চারপাশে গভীর বৃত্তাকার রেখা টেনে দিলে সেই রেখার ভেতরের বালির সাথে বাইরের বালির সরাসরি কম্পন সংযোগ কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়, যা ঘুমানো ব্যক্তির অবস্থানকে প্রাণীদের কাছ থেকে কিছুটা আড়াল করতে সাহায্য করে।
৩. আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও মনস্তাত্ত্বিক শান্তি (বেদুইন ঐতিহ্য)
মরুভূমির যাযাবর বা বেদুইনদের মাঝে একটি প্রাচীন লোকবিশ্বাস রয়েছে যে, ঘুমানোর আগে নিজের চারপাশে বৃত্ত বা ‘হিসার’ (Hisaar) টেনে নিলে তা জেন বা ক্ষতিকর অদৃশ্য আত্মা থেকে সুরক্ষা দেয়।
- বৈজ্ঞানিক কারণ ছাড়াও, এই বৃত্তটি একজন একা ভ্রমণকারীকে মরুভূমির মতো একাকী ও ভয়ংকর জায়গায় এক ধরণের মানসিক নিরাপত্তা ও শান্তি দেয়, যা তাকে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে সাহায্য করে।
৪. সীমানা নির্ধারণ ও ধূলিঝড়ের সংকেত
হালকা বাতাসে চারপাশের বালি উড়তে থাকলে এই বৃত্তের দাগটি দেখে ঘুমানো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারেন যে তার চারপাশে কতটা বালি জমা হয়েছে বা ঝড় কতটা তীব্র ছিল। এটি এক ধরণের প্রাকৃতিকভাবে তৈরি সীমানাপ্রাচীর হিসেবে কাজ করে।








