কেরানিগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে বেগম খালেদা জিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার লক্ষ্যে যখন ফাইল পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, প্রধানমন্ত্রী সেই ফাইল শুধু রিজেক্টই করে দেন নাই যারা নতুন নামকরণের এ প্রস্তাব করেছেন তাদেরকে সতর্কও করে দেন।
বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন। উনার নামে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ স্বাভাবিক ব্যাপার, এটি তিনি ডিজার্ভ করেন। বাট এরপরও তারেক রহমান এটি করতে দেননি, কারণ বেগম খালেদা জিয়া উনার মা। উনি পিএম থাকাবস্থায় উনার মায়ের নামে কোনো পুরোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।
যারা এটা ভেবে ফাইল পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বোধহয় এ প্রস্তাবে খুশী হয়ে সাথে সাথে অনুমোদন সাইন দিয়ে দিবেন; তারা উল্টো চরম অপদস্থ হলেন।
আমলারা এটা ভাবেন নাই তারেক রহমান যে শেখ হাসিনার মতো মানসিকতা লালন করেন না।
হাসিনা ক্ষমতায় এসে দেশের ১২০০ কোটি টাকা নষ্ট করে দেশের প্রধান বিমানবন্দর জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাম পরিবর্তন করে। প্রায় ১০০০ প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করে তার বংশের বিভিন্নজনের নামে।
অথচ তারেক রহমান সেই পথে হাঁটেন নাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে। কেউ চেষ্টা করলেও প্রশ্রয় দেন নাই। কানাঘুঁষা ছিল দেশের প্রধান বিমানবন্দরে নাম পূর্বের নামে ফিরিয়ে নেওয়ার, বাট তারেক রহমান এধরনের আলাপ তোলারই সুযোগ দেননি।
তার অনেস্ট মানসিকতা দেশে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নাম পরিবর্তন ধারার বিপরীতে এক দৃষ্টান্তমূলক অনুশাসন।
উনার আন্তরিকতা এবং কর্মনিষ্ঠ মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে উনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন কীভাবে কাজের মধ্যদিয়েই দেশের মানুষের সামনে তার সরকারের একটা এক্সামপল সেট করা যায়।
অথচ উনি যত রেপুটেশন বাড়াচ্ছেন ঠিক ততটাই পেছনের দিকে হেঁটে রেপুটেশন নষ্ট করছেন উনার সরকারেরই কেউ কেউ।
মীর শাহে আলম এই ভদ্রলোককে সরকারের এতো এতো সিনিয়রদের ডিঙিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছেন। অথচ তিনি মর্যাদা রাখতে পারতেছেন না।
উনার আসনের বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাতে নতুন একটি ইউনিয়ন করা হয়, যেটার নামকরণ করা হলো তার বংশের নামে ’মীরবাড়ি ইউনিয়ন’।
এই উপজেলা ভাগ করে আরেকটি উপজেলা করা হয়, সেই উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের নামকরণ করেন সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম। সিমান্ত ও দিগন্ত উনার দুই ছেলের নাম।
যেখানে প্রধানমন্ত্রী, তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেও মায়ের নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ প্রস্তাব রিজেক্ট করে দিয়ে বাহবা কুড়াল, সেখানে প্রতিমন্ত্রী হয়ে মীর শাহে আলম তার বিপরীত দিকে হেঁটে সরকারের রেপুটেশন নষ্ট করছেন।
আজকে দেখলাম সংসদে বিরোধীদলের একজন সদস্যের উক্ত বিষয়ে কনসার্ণের ফলে তিনি যুক্তি দিচ্ছেন এটা নাকি কাকতালীয় হয়েছে।
একটা নাম রেন্ডমলি মিলতে পারে, দুইটা কাকতালীয় হয়? এমনকি ইউনিয়ন নাম তার বংশের নামে তাও কাকতালীয়!
আর কাকতালীয় হলেও তিনি স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই নামগুলো দেখামাত্র রিজেক্ট করে দিতেন যে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট, যদি তার ইনটেনশন ভালো হতো।
জনগণের সঙ্গে চালাকি করা এটা ভালো লক্ষণ নয়। উনার এসব ‘চালাকিমার্কা’ কথায় যে প্রধানমন্ত্রীও সন্তুষ্ট নন সেটি তার মুখের অভিব্যক্তি থেকে বুঝা গেছে, যখন তিনি হাসতে হাসতে জনগণকে ‘মগা ভাবা’ যুক্তি দিচ্ছেন, তখন অন্যরা হাসলেও প্রধানমন্ত্রীর চেহারায় ছিল বিরক্তির ছাপ।
এর আগেও তিনি কুরবানির ঈদে মেট্রো স্টেশনে গরুর হাট বসানো নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন, বৃষ্টির কারণে নাকি গরু রাখা হয়েছে। অথচ এখন সরকারের তদন্তে মিলেছে সত্য, মেট্রোতে গরুর হাট বসানোর কারণে সরকারের ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। সেদিন যদি তিনি জনগণের সঙ্গে চালাকি মার্কা কথা না বলে বিষয়টি এড্রেস করে ব্যবস্থা নিতেন তাৎক্ষণিক, তাহলে সরকারকে বিব্রত হতে হতো না।
Post Views: 114
Related