নিজস্ব প্রতিবেদক:-
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপ-চিকিৎসার শিকার হয়ে নার্স,ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুধু তাই নয়,দায়িত্ব পালনে ইউএইচওর অবহেলা এবং অফিস হেডক্লার্কের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন উপজেলাবাসী।
এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচও এন্ড এফপিও ডাঃশামীমা আক্তার জেলা শহরে বসবাস করেন।
এবং সেখান থেকে প্রতিদিন বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে অফিস করেন।
তবে তিনি যথা সময়ে অফিসে না আসার ও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এতে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও ডাঃশামীমা আক্তার জেলা শহরের সূর্য মুখী ডায়াগনস্টিক সেন্টার-১ এর মধ্যে নিয়মিত রোগী দেখে আসতেছেন।
এবং সূর্য মুখী ডায়াগনস্টিক সেন্টার-২ এর মধ্যে তিনি চুক্তি ভিত্তিক রোগীদের ভর্তী করিয়ে নিয়মিত সিজার করে আসছেন।
এতে জেলা,উপজেলা জুড়ে বানিজ্যিক ডাক্তার হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
একটি উপজেলার
দায়িত্ব প্রাপ্ত ইউএইচও প্রতিদিন তার স্টেশন ত্যাগ করতে পারেন কিনা এনিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অপরদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড গুলোতে অপরিচ্ছন্নতা,
দেয়ালে শ্যাওলা,বিশুদ্ধ পানির সংকট ও ছাদের আস্তরণ খসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
এছাড়াও পর্যাপ্ত ঔষধ সংকট সহ দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার ও অভিযোগ তুলেছেন দৈনন্দিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও ভুক্তভোগীরা।
অন্যদিকে মহিলা ওয়ার্ডের রোগীরা বলেন,হাসপাতালের বেশির ভাগ পানির ট্যাব বিকল হয়ে গেছে।
এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে চরম আকারে।
তাদেরকে খাবার সহ ঔষধ পত্র খেতে হচ্ছে টাকা দিয়ে বাহির থেকে পানির বোতল ক্রয় করে।
এমনকি দায়িত্ব প্রাপ্ত নার্সগন তারা ডেলিভারি,ব্যাক্তিগত কাজ ও আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
চিকিৎসকরাও তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন বলেও অভিযোগ করেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনগন।
তাছাড়া ওয়ার্ড গুলোতে দূর্গন্ধ সব সময় লেগেই থাকে।
এতে রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের প্রতি এমন উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে রেফার নিয়ে চলে যাচ্ছেন শহরে।
শহিদুল ইসলাম নামে ভুক্তভোগী বলেন,পেট ব্যাথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
সেখানে চিকিৎসার পরিবেশ দেখে তিনি তাড়াতাড়ি জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এবং বানিয়াচং হাসপাতালের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
যুবদল নেতা সুহেল বলেন,হাসপাতালের পুকুরসহ নিজস্ব কিছু আয়ের উৎস রয়েছে। তাছাড়া মেইন্টেন্যান্স বাবদ প্রতি বছরই সরকারি বরাদ্দ আসে।
অথচ হাসপাতালের দেয়ালে শ্যাওলা,আস্তরণে ফাটল,পানি-সংকট,
ওয়ার্ডগুলোতে দূর্গন্ধসহ নানাবিধ সমস্যা লেগেই আছে।
তাহলে পুকুর লীজ ও বরাদ্দের টাকা কোথায় উধাও হচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অপরদিকে এক অনুসন্ধানে জানা যায়,
বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হেডক্লার্ক গোবিন্দ লাল দাস অফিসিয়াল দিক পরিচালনা করে থাকেন।
উনার হাতের মাধ্যমেই মেইন্টেন্যান্স বাবদ বরাদ্দগুলো খরচ করা হয়।
এছাড়াও গোবিন্দ লাল দাসের জেলা শহরে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সেই সম্পদ বৈধ নাকি অবৈধ এনিয়েও তীব্র গুঞ্জণ ছড়াচ্ছে। সচেতন মহল ধারণা করছেন দীর্ঘদিন হাসপাতালে চাকুরি করে এখন মালে মালামাল হয়ে গেছেন হেডক্লার্ক গোবিন্দ লাল।
তার সম্পদ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের জন্য দুদকের দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হেডক্লার্ক গোবিন্দ লাল এর সাথে যোগাযোগ করতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন
(০১৭২৫-১১৩২৯৯)নাম্বারে ফোন করা হলে তার নাম্বারটি সুইচ অফ (বন্ধ)পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জানতে রাত ৯.২৬ মিনিটে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচও এন্ড এফপিও ডাঃ শামীমা আক্তারের সরকারি মুঠোফোন নাম্বারে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য,গত ১২ই জুন(শুক্রবার)এক প্রসূতি নারী বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন।
পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ওই নারী সংকটাপন্ন হয়ে এক আহত শিশু প্রসব করেন।
এই ঘটনায় জাতীয় দৈনিকে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলাবাসী সহ সচেতন মহলের টনক নড়ে।
এবং এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয়রা ফুঁসে উঠেছেন।
এবং অপচিকিৎসার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বাস্থ্যখাতে দ্রুত উন্নতি করণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বানিয়াচং উপজেলাবাসী।







