রেলমন্ত্রীর ঘোষণার পর লক্ষ্মীপুরবাসী রেলে চড়ার স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যেতে পারে।
বাংলাদেশের রেলওয়ে খাতের মেগা প্রকল্পগুলোর অতীত অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব অবকাঠামোগত প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা এই প্রাক্কলন করেছেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি নতুন রেললাইনের ঘোষণা থেকে শুরু করে তা চালু হওয়া পর্যন্ত চারটি বড় ধাপ পার হতে হয়, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।
বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়রেখা ও ধাপসমূহ:সমীক্ষা ও অনুমোদন (১-২ বছর): রুট চূড়ান্ত করা এবং ব্যয়ের খসড়া তৈরির জন্য প্রথমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) করতে হবে। এরপর প্রকল্পটি একনেক (ECNEC) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
অর্থসংস্থান নিশ্চিতকরণ (১-২ বছর): এত বড় মেগা প্রকল্পের জন্য এডিবি, জাইকা বা বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ পেতে দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা ও চুক্তি প্রক্রিয়া পার হতে হবে।ভূমি অধিগ্রহণ ও টেন্ডার (২-৩ বছর): প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে জটিল ধাপ হলো জমি অধিগ্রহণ।
শত শত একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ, জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ঠিকাদার নিয়োগের টেন্ডার শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
মূল নির্মাণ কাজ (৩-৪ বছর): জমি ঠিকাদারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পর মাটি ভরাট, রেলসেতু ও স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ এবং ট্র্যাক বসানোর মূল কাজ শুরু হবে, যা শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:রেলওয়ের সাম্প্রতিক মেগা প্রকল্পগুলোর (যেমন: দোহাজারী-কক্সবাজার বা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ) রিয়েল-টাইম ডাটা ও কাজের গতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকে ট্রেন চালু হতে এক দশকের কাছাকাছি সময় লাগে। সেই হিসেবে লক্ষ্মীপুর লাইনের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে বাস্তবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে ২০৩৩ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।







