হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মসজিদের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার পর কবরস্থানের ইট বালু রাখায় এক ব্যবসায়ীকে মারধোর করে দোকান ভাংচুর ও মালামাল লুট! থানায় অভিযোগ।।
স্টাফ রিপোর্টার:-
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মহল্লাবাসীর সাথে মসজিদের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষের পর এবার কবরস্থানের দেওয়াল নির্মানের ইট,বালু রাখায় এক ব্যবসায়ীকে মারধোর এবং দোকান ভাংচুর করে লুটের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় মূলহোতা হাফিজুর রহমান জিতুসহ ৭জনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত ব্যবসায়ী ইয়াজ উদ্দিন মিয়া।
১৯জুন(শক্রুবার)বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের হেঙ্গু মিয়া পাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,
এলাকাবাসীর কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের জন্য ইটবালু রাখাকে কেন্দ্র করে এবং মহল্লাবাসীর সাথে পূর্ব বিরোধের জের ধরে স্থানীয় জিতু গং ব্যবসায়ী ইয়াজ উদ্দিনের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ায়।
এসময় তাঁর নেতৃত্বে ইয়াজ উদ্দিনের টিনসেডের দোকানের আড়া কুপিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে তারা।
এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করা হয়। এতে ব্যাবসায়ী
ইয়াজ উদ্দিন বাধা দিলে তাকেও রক্তাক্ত করে জিতুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ লাঠিয়াল। বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে ব্যবসায়ী রাতেই থানায় এই ঘটনায় একই এলাকার
শফিক উল্লার পুত্র হাফিজুর রহমান জিতুকে প্রধান অভিযুক্ত আসামী করে একই এলাকার কবির মিয়া,আবু হাসেম মিয়া,রাইয়ান হাসান বাপ্পি,মুকিত মিয়া,এলাছ মিয়া ও ধন মিয়াসহ ৭জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে শনিবার(২০ জুন) ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক তদন্ত
করে পুলিশ।
আহত অভিযোগকারী ব্যবসায়ী ইয়াজ উদ্দিন মিয়া জানান,ইতিপূর্বেও মহল্লার মসজিদের জায়গা নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে এই জিতু গং এক ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিলো।
যাহা দেশবাসী তথা বিশ্ববাসী সংঘর্ষটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেউ কেউ নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে লাইভের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন।
পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রানপ্রণ চেষ্টা চালিয়ে সংঘর্ষটি নিয়ন্ত্রণ করেন।
পরে এই সংঘর্ষের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এর হাসান মঞ্জিলে তাহার সভাপতিত্বে দেশের গন্যমান্য পঞ্চায়েত প্রধানদের উপস্থিতির পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসাইন মারুফ,
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও বড় বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব লুৎফুর রহমানসহ বিভিন্ন দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যস্তায় শালিসের মাধ্যমে এই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিলো।
শালিসে মহল্লাবাসীর মসজিদে এই জায়গার ভূমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য জিতু গংদেরকে বলা হয়।
এবং মহল্লাবাসী এই জায়গা বাবত
২লক্ষ টাকা দেওয়ার রায় ঘোষণা করা হয়।
তাৎক্ষণিক বিচার রায় উভয়পক্ষ মেনে নেন।
এবং মহল্লাবাসীকে মসজিদের নামে ভূমিটি রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার পর উপস্থিত শালিসান আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান এর নিকট হতে ২লক্ষ টাকা জিতু মিয়া গং নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
মহল্লাবাসী রায় অনুযায়ী ২লক্ষ
টাকা জমা রাখার পরও জিতু গং পরবর্তীতে শালিসানদের রায় অমান্য করে সেই বিষয়টিও জটিল করে রাখে মহল্লাবাসীর সাথে।
বর্তমানেও মহল্লাবাসীর ২লক্ষ টাকা রক্ষিত রয়েছে।
মীমাংসাকৃত সেই বিষয়টি উপেক্ষা করে মহল্লাবাসীর উপরে আদালতে মামলা মোকদ্দমা করে জিতু গংরা।
এসব এর জের ধরে আমি সহ এলাকার অনেকের প্রতি দীর্ঘদিন যাবত আক্রোশ পোষণ করে আসছিল তারা।
এমনকি গতকাল রাতে এসব আক্রোশের কারনে মহল্লাবাসীর কবরস্থানে দেওয়াল নির্মানের জন্য ইট,বালু রাখার বিষয়টি কেন্দ্র করে তার উপর অমানবিক হামলা এবং দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান ওই ব্যবসায়ী।
এ ব্যাপারে পূর্বে শালিসানকারী আলহাজ্ব লুৎফর রহমান এর সাথে মহল্লাবাসীর ২লক্ষ জমা রাখা টাকার বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে,কোন সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে অভিযোগ এর তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই সুব্রত কুমার দাস এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আজ শনিবার এই অভিযোগ এর ভিত্তিতে সরেজমিন ঘটনাস্থল তদন্তকালে দোকান ভাংচুরের দৃশ্য দেখা গেছে। তবে কে এমনটি ঘটিয়েছে
তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষে এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।








