মোহাম্মদ সোহেল :: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে প্রায় চারশ’ মানুষের। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের পারাপারে নেই কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা। স্থায়ী ব্রিজ বা কালভার্ট না থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া মোড় থেকে যমুনা সেতু সড়কের ২০০ গজ দূরে রহুলী পশ্চিম পাড়া এলাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমে থলকাশী ব্রিজের পানির স্রোতে এলাকার বাড়িঘর ঝুঁকিতে পড়ছে। প্রতি বছর বাড়ি রক্ষায় জিও ব্যাগসহ নানা সরঞ্জাম কিনতে হাজার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে স্থানীয়দের। এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ এই বাঁশের সাঁকোটি প্রতি বছর এলাকাবাসীর অর্থায়নেই তৈরি করতে হয়। তবুও শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে পারাপারে পড়তে হয় প্রচণ্ড দুর্ভোগে। কয়েক বছর আগে এই বাঁশের সাঁকো থেকেই পড়ে আট বছর বয়সী আবির নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। রহুলী পশ্চিম পাড়ার মো. আজহারুল ইসলাম জানান, “প্রতিবছর বর্ষায় আমাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার করা প্রাণঘাতী। একটি স্থায়ী ব্রিজ হলে আমাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হতো।” স্থানীয় আরেক গৃহিণী জানান, “আমাদের বসতবাড়ির পাড় প্রতিবছর স্রোতে ভেঙে যায়। জিও ব্যাগ কিনতেও আমাদের প্রচুর টাকা খরচ হয়। প্রশাসন যদি একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের ব্যাবস্থা করে দেয়, তাহলে আমাদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।” ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানালেও তেমন কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দুর্ভোগপূর্ণ অবস্থার অবসানে এলাকাবাসী স্থায়ী ব্রিজের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান জানান, সরেজমিনে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







