মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। জননিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা এবং কোনো দর্শনার্থীকে ঝরনায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৭ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনের জন্য ঝরনাগুলোতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কে ১১টি ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯টিতে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উল্লেখযোগ্য ঝরনাগুলোর মধ্যে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, বাওয়াছড়া, সহস্রধারা ও সোনাইছড়া। বর্ষা মৌসুমে এসব ঝরনায় পর্যটকের ভিড় সবচেয়ে বেশি হলেও একই সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, পাথুরে ঝিরিপথ, খাড়া পাহাড়ি পথ, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল এবং ঝরনার প্রবল স্রোতের কারণে বর্ষাকালে এসব এলাকায় দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। মিরসরাই ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে উপজেলার বিভিন্ন ঝরনায় ৩৭টি ছোট-বড় দুর্ঘটনায় সাতজন পর্যটক নিহত এবং অন্তত ৫১ জন আহত হয়েছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে ঝরনাগুলো পর্যটকদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
ঝরনাগুলোর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স থ্রি বি এন্টারপ্রাইজের শেয়ারহোল্ডার গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত টিকিট বিক্রি ও প্রবেশ—দুটিই বন্ধ থাকবে।
বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, পাহাড়ি এলাকায় এখনো ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে আকস্মিক ঢল ও ঝরনায় পানির প্রবল স্রোতের পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকবে।







