ইরানের দিকে বি-২ বোম্বার আসছে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ ও ট্রাম্পের সহযোগী ড্যান স্ক্যাভিনো ১৭ সেকেন্ডের একটি B-2 স্টিলথ বোম্বারের ভিডিও কোনো ক্যাপশন ছাড়াই পোস্ট করেছে। যা ইরানের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর মানে হলো আমেরিকা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে এয়ারস্ট্রাইক করবে। কিন্তু এটা তো আগেও করেছে, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না, যত ভয়ংকর বোম্বিং-ই হোক না কেন। ইরান আগেও এমন বোম্বিং সহ্য করেছে, এখনও করতে পারবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা গত মাসে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (MOU)-এর প্রতিশ্রুতি স্থগিত করছে।
দুইপক্ষই চূড়ান্ত যুদ্ধের দিকে এগুচ্ছে। হয় আমেরিকাকে যুদ্ধে হেরে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যেতে হবে, নয়তো ইরানকে সম্পূর্ণ শেষ হতে হবে।
গতকাল বেশ জোরেসুরে একটি দাবি উঠেছিল যে, আমেরিকা ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকাকে আইসোলেট করার চেষ্টা করছে, ব্রিজগুলো ধ্বংস করে দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, যাতে ইরান বন্দর আব্বাস এলাকায় অবস্থিত তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোতে দ্রুত রসদ পাঠাতে না পারে। আমেরিকা সম্ভবত সেখানে গ্রাউন্ড ট্রুপ্স নামাতে যাচ্ছে। এছাড়াও আমেরিকা চাবাহার বন্দরে হামলা চালিয়েছে।
প্রথমত, ইরানি ইঞ্জিনিয়াররা খুব দ্রুতই অস্থায়ী ব্রিজ তৈরি করে বিকল্প পথ তৈরি করে ফেলেছে। কিছু ব্রিজ মেরামতও করে ফেলেছে। কাজ এখনো চলমান।
মার্কিনিদের জন্য এটি একটি আত্মঘাতী মিশন হবে। বন্দর আব্বাসে সৈন্য নামিয়ে খুব বেশি সময় ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব। কারণ এটি আগের যুগের যুদ্ধের মতো নয়, যেখানে ট্রেঞ্চ খুঁড়ে সৈন্যরা গর্তের মতো বসে থাকবে। ইরানি মিসাইল ড্রোন ও FPV ড্রোন লাগাতার এসে হিট করবে। এসব পৌঁছাতে ব্রিজের প্রয়োজন নেই।
ইরানে মার্কিনিরা মূলত দুটি পথে গ্রাউন্ড ট্রুপ্স পাঠাতে পারে: পাকিস্তান অথবা কুয়েত হয়ে ইরাক দিয়ে। ইরাক থেকে কুর্দিদের পাঠাতে চেয়েছিল, কিন্তু আইআরজিসি খবর পেয়ে মিসাইল দিয়ে হামলা করে, এমনকি গ্রাউন্ড স্পেশাল ফোর্সেস পাঠিয়েও মিশন চালায় বলে খবর আছে, যা আমেরিকান পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।
ইরান চাচ্ছে আশেপাশের যত দেশ আছে তারা যুদ্ধে জড়াক, তারা যেন ইরানের ওপর হামলা চালায়। পেছন থেকে নয়, তারা সরাসরি খোলাখুলি আসুক। এমনকি যদি তা পাকিস্তানও হয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ এত সমস্যা থাকার পরও তারা তাদের সীমান্ত দিয়ে মার্কিন সৈন্য পাঠিয়ে একটি অন্তহীন বড় যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না বলেই মনে হচ্ছে।
ইরান কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান কাতারি ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইসরায়েলি মিডিয়া নিশ্চিত করেছে।
মক্কা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি বিমান ঘাঁটি সৌদিরা মার্কিনিদের ব্যবহার করতে দিয়েছে, এই খবর আমি একদিন আগেও শুনেছি। কিন্তু বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল তাই লিখিনি। এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করব।
কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, ইরাক, সিরিয়া ও কুয়েতে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। জর্ডানে মার্কিন সৈন্যদের ব্যারাকে হামলা চালিয়েছে, অনেক মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার খবর ভেসে বেড়াচ্ছে।
ইরান কুয়েতকে বেশি প্যানিশমেন্ট দিচ্ছে, কারণ কুয়েত থেকে ইরাক হয়ে মার্কিন গ্রাউন্ড ট্রুপ্স ইরানে প্রবেশের সম্ভাবনা খুব বেশি। যদি মার্কিনিরা এই সাহস করে আরকি।
আমেরিকা ইরানের হরমুজগান প্রদেশের জাস্ক এলাকার বুনজি গ্রামে একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের ২০টি গ্রামে খাবার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ইরানে প্রায় ৫০ জন শহীদ হয়েছেন।
এসব হামলার প্রতিশোধে ইরান কুয়েতের ২টা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট, বিদ্যুৎকেন্দ্র, এমনকি পুলিশ একাডেমিতেও হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কুয়েত কিংবা ইরান কেউই অচল হয়ে যাবে না। নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ সাময়িক ভোগান্তিতে পড়বে। কিন্তু এগুলো ইরানের তরফ থেকে বাকি দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা। আমেরিকানদের তাড়াও, নয়তো প্যানিশমেন্টের জন্য প্রস্তুত থাকো।
আমেরিকা যদি বি-২ বোম্বার দিয়ে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও এনার্জি সেক্টরে হামলা করে, তাহলে ইরানও গাল্ফে প্রতিশোধ নেবে, যা কুয়েতের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এতে শুধু গাল্ফ নয়, সারা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং যুদ্ধ থেকে আর পিছানোর সুযোগ থাকবে না। ইরানি বাহিনী ও জনগণ বন্দুক হাতে মাঠে নামবে, বিভিন্ন দেশের সীমান্তে হামলা হবে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য চিরদিনের জন্য একটা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।
ইরান “ইরাকের” মত ছোট দেশ নয়, এবং এটা ২০০৩ সাল ও নয়, এটা মধ্যপ্রাচ্য আমেরিকার বোঝা উচিত। ইরানিরা এটাকে সাধারণ যুদ্ধ হিসেবে দেখছে না, তারা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখছে। এটি তারা কারবালার মতো দেখছে, যেখানে ইয়াজিদ বাহিনী বিধর্মীদের সাথে মিলে তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে শেষ করার জন্য। এটি ইরানি শিয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বললাম। এই বিষয়টি শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানে বেশ প্রচার করা হয়েছে।
আমেরিকা যদি পিছিয়ে যায়, তবে যুদ্ধ এখনো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইরানিরা যুদ্ধ চাইলে যুদ্ধ, সমঝোতা চাইলে সমঝোতা—এই অবস্থানে আছে। দেখা যাক কী হয়।
কম দেখুন
Post Views: 100
Related