একটি দেশের মেরুদণ্ড হলো তার শিক্ষা ব্যবস্থা। আর সেই শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। লাখো শিশুর চোখে আজ যে আগামীর স্বপ্ন, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নেপথ্যে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন—আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা। সেই দূরদর্শী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে ধারণ করে বর্তমান সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো নতুন বছরের শুরুতেই দেশের প্রতিটি শিশুর হাতে মানসম্মত নতুন বই পৌঁছে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর এই রূপকল্পকে বাস্তবে রূপদান করতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে। আর এই কর্মযজ্ঞের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এনসিটিবির একঝাঁক কলম সৈনিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী।
আধুনিক শিক্ষার আলোয় নতুন বাংলাদেশের রূপরেখাঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর দিতে হবে। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং তা হবে চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর হাতিয়ার।
প্রধানমন্ত্রীর এই কালজয়ী স্বপ্নকে মাঠপর্যায়ে সফল করতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ. ন. ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাঁদের গতিশীল নেতৃত্ব এবং কঠোর তদারকির ফলেই শিক্ষাঙ্গনে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বছরের প্রথম দিনেই কোটি শিক্ষার্থীর হাতে ‘বই উৎসব’-এর মাধ্যমে নতুন বই তুলে দেওয়ার যে মহান ব্রত, তা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় দ্ব্যর্থহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নেপথ্যের কারিগর: এনসিটিবির কর্মযজ্ঞ ও নেতৃত্বঃ
মন্ত্রণালয়ের এই যুগান্তকারী নির্দেশনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এনসিটিবির বিশাল টিম এখন এক ঐতিহাসিক দায়িত্বে নিয়োজিত। শিক্ষা গবেষক, একাডেমিক বিশেষজ্ঞ, লেখক, সম্পাদক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী—সবাই এখন এক সুতোয় গাঁথা। সবার লক্ষ্য একটাই, নির্ভুল ও মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে তৈরি করা।
এই বিশাল ও জটিল কর্মযজ্ঞের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনসিটিবির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তাঁর সুদক্ষ, দূরদর্শী এবং সময়োপযোগী নেতৃত্বের কারণে পুরো সংস্থায় এক নতুন কর্মসংস্কৃতির সূচনা হয়েছে। তিনি শুধু দাপ্তরিক নির্দেশনাই দিচ্ছেন না, বরং নিজে উপস্থিত থেকে কাজের গুণগত মান এবং গতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
চেয়ারম্যানের অনুপ্রেরণামূলক দিকনির্দেশনায় এনসিটিবির কার্যক্রম এখন আর কেবল গতানুগতিক রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনবোধে সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও এনসিটিবির দরজা খোলা থাকছে, সচল থাকছে মুদ্রণ ও সম্পাদনার চাকা। এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে, দেশের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা থেকে নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরেও দীর্ঘ সময় দপ্তরে কাটাচ্ছেন। ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আলো জ্বলছে এনসিটিবি ভবনে, যা আমাদের প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক: সময়ের দাবি ও প্রস্তুতিঃ
আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার অন্যতম শর্ত হলো সময়োপযোগী শিক্ষাক্রম। এনসিটিবির একাডেমিক বিশেষজ্ঞগণ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবারের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজ করছেন। বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের শিশুরা যাতে বৈশ্বিক মানদণ্ডে পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যে বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে নতুন বইগুলোতে।
আনন্দের বিষয় হলো, ইতোমধ্যে বই ছাপানোর প্রস্তুতি অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে এনসিটিবি। দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে মুদ্রণালয়গুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা, ছাপাখানার ভৌতকাঠামো সরেজমিন পরিদর্শন, কাগজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তকরণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এনসিটিবির এই কঠোর পরিশ্রম ও নিখুঁত পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
পরিশ্রমের সার্থকতা যেখানেঃএকটি শিশুর কাছে নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বইয়ের গন্ধের চেয়ে আনন্দদায়ক আর কিছুই হতে পারে না। সেই নতুন বইয়ের প্রতিটি পাতা উল্টানোর সাথে সাথে উন্মোচিত হয় এক নতুন পৃথিবীর, ডানা মেলে তাদের হাজারো স্বপ্ন। এনসিটিবির এই যে বিশাল টিম, এই যে শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীর চোখের ঘুম হারাম করে অক্লান্ত পরিশ্রম—তার আসল সার্থকতা লুকিয়ে আছে সেই শিশুদের নিষ্পাপ হাসির মাঝে।
নতুন বছরের প্রথম সকালে যখন দেশের প্রতিটি প্রান্তে—শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে, পাহাড় থেকে চরাঞ্চলেলাখো শিশু তাদের পরিমার্জিত, ঝকঝকে নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হবে, তখনই সার্থক হবে এনসিটিবির এই মহতী প্রচেষ্টা।
পরিশেষে বলা যায় যে, শিক্ষা ক্ষেত্রে এই নীরব বিপ্লব কেবল বই বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মূলত একটি মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের এই যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি যে অনন্য ভূমিকা পালন করছে, তা নিঃসন্দেহে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। মন্ত্রী আ. ন. ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এনসিটিবি সফলতার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এনসিটিবির এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আগামী ১লা জানুয়ারি দেশের প্রতিটি শিশুর হাত রঙিন হয়ে উঠবে নতুন বইয়ের আলোয়, আর সেই আলোর পথ ধরেই এগিয়ে যাবে আমাদের নতুন প্রজন্ম।
মোঃ মহিউদ্দিন,
বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তা,
গবেষণা কর্মকর্তা, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি),
শিক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কলাম লেখক।









